এইদিন আন্তর্জাতিক ডেস্ক,০৮ জুলাই : প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ইন্দোনেশীয় সংসদে ভাষণ দেন এবং এই সর্বোচ্চ সম্মানের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি পরোক্ষভাবে চীনের সম্প্রসারণবাদী নীতির সমালোচনা করে বলেন যে, ভারত উন্নয়নের পথে চলে, সম্প্রসারণবাদের পথে নয়।
ইন্দোনেশিয়ার সংসদে ভাষণ দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন, “আজ বিশ্বব্যবস্থা দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। সেই প্রেক্ষাপটে, আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলো সমান অংশগ্রহণ এবং বৃহত্তর ভূমিকার দাবি জানাচ্ছে। এই বৈশ্বিক আবহে ভারত স্পষ্টভাবে বিশ্বাস করে যে, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কার আর বিলম্বিত করা যায় না। ২০২২ সালে ইন্দোনেশিয়ার এবং ২০২৩ সালে ভারতের জি-২০ সভাপতিত্ব—উভয়ই উন্নয়নশীল দেশগুলোর অগ্রাধিকারগুলোকে বৈশ্বিক আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে আসার চেষ্টা করেছে।”
পালেলগাম হামলার প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন যে, সন্ত্রাসবাদের মতো বিষয়ে ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার দৃষ্টিভঙ্গি একই। গত বছর পাহালগামে যখন সেই জঘন্য সন্ত্রাসী হামলা হয়েছিল, তখন ইন্দোনেশিয়া দৃঢ়ভাবে ভারতের পাশে দাঁড়িয়েছিল। এজন্য তিনি ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রপতি প্রাবোবো এবং সেখানকার জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, “আমাদের দুই দেশ সন্ত্রাসবাদ-বিরোধী যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের মাধ্যমে একসঙ্গে কাজ করছে। গোয়েন্দা তথ্য, সাইবার হুমকি এবং উগ্রবাদ নিরসনের মতো ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর মাধ্যমে আমরা বিশ্বজুড়ে শান্তিকামী শক্তিকে শক্তিশালী করতে পারি।”
ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে অবাধ নৌচলাচলের পক্ষে কথা বলে প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেছেন যে, ভারত একটি মুক্ত, উন্মুক্ত এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক ইন্দো- প্যাসিফিক অঞ্চলকে সমর্থন করে। তিনি ইন্দো -প্যাসিফিক অঞ্চলে নৌচলাচলের স্বাধীনতার পক্ষে কথা বলেন। তিনি বলেন, “আমরা এই নীতির কেন্দ্রে আসিয়ানকে রেখেছি; আমাদের ‘অ্যাক্ট ইস্ট পলিসি’ও আসিয়ান-কেন্দ্রিক। ভারত ও আসিয়ানের মধ্যে প্রধান কৌশলগত অংশীদারিত্ব ক্রমাগত এগিয়ে চলেছে। তাই, ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার এই পথে একসঙ্গে কাজ করে যাওয়া উচিত।”
