এইদিন ওয়েবডেস্ক,কলকাতা,০৬ জুলাই : দক্ষিণ ২৪ পরগণা জেলার বারুইপুরের সূর্যপুর হাট এলাকায় ১২ বছরের নাবালিকাকে ধর্ষণ করে খুনের ঘটনায় সন্দেহের বশে এক যুবককে নির্মমভাবে পিটিয়ে মারে একদল জনতা । পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপর হামলা হয়েছে । পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে পুলিশের গাড়ি । উপড়ে ফেলা হয়েছে রেললাইন । সেই সমস্ত দাঙ্গাবাজদের উদ্দেশ্যে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, “যারা এই কাজ করেছে তাদের এমন ভোগাবো, বুঝতে পারবে৷”
আজ কলকাতার ভবানীপুরে মিত্র ইনস্টিটিউশনে ভারত কেশরী ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির ১২৫তম জন্মজয়ন্তী উদযাপন অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন,”মৃতার বাবার সাথে কথা বলেছি । উনি বিচার চেয়েছেন । জঘন্যতম ঘটনা । এসআইটি গঠন হয়েছে । পরিবারের তরফে ৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দেওয়া হয়েছিল তার মধ্যে ২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে । তিনজনকে আটক করা হয়েছে, যাদের সঙ্গে পলাতক ২ আসামির সঙ্গে ফোনে কথোপকথন পেয়েছে পুলিশ৷ আইজির নেতৃত্বে পুলিশ, এসটিএফ মিলে কাজ করছে । মৃতার পরিবার যা যা চেয়েছে সরকার করছে । তবে তদন্তের মাঝ পথে আমার না বলাই ভালো । তবে এটুকু বলে দিচ্ছি যে, পরিবার ন্যায়বিচার চেয়েছে তা তারা পাবেন ।’
মুখ্যমন্ত্রী বলেন,’মোট ৪ টি মামলা হয়েছে । একটি এই জঘন্যতম অপরাধের মামলা ছাড়া আরও ৩ টি মামলা হয়েছে৷ মব নিঞ্চিং হয়েছে এবং এর পিছনে একটা কমিউন্যাল এঙ্গেল ছিল । রেললাইনে যেভাবে রেলপথ ওড়ানো হয়েছে আমাদের অতীত ইতিহাস আজ মনে পড়ছে । ২০১৯ সিএএ-এর বিরুদ্ধে আন্দোলন বা কিছুদিন আগে ওয়াকফ সংশোধিত বিল বিরোধী আন্দোলন । তৃতীয় হচ্ছে সি আর পি এফের ২ জন জওয়ান আহত হয়েছেন। একটা পুলিশের গাড়িকে জ্বালানো হয়েছে । আপনারা আশ্বস্ত থাকুন প্রথমটার তো বিচার দেবো । সর্বোচ্চ সাজা হবে । মৃতার বাবা যা যা চেয়েছে সেসব করবে মুখ্যমন্ত্রী । আমি খুশি যে ওনারা আমার উপর আস্থা রেখেছেন । বাকি তিনটে বিষয়ে যারা যুক্ত, যারা অতিরিক্ত আত্মা, ভোটে হেরে ঘরে ঢুকে গিয়েছিল, তারা এই যে কান্ডটা করেছে না তাদেরকেও ভুগতে হবে । এমন ভোগাবো বুঝতে পারবে ।”
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী কি বললেন শুনুন 👇
প্রসঙ্গত,বারুইপুরের সূর্যপুর হাট এলাকায় ১২ বছরের মুসলিম কিশোরীর ধর্ষণ-খুনের ঘটনাকে সাম্প্রদায়িক আকার দেওয়ার অভিযোগ উঠছে সিপিএমের বিরুদ্ধে । আর সিপিএমের এই বিষয়ে অভিযোগ করছেন কলকাতা হাইকোর্টের আইনজীবী গোপাল চন্দ্র মন্ডল । এই বিষয়ে তিনি আজ ফেসবুকে লিখেছেন,”বারুইপুরে এক হতভাগ্য স্কুল ছাত্রী নাবালিকাকে খুন-ধর্ষন কান্ডের সাথে জড়িতদের সাথে সামান্যতম সম্পর্ক না আছে RSS এর ,না আছে BJP এর। আমি বারুইপুরে হিন্দুত্ববাদী বহু বন্ধুদের সাথে টেলিফোনে বহুবার ফোনে কথা বলে এটা নিশ্চিত হয়েছি। একটা ভিডিওতে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে BJP এর সক্রীয় কার্যকর্তা সান্ত্বনু নিজে একজন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করতে পুলিসকে সাহায্য করছে।” তার প্রশ্ন হল, “এই মিথ্যা কুৎসা কারা রটাচ্ছে? কেন রটাচ্ছে? এই কুৎসা রটনার পিছনে কোন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীরা জড়িত? এই প্রশ্নগুলো উঠছে স্বাভাবিক কারনেই। একটা বিরাট রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র ছিল এটি ,মুল উদ্দেশ্য ছিল রাজ্যজুড়ে হিন্দু-মুসলিমের মধ্যে দাংগা বাধিয়ে রাজ্য সরকারকে বিপাকে ফেলা ,BJP ,RSS এর ভাবমুর্তি বিনষ্ট করা। অভিযোগ এই নারকীয় ঘটনায় মুল অভিযুক্ত পরেশ,তার সংগীরা হল আনন্দ,দিবাকর,রাজু,ছোট্টু।”
তিনি লিখেছেন,”হতভাগ্য নাবালিকার দেহ বস্তাবন্দি অবস্থায় পুকুর থেকে উদ্ধার হওয়ার পরে রাস্তায় রেখে শুরু হয় বিক্ষোভ। কাঠের গুড়ি ফেলে বন্ধ করে দেওয়া হয় রাস্তা।জ্বালানো হয় টায়ার। এলাকা থেকে আরেক অভিযুক্তকে ধরে ফেলেন স্থানীয়রা। শুরু হয় গণপিটুনি। পরে ওই ব্যক্তি মারাও গেছে।ক্ষোভ এমন পর্যায় পৌঁছয় যে, ঘটনাস্থলে পুলিশ এলে তাদের ঘিরেও বিক্ষোভ শুরু হয়। পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট, কাচের বোতল ছোড়া হয়। আহত হন একাধিক পুলিশকর্মী। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় বিশাল পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। পৌঁছন প্রেসিডেন্সি রেঞ্জের আইজি কঙ্করপ্রসাদ বাড়ুইও। ফোনে তাঁর সঙ্গে কথা বলে দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রী স্বয়ং ফোনে দীর্ঘ সময় ধরে কথাও বলেন ভিক্টিমের পরিবারের সাথে এবং দ্রুত তদন্ত ,ন্যয় বিচারের প্রতিশ্রুতি দেন। ইতিমধ্যে মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে অ্যাডিশনাল SP-র নেতৃত্বে ৬ সদস্যের SIT গঠন করেছে বারুইপুর জেলা পুলিশ। ভিক্টিমের পরিবার মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীর প্রতি আস্থা প্রকাশ করেছেন। এসবের মধ্যে কেন এই রাজনৈতিক গভীর ষড়যন্ত্র??”
আইনজীবী গোপাল চন্দ্র মন্ডল বলেছেন,” সিপিআইএমের নেতা লায়েক আলি বারুইপুরের ঘটনায় বিজেপিকে কাঠগড়ায় দাড় করিয়েছে। কারণ অভিযুক্তরা ধর্ম পরিচয়ে হিন্দু এবং ভিক্টিমের পরিবার মুসলমান এবং এই নিয়ে রাজ্য জুড়ে অশান্তি বাধানোটা সহজ। এখবর ছড়ালো দু’টো ফেসবুক পেজ – The Awaz আর HOW এবং সিপিএমের নেতারা একটানা এনিয়ে কোন প্রমাণ ছাড়া প্রচার করে দিল পুলিশ কিচ্ছু করে নি, ঘটনায় জড়িত বিজেপি, আর.এস.এস! ব্যাস্! এদিকে ভিক্টিমের বাবা, যিনি নিজের মেয়ে হারিয়েছেন, তিনি বলছেন পুলিশ পুর্ন সহযোগিতা করেছেন, মুখ্যমন্ত্রী সহযোগিতা করেছেন, মুখ্যমন্ত্রীর কথায় ভরসা পাচ্ছি। তিনি একবারও কিন্তু অভিযোগ করছেন না এই ঘটনায় বিজেপি, আরএসএস জড়িত।”
তিনি লিখেছেন,”বিজেপির এই জেলার সভাপতি পেশায় অধ্যাপক এবং RSS এর দীর্ঘ দিনের সক্রীয় সদস্য। কেন উনি পুলিসের কাছে অভিযোগ দায়ের করছেন না যারা এই ধরনের অপপ্রচার করে ধর্মীয় দাংগা বাধানোর অপচেষ্টা করেছে , RSS ,BJP এবং রাজ্য সরকারের ভাবমুর্তিকে কালিমালিপ্ত করার অপচেষ্টা করেছে??? জেনে রাখবেন জেলা নেতৃত্বের নিষ্ক্রিয়তা এই সব বামপন্থী কুৎসাকারীদের পরোক্ষভাবে উৎসাহিত করবে যা ভবিষ্যতে সংকটের কারন হবে। পরিশেষে BJP এবং RSS এর জেলা নেতৃত্বকে অনুরোধ করব যারাই মিথ্যা বিবৃতি দিয়েছেন যে নাবালিকা খুন-ধর্ষনের সাথে RSS ,BJP জড়িত তাদের বিরুদ্ধে FIR করুন BJP , RSS এর পক্ষ থেকে নেতৃস্থানীয়রা। তবে ১/২ দিনের মধ্যে কেউ না করলে BJP এর একজন সাধারন কার্যকর্তা হিসাবে আমি নিজে করব সেটাও জানিয়ে রাখছি। লিখিত অভিযোগ ইতিমধ্যে রেড়ি করেই রেখেছি।”
