এইদিন ওয়েবডেস্ক,কলকাতা,২৯ জুন : গত ২৬ শে জুন মুর্শিদাবাদের বেলডাঙ্গা-২ ব্লকের কাশীপুর হাটতলায় দলীয় জনসভায় একটি অত্যন্ত বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির বিধায়ক হুমায়ুন কবীর । তিনি বিজেপিকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন,’আমি যেদিন ময়দানে মুসলমানদের নিয়ে নেমে যাব না, সেদিন এমন স্যাটাভাঙা মার শুরু করবে যে, আপনাদের পতাকা বহন করার লোক থাকবে না।’ আজ সোমবার বিধানসভায় দাঁড়িয়ে তাঁকে সতর্ক করে দেওয়ার পাশাপাশি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, হুমায়ুন কবীরের মন্তব্যের প্রেক্ষিতে ইতিমধ্যেই ভারতীয় ন্যায় সংহিতার বিভিন্ন ধারায় একাধিক এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়েছেন,’দেশের সংবিধান ও আইনই শেষ কথা বলে। কোনো বাপের বেটা এমন হুঁশিয়ারি দিতে পারে না। আপনি এইসব বেপরোয়া মন্তব্য বন্ধ করুন।’
মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়েছেন,’দেশের সংবিধান ও আইনই শেষ কথা বলে। কোনো বাপের বেটা এমন হুঁশিয়ারি দিতে পারে না। আপনি এইসব বেপরোয়া মন্তব্য বন্ধ করুন।’ হুমায়ুন কবীরকে সতর্ক করে মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন,’আমি এক সপ্তাহের মধ্যে মুর্শিদাবাদ যাচ্ছি। দেখব কী করে। যারা ওই সভায় আপনাকে ডেকেছিল, আগে তাদের তুলব, তারপর আপনার কাছে যাব।’
পাশাপাশি বিধানসভায় হুমায়ুন কবীরের দুই জায়গার অর্থাৎ গত ২৬ তারিখের কাশীপুরের রেজিনগর এবং ২৮ তারিখে শক্তিপুরের দুয়ারাঘাটের কর্মসূচির বক্তব্য পাঠ করে শোনান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “এখানকার একাধিক বিধায়ক তুলে ধরেছেন নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের দু’টি জায়গায় অত্যন্ত আপত্তিজনক, সমাজ ও রাজ্যের পক্ষে ক্ষতিকারক বক্তব্যের উপরে। হুমায়ুন কবীর যে বক্তব্য রেখেছেন তা আমি আপনাদের কাছে পড়ে শোনাচ্ছি। গত ২৬ তারিখে নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীর রেজিনগরে কাশীপুরে ওঁর পার্টির একটি মিটিং করেছিলেন। সেখানে তিনি বলছেন, এই যে অনামিকা ঘোষ সে ভোটে হেরে মনে করছে আমি এমএলএ। এখানে ভোটে হেরে বিজেপি মনে করছে আমি এমএলএ। এখানে এখন আস্ফালন করে বেরাচ্ছে, তা আমি শুভেন্দু অধিকারীকে সেদিন বলেছি যে, আপনি ভোটে জিতেছেন, আপনার দল জিতেছে খুব ভাল কথা। কিন্তু, মুর্শিদাবাদে আস্ফালনটা একটু কম করবেন। আমি যেদিন ময়দানে মুসলমানদের নিয়ে নেমে যাব না, সেদিন এমন সাটা ভাঙা মার শুরু করবে যে, আপনাদের পতাকা বহন করার লোক থাকবে না। কেস এরকম কেস আমাদের বহরমপুরে জেল খাটা আছে। ৫ হাজার লোককে আপনি বহরমপুর সেন্ট্রাল জেলের যা আয়তন, তাতে ৪৭০০ বা ৪৮০০-র বেশি লোক ঢোকে না। লাখে লাখে লোককে রাস্তায় নিয়ে নামাব। আর সাটা ভাঙ মার দেব, আর জেলে যাব। ক’দিন জেলে আটকে রাখতে পারবেন, কত খাওয়াতে পারবেন দেখব। লিমিট যেদিন ক্রস হয়ে যায় না, মাথাটা যেদিন গরম হয়ে যায় সেদিন আমি এসপি বুঝব না। চিফ মিনিস্টারেও বুঝব না। আর কে কোথায় থাকল, আর কে কোথায় থাকল না, ওসব বুঝব না। আমি নিজেই নেতৃত্ব দিয়ে দাঁড়াব। এটা ঘটনা ওয়ান।
ঘটনা ২, শক্তিপুরের দুয়ারাঘাটে। ৮ তারিখে । সেখানে উনি বলছেন, ভোটের আগের দিন আমার নিজের ভাইপোকে গ্রেফতার করেছেন এই ওসি। এই…বাচ্চাকে আগে দেখব। এই… বাচ্চাকে এমন শিক্ষা দেব, এর বাবা চোদ্দ গুষ্টির নাম ভুলিয়ে দেব। এ লালগোলায় ৫০০ মুসলমানের লাইফ শেষ করে দিয়ে এসেছে। সত্যভাবে বলব, এই ওসিকে এখান থেকে সরানো শুধু না। একেবারে অকেজো পোস্টিং দিতে হবে। যদি না দেয়, ১০ হাজার লোক নিয়ে থানা ঘিরে, একে গলা ধরে থানা থেকে বের করব। পারলে আমাকে রুখে নেবেন।”
এরপরই নওদার বিধায়ককে সতর্ক করে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন,’এখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নেই যে দুর্বল মুখ্যমন্ত্রী পেয়ে যা খুশি বলবেন । আমি আপনাকে বলে গেলাম, আমরা দু’টো এফআইআর শুরু করেছি। রেজিনগর থানা ও শক্তিপুর থানায়। আমি আপনাদের আশ্বস্ত করছি, এত বড় ক্ষমতা আপনাকে কেউ দেয়নি।’ তিনি এও বলেন,’আপনি কেন এমন মন্তব্য করেছেন আমি জানি । রেজনগরের উপনির্বাচনে আপনার ছেলেকে জেতাতে চান । তাই ৭২ শতাংশ মুসলিম ভোটারকে সন্তুষ্ট করতে আপনি এমন উসকানিমূলক ও সাম্প্রদায়িক মন্তব্য করেছেন । একই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বিধায়কের উদ্দেশ্যে দৃঢ়ভাবে বলেন,’এটাই আপনার শেষ বক্তব্য। এভাবে আপনাকে আর কোনো বেপরোয়া মন্তব্য করতে দেব না, দেব না, দেব না।’।
