প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়,বর্ধমান,০১ জুলাই : কালনার পর এবারে বিজেপির গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে উত্তপ্ত হয়ে উঠল পূর্ব বর্ধমান জেলার মেমারি । মেমারির শহরের ডিভিসি পাড়ায় থাকা বিজেপি বিধায়ক মানব গুহর সহায়তা কেন্দ্রে ভাঙচুরের অভিযোগ উঠল দলের অন্য গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে । মঙ্গলবার রাতে এই ঘটনায় ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি হয় । ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি সামাল দেয় মেমারি থানার পুলিশ । গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের কারণেই যে সহায়তা কেন্দ্রে হামলা ও ভাঙচুর চলেছে তা স্বীকার করে নিয়েছেন বিধায়ক মানব গুহ। তিনি শুধু বলেন,’দলের উচ্চ নেতৃত্ব সব নজর রাখছে। দলীয় নেতৃত্ব এদিনের ঘটনা নিয়ে ব্যবস্থা যা নেওয়ার নেবেন ।’
এদিকে বিধায়ক সহায়তা কেন্দ্রে হামলা,ভাঙচুর ও লুটপাট চালানোর অভিযোগ তুলে বিধায়ক গোষ্ঠীর তরফে রাতেই ১২ জনের নামে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয় মেমারি থানার। দায়ের হওয়া সেই অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করে পুলিশ তিন জনকে গ্রেপ্তার করেছে। ধৃতদের মধ্যে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর স্নেহভাজন বিজেপি নেতা সুজন সর্দার ছাড়াও গোবিন্দ ঘোষ এবং অসীম কোলে নামে আরো দু’জন বিজেপি কর্মী রয়েছেন । বুধবার তিন ধৃতকে বর্ধমান আদালতে পেশ করা হয় ।প্রিজন ভ্যানে চেপে মেমারি থানা থেকে বর্ধমান আদালত যাওয়ার সময় সুজন সর্দার সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়ে যান,’মেমারিতে বিধায়ক তোলাবাজি করছে। ফিরে এসে আমি প্রতিটা হিসাব নেব । কাউকে ছেড়ে কথা বলবো না ।’ সুজন সর্দারের আনা এই অভিযোগ মেমারির রাজনৈতিক মহলে জোর শোরগোল ফেলে দিয়েছে।
বিধায়ক ঘনিষ্ঠ বিজেপি কর্মী সুনীল মণ্ডলের অভিযোগ,’মঙ্গলবার রাতে বিধায়ক মানব গুহর সহায়তা কেন্দ্রে হামলা ভাঙচুর চালিযেছে ভীষ্মদেব ভট্টাচার্যের অনুগামীরা । এই সেই ভীষ্মদেব ভট্টাচার্য, যিনি ২০২১ বিধানসভা নির্বাচনে মেমারি বিধানসভা আসনে ভোটে লড়ে হেরে যান ।’ হামলায় অফিসের একাধিক আসবাবপত্র নষ্ট করে দিয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ একটি ফাইল গায়েব করে দেওয়া হয়েছে বলে তার ।
যদিও ভীষ্মদেব ভট্টাচার্যের অনুগামী বিজেপি কর্মী কালি দাসের দাবি,’মঙ্গলবার রাতে আমরা কয়েকজন বিধায়ক মানব গুহর সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলাম। ওনার কাছে জানতে চেয়েছিলাম, কেন তৃণমূলের লোকজনকে দিয়ে দল পরিচালনা করা হচ্ছে? কিন্তু আমরা সেখানে যেতেই বিধায়ক মানব গুহর অনুগামীরা আমাদের উপর চড়াও হয়। আমার জামা ছিঁড়ে দেয়। অথচ আমি একজন দীর্ঘদিনের বিজেপি কর্মী। দলের জন্য জেল খেটেছি এমনকি একাধিক মামলারও মুখোমুখি হয়েছি ।’ আজ আদালত যাওয়ার সময় ধৃত সুজন সর্দার সংবাদ মাধ্যমকে বলেন,’মেমারিতে বিধায়ক তোলাবাজি করছে। ফিরে এসে আমি প্রতিটা হিসাব নেব । কাউকে ছেড়ে কথা বলবো না ।’
তবে ভীষ্মদেব ভট্টাচার্য বলেছেন,’বিষয়টি সম্পর্কে আমার জানা নেই । তবে কেউ যদি বিজেপির কোন কার্যালয়ে হামলা করে থাকে তাবে সেটা ঠিক কাজ হয়নি। যারা হামলা চালিয়েছে তাঁরা কখনোই বিজেপির লোক হতে পারে না। দলের মধ্যে কোনও সমস্যা থাকলে তা আলোচনার মাধ্যমেই মিটিয়ে নেওয়া উচিত ।’।
