প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়,বর্ধমান,২৮ জুন : জাল লটারি চক্রের পান্ডাকে গ্রেপ্তার করল পূর্ব বর্ধমানের জামালপুর থানার পুলিশ । পুলিশ জানিয়েছে,ধৃতের নাম রবীন্দ্রনাথ বাগ। তার বাড়ি জামালপুরের শুড়েকালনা এলালায় । ধৃতের কাছ থেকে ১০ লক্ষের বেশী টাকা মূল্যের জাল লটারি টিকিট উদ্ধার হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর । জাল লটারি চক্রের সন্ধানে নেমে ছয় মাসের মধ্যে এনিয়ে জেলায় গ্রেপ্তার হল তিনজন । চক্রের জাল কতদুর বিস্তৃত তা জানতে ধৃতদের ম্যারাথন জেরা শুরু করেছে পুলিশ ।
এসডিপিও (বর্ধমান দক্ষিণ) অভিষেক মণ্ডল।জানিয়েছেন,“সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ
রবীন্দ্রনাথ বাগের ব্যবসায়িক ডেরায় হানা দেয় ।সেখান থেকেই ১০ লক্ষের বেশী টাকা মূল্যের জাল অর্থাৎ অননুমোদিত লটারি টিকিট সহ হাতে নাতে ধরা পড়ে রবীন্দ্রনাথ বাগ নামে এক ব্যক্তি । উদ্ধার হওয়া ওই সমস্ত জাল লটারি টিকিট বাজেয়াপ্ত করার পাশাপাশি অভিযুক্ত রবীন্দ্রনাথ বাগকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’
জানা গেছে,একটি বৈধ লটারি টিকিট সংস্থার জামালপুরের সাব-স্টকিস্ট পার্থ রায় সর্ব প্রথম এই চক্রটির বিরুদ্ধে সরব হন । সম্প্রতি তিনি তিনি জানতে পারেন যে জামালপুরের শুড়েকালনার রবীন্দ্রনাথ বাগ জাল লটারি টিকিট বিক্রি করছেন । এনিয়ে তিনি জামালপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।তার অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমে পুলিশ সেই অভিযোগ সত্য বলে জানতে পারে । এরপর রবীন্দ্রনাথ বাগকে ধরতে ফাঁদ পাতে পুলিশ ।
জানা যায়,শনিবার দুপুরে জামালপুর থানার পুলিশ আচমকা রবীন্দ্রনাথ বাগের ডেরায় হানা দেয় । তাকে হাতেনাতে ধরে ফেলে পুলিশ । তার ডেরাতে তল্লাশি অভিযান চালিয়ে বান্ডিল বান্ডিল জাল লটারি টিকিট উদ্ধার করা হয় । পুলিশের প্রাথমিক জেরার সে জাল লটারি টিকিট বিভিন্ন জায়গায় সরবরাহ করা ও বিক্রি করার কথা কবুলও করে বলে জানা গেছে ।
অভিযোগকারী পার্থ রায় বলেন,“জামালপুর থেকে এনিয়ে তিনজন জাল লটারি টিকিট বিক্রেতা ধরা পড়লে । তার মধ্যে গত বছরের ডিসেম্বর
মাসে সিআইডি-র (CID) অভিযানে জামালপুরের দক্ষিণসুরা গ্রামের পীরতলা এলাকা নিবাসী লালন শা ওরফে মহম্মদ নুরুল ইসলাম গ্রেপ্তার হয়।ধৃতের কাছ থেকে ২৯ টি ভূটান রাজ্য লটারির জাল টিকিট সিআইডি উদ্ধার করেছিল। এরপর এক মাস কাটতে না কাটতে পূর্ব বর্ধমান জেলা এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চ (DEB) প্রচুর জার লটারি টিকিট সহ গদাই বালা নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে ।এই গদাই বালা জেলার মেমারি থানা এলাকার বাসিন্দা হলেও জামালপুর হাটে বসে ফল বিক্রির সাথে সাথে জাল লটারি টিকিটের পসরা সাজিয়ে নিয়ে বসে বিক্রি করতেন ।’
এসডিপিও বলেন,’জাল লটারি টিকিট বিক্রি কাণ্ডে আর কারা কারা জড়িত রয়েছে তা জানতে এবং চক্রের মূল পাণ্ডার নাগাল পেতে ধৃতকে আজ রবিবার বর্ধমান আদালতে পেশ করে পুলিশি হেপাজতে নেওয়ার আবেদন জানানো হবে ।’।
