পাকিস্তানের মদতপুষ্ঠ ইসলামি সন্ত্রাসবাদ এখন গোটা বিশ্বের কাছে আতঙ্কের কারন হয়েছে । শরণার্থী সেজে পাকিস্তানি মুসলিমরা ইউরোপীয় দেশে গিয়ে শুধু সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডই নয়, বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক কাজকর্ম শুরু করেছে । ব্রিটেনে সাম্প্রতিক সময়ে মুসলিম অভিবাসীদের বিরুদ্ধে সংগঠিত গন আন্দোলনের প্রধান কারন হল মূলত পাকিস্তানি মুসলিম শরণার্থীরা । দেশ জুড়ে হাজার হাজার ব্রিটিশ মেয়ে ধর্ষণ বা গনধর্ষণের শিকার হওয়ায় মুসলিম শরণার্থীদের দেশ থেকে বের করে দেওয়ার দাবি উঠছে । আর অপরাধীদের ৯০ শতাংশ হল পাকিস্তানি মুসলিম । যেকারণে গোটা বিশ্ব জুড়ে ব্যাপক সমালোচিত হচ্ছে পাকিস্তান । সেই কারনে নিজেদের ভাবমূর্তিকে বিশ্বের নজরে উন্নত করতে হিন্দু ধর্ম ও সংস্কৃত ভাষার আশ্রয় নিচ্ছে পাকিস্তানি সন্ত্রাসীরা৷ তারা চাণক্য ও পাণিনিকে নিজেদের বলে দাবি করছে ৷ বিতর্কিত ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি-কে দিয়ে শুরু করেছে ভারত ও হিন্দুদের বিরুদ্ধে নতুন ষড়যন্ত্র ।
এখন পাকিস্তানিরা দাবি করছে যে সংস্কৃত ভাষার আদপে পাকিস্তানে উদ্ধব হয়েছিল । নর্থ আমেরিকার ঠিকানা দেওয়া Indus(@Indus) নামে একটি এক্স হ্যান্ডেলে গত ২৬ জুন ভারতীয় হিন্দুদের বিরুদ্ধে বিষোদগার করে লেখা হয়েছে : “সংস্কৃত ভারতীয়দের—ভুয়া ভারতের—আদি ভাষা নয়। পাকিস্তানের গান্ধারে পাণিনি এটিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছিলেন। এ কারণেই ভারতীয়রা যখন সংস্কৃত বলে, তখন তারা তাদের কদর্য উচ্চারণ দিয়ে এর বারোটা বাজায়—ঠিক যেমন তারা ইংরেজি উচ্চারণের বারোটা বাজায়।” এমনকি দাবি করা হয়েছে যে ঋগ্বেদ গান্ধারে সংকলিত এবং এটি ১,০০০ বছর পরে আসা সমস্ত সনাতন ধর্মের জননী) মহাযান ( বৌদ্ধধর্ম) গান্ধারে এর উদ্ভব হয়েছে যা লোকক্ষেমের মতো গান্ধার ও স্বাতী ভিক্ষুদের দ্বারা চীন, তিব্বত, জাপান ও কোরিয়ায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল । শিখধর্ম পাকিস্তানের মাটিতে প্রতিষ্ঠিত ও বিকশিত । সিন্ধু-সুফি ঐতিহ্য ধ্যান, যোগী ও ইসলামী ঐতিহ্যের এক অনন্য মিশ্রণ। সেই সময়ে বিশ্বে কেবল একটিই স্থান ছিল যেখানে:
– সিন্ধু উপত্যকার ধর্ম ও কথিত সংস্কৃত, স্তেপ আর্য ধর্ম এবং জরথুস্ত্রীয় আবেস্তান ভাষা ইতিহাসের একই মুহূর্তে প্রচলিত ও মিশ্রিত হচ্ছিল – সেটি ছিল গান্ধার । আরও লেখা হয়েছে, এই “অনন্য” বহু-জাতিগত, বহু-বর্ণের ঋষিরা ঋগ্বেদ রচনা করেছিলেন । অন্যান্য সমস্ত রূপান্তর ১,০০০ বছর পরে এসেছিল ।’
ওই এক্স পোস্টের স্ক্রীন শর্ট শেয়ার করে জিতেন্দ্র প্রতাপ সিং লিখেছেন,আমরা হিন্দুদের সাথে থাকতে পারি না, আমাদের রক্তে তুর্কি রক্ত, আর পাকিস্তান, যে দেশটি সিন্ধু উপত্যকা সভ্যতা নিয়ে গলা ফাটাচ্ছে, তারাই এখন চাণক্য ও পাণিনিকে নিজেদের বলে দাবি করছে। আপনারা হয়তো ভাবছেন এটা একটা ভালো ব্যাপার, কিন্তু না, এটা উদ্বেগের বিষয়। এটা ভারতের মহান সভ্যতার ভিত্তি ধ্বংস করার একটি প্রচেষ্টা।
শুধু সোশ্যাল মিডিয়ার দিকে তাকালেই একটি নতুন বিতর্ক শুরু হচ্ছে। বলা হচ্ছে যে পাণিনি গান্ধারে সংস্কৃত রচনা করেছিলেন, এবং তাই এটি পাকিস্তানের উত্তরাধিকার। এটা মিথ্যা হলেও বা কী আসে যায়? যারা গায়ত্রী মন্ত্র পর্যন্ত বলতে পারে না, যাদের অনুসারীরা এখনও বন্দে মাতরম মেনে নিতে পারেনি, তারাই এখন হরপ্পা এবং মহেঞ্জোদারো সভ্যতাকে নিজেদের বলে দাবি করতে শুরু করেছে।
অনেক আন্তর্জাতিক সংস্থা সিন্ধু উপত্যকা সভ্যতাকে পাকিস্তানের উত্তরাধিকার হিসেবে ঘোষণা করতে ব্যস্ত। বস্তুত, অষ্টাধ্যায়ীতেই ‘ভারত’ শব্দটির উল্লেখ আছে।
হ্যাঁ, তাদের একটি শক্তিশালী ভিত্তি আছে, আর তা হলো সিন্ধু, যা তাদেরই। ভারতের কখনোই এর অংশ হওয়া উচিত ছিল না, কিন্তু তারা আরব ও তুর্কিদের থালা চাটতে, ভারত ও হিন্দুদের বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়াতে ব্যস্ত ছিল। তবুও, ভারত তার পরিচয়কে বিশ্বায়নের চেষ্টা কখনো করেনি, তার মুঘল ইতিহাস থেকে কখনো পুরোপুরি মুক্তও হয়নি।
আমাদের ঐতিহাসিকরা মুঘলদের তৈরি আইসক্রিম আর বিরিয়ানি খুঁজে চলেছেন, আর এখন কেউ আমাদের পরিচয় এবং আমাদের মূল ভিত্তিকেই কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে।
তবে, আমি এখনও মনে করি যে খুব বেশি দেরি হয়ে যায়নি। আমরা বিশ্বের কেন্দ্রবিন্দুতে আছি, এবং আমরা যা বলি ও করি, তার গুরুত্ব এখন অনেক বেশি। আমাদের বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর পুতিনকে গীতা উপহার দেওয়া, সেশেলসের একমাত্র মন্দিরে তাঁর সফর, এবং স্লোভাক পার্লামেন্টের স্পিকারকে সুশ্রুত ও চরক সংহিতা উপহার দেওয়া—এই সবই নানাভাবে বিষয়টিকে স্পষ্ট করে দেয়।
শুধুমাত্র যদি আমরা আমাদের হিন্দু পরিচয়কে এগিয়ে নিয়ে যাই, তবেই আমরা আসন্ন দুর্যোগ, তার আখ্যান, বা আমাদের নিজেদের আখ্যানকে অতিক্রম করতে সক্ষম হব। তাহলে আমাদের রাম মন্দিরের মতো সমালোচনার সম্মুখীন হতে হবে না।।
