এইদিন বিনোদন ডেস্ক,১০ জুলাই : কুম্ভ মেলায় ভাইরাল হওয়া মোনালিসাকে দেওয়া সুরক্ষা প্রত্যাহার করে নিল কেরালা হাইকোর্ট। মুসলিম পুরুষ ফারমানের সঙ্গে বিয়ের পর মূলধারার গণমাধ্যম ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে তার বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক প্রচারণা চালানো হয়েছে বলে মোনালিসার করা একটি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কেরালা হাইকোর্ট তাকে সুরক্ষার নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু আজ শুক্রবার (১০ জুলাই) কেরালা হাইকোর্ট ভাইরাল মোনালিসা ভোসলেকে দেওয়া পুলিশি সুরক্ষার অন্তর্বর্তীকালীন আদেশটি বাতিল করেছে। সরকারি আইনজীবী জানান যে, প্রদত্ত ফোন নম্বর বা ঠিকানার ভিত্তিতে পুলিশ আবেদনকারীকে খুঁজে বের করতে পারেনি। এরপর বিচারপতি বেচু কুরিয়ান থমাস এই আদেশটি বাতিল করেন।
সরকারি আইনজীবী বলেন, “সমস্যাটি হলো, আদেশ পাওয়ার পর… পুলিশ ওই ব্যক্তিকে খুঁজে বের করতে পারছে না। তারা সুরক্ষা দিতে চেয়েছিল, কিন্তু ওই ব্যক্তিকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। এখন, এটি আবেদনকারীর একটি নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিবারই তিনি পুলিশি সুরক্ষার জন্য আসেন, কিন্তু পুলিশ তার সাথে যোগাযোগ করতে পারে না। এর সম্পূর্ণ দায় পুলিশের।”মোনালিসার পক্ষে উপস্থিত আইনজীবী জানান যে, এই বিষয়ে তাঁর কাছে কোনো নির্দেশনা নেই। অতঃপর তার অন্তর্বর্তীকালীন আদেশটি বাতিল করে আদালত আদেশ দেয়,”উপরোক্ত বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে, ১৯শে জুন তারিখের অন্তর্বর্তীকালীন আদেশটি বাতিল করা হলো। যদি আবেদনকারী পুলিশের কাছে লিখিতভাবে পুলিশি সুরক্ষার জন্য অনুরোধ করেন, তবে দ্বিতীয় প্রতিপক্ষ আবেদনকারীকে প্রয়োজনীয় সুরক্ষা প্রদান করবে ।” বিষয়টি পরবর্তী বিবেচনার জন্য ২১শে জুলাই ধার্য করা হয়েছে।
গত বছর মহা কুম্ভ উদযাপনের সময় মোনালিসার রুদ্রাক্ষের মালা বিক্রির ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।গত মার্চ মাসে, সিনেমার শুটিংয়ের জন্য কেরালায় থাকাকালীন মন্দিরে গিয়ে ফেসবুক প্রেমিক ফরমান খানকে বিয়ে করে মোনালিসা । তাদের উৎসাহ দেওয়ার জন্য মন্দিরে উপস্থিত ছিল তৎকালীন শাসকদল সিপিএমের অনেক নেতানেত্রী ও ক্যাডাররা ।
এদিকে মোনালিসা ভোঁসলের বাবা-মা অভিনেতা ফরমান খানের সঙ্গে তার মেয়ের বিয়েতে ‘লাভ জিহাদ’-এর অভিযোগ তুলে মামলা করে মধ্যপ্রদেশের থানায় । তার বাবা, জয় সিং ভোঁসলে, ফরমানের বিরুদ্ধে প্রতারণামূলকভাবে তার মেয়েকে এই আন্তঃধর্মীয় বিয়েতে প্রলুব্ধ করার অভিযোগ করেন। তিনি দাবি করেন যে, ফরমানের কেরালার সহযোগীদের একটি মিলিত ষড়যন্ত্রে মোনালিসাকে পুরোপুরি জড়িয়ে ফেলা হয়েছে । তিনি ফরমান খানের বিরুদ্ধে অপহরণের অভিযোগও আনেন । এরপর এই দম্পতি অন্তর্বর্তীকালীন জামিনের জন্য কেরালা হাইকোর্টে আবেদন করেন এবং আদালত ফারমানকে মধ্যপ্রদেশের আদালতে জামিনের জন্য আবেদন করার সুযোগ দেওয়ার জন্য ১ মাসের ট্রানজিট জামিন মঞ্জুর করে।
বিতর্কটি শুরু হয় যখন মধ্যপ্রদেশ পুলিশ মোনালিসার ১৮ বছর বয়স হওয়ার আগেই বিয়ে হয়ে যাওয়ার অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করে। জাতীয় তফসিলি উপজাতি কমিশন জানায় যে, মেয়েটির বয়স মাত্র ১৬ বছর এবং গত মাসে বিয়ের জন্য যে জন্ম সনদটি দেখানো হয়েছিল, সেটি জাল। এর পাশাপাশি, মধ্যপ্রদেশ পুলিশকে তার স্বামী ফরমান খানের বিরুদ্ধে পকসো আইনে মামলা দায়ের করারও নির্দেশ দেওয়া হয়।
মধ্যপ্রদেশের বাসিন্দা মেয়েটি কেরালায় আশ্রয় চেয়েছিল। সে জানায়, মহারাষ্ট্রের অধিবাসী ফরমানের সঙ্গে তার প্রেম করে বিয়েতে পরিবার আপত্তি জানিয়েছে। বিয়েটি কেরালাতেই সম্পন্ন হয়। কেরালার সিপিএম সরকার পূর্ণ সমর্থন জানায় । কেরালা পুলিশও দাবি করেছিল যে মেয়েটি প্রাপ্তবয়স্ক এবং বিয়েটিও আইনসম্মত। তবে, তফসিলি উপজাতি কমিশন বলছে যে মেয়েটির জন্ম ২০০৯ সালের ৩০শে ডিসেম্বর।এখন কেরালা পুলিশ বলছে,মেয়েটিকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। ঠিকানা বা ফোনে তার সাথে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। এটি মেয়েটির অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।।
