এইদিন ওয়েবডেস্ক,নয়াদিল্লি,১২ জুলাই : পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক ক্রমাগত অবনতির মাঝে আফগানিস্তান ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করার স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছে। সফররত আফগানিস্তানের কৃষি, সেচ ও পশুপালন মন্ত্রী মৌলবী আতাউল্লাহ ওমারি ভারতের আতিথেয়তার প্রকাশ্যে প্রশংসা করেছেন এবং দুই দেশের ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সম্পর্ককে অত্যন্ত শক্তিশালী বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, ভারত ও আফগানিস্তানের জনগণের মধ্যে এমন একটি বন্ধন রয়েছে যা রাজনৈতিক পরিস্থিতিও দুর্বল করতে পারে না।
সফরকালে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ওমারি বলেন, “ভারত ও আফগানিস্তানের ডিএনএ একই।” তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, উভয় দেশের জনগণের মধ্যে শত শত বছরের সাংস্কৃতিক, ঐতিহাসিক ও পারিবারিক বন্ধন রয়েছে, যা তাদেরকে স্বাভাবিক অংশীদার করে তুলেছে। তার এই বিবৃতি এমন এক সময়ে এসেছে যখন পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে সম্পর্ক ক্রমশই উত্তপ্ত হচ্ছে এবং কাবুল নতুন আঞ্চলিক অংশীদারিত্ব জোরদার করার দিকে এগোচ্ছে।
ভারতে প্রাপ্ত অভ্যর্থনা প্রসঙ্গে আফগান মন্ত্রী বলেন, “আমরা যে উষ্ণ অভ্যর্থনা পেয়েছি তা আফগানিস্তানের জনগণ ও তাদের কল্যাণের জন্য একটি আশার আলো… আমাদের জনসংখ্যার ৮০ শতাংশ পশুপালন, কৃষি এবং সেচ ব্যবস্থার সাথে জড়িত। নতুন প্রযুক্তির মাধ্যমে তাদের আধুনিকীকরণের এটাই উপযুক্ত সময়।” তিনি আরও বলেন যে, ভারতীয় কর্মকর্তাদের সাথে তার সমস্ত বৈঠক ইতিবাচক ছিল এবং দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে।
ওমারি বলেন, তার এই সফর কেবল আনুষ্ঠানিক নয়, বরং কৃষি, সেচ এবং বিনিয়োগের মতো ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদী সহযোগিতা এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই এর লক্ষ্য। তিনি বলেন যে, ভারতের কাছে কৃষি খাতে আধুনিক প্রযুক্তি এবং ব্যাপক অভিজ্ঞতা রয়েছে, যা থেকে আফগানিস্তান অনেক কিছু শিখতে পারে। তিনি দ্ব্যর্থহীনভাবে বলেন, “আফগানিস্তানের কৃষি ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ প্রয়োজন এবং এ ক্ষেত্রে আমাদের ভারতের সাহায্য দরকার।” তিনি ব্যাখ্যা করেন যে, বিশেষ করে উন্নত বীজ, আধুনিক চাষাবাদ, সেচ কৌশল, গবেষণা এবং কৃষক প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে ভারতের অভিজ্ঞতা আফগানিস্তানের জন্য অত্যন্ত উপকারী প্রমাণিত হবে।।
