এইদিন ওয়েবডেস্ক,কলকাতা,২৮ জুন : মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারনে গোটা বিশ্ব জুড়ে খনিজ জ্বালানীর সঙ্কট দেখা দিয়েছে৷ এর সুযোগ নিচ্ছিল কিছু অসাধু ব্যক্তি । যেকারণে পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রণালয় জিএসআর ৪৭৪(ই)-এর মাধ্যমে ‘মোটর স্পিরিট ও হাই স্পিড ডিজেল (খুচরা আউটলেটের মাধ্যমে সরবরাহের অস্থায়ী নিয়ন্ত্রণ) আদেশ, ২০২৬’-এর বিজ্ঞপ্তি জারি করে হাই-স্পিড ডিজেল বিক্রি সীমিত সীমিত করে দেয় । প্রতি গ্রাহকের জন্য দৈনিক সর্বোচ্চ ২০০ লিটার হাই-স্পিড ডিজেল বিক্রি নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছিল । উদ্দেশ্য ছিল পেট্রোল পাম্পগুলোতে জ্বালানির কালোবাজারি, মজুতদারি এবং শিল্প/বাণিজ্যিক ব্যবহারকারীদের দ্বারা ভর্তুকিযুক্ত জ্বালানির অপব্যবহার রোধ করা । ২০২৬ সালের ১২ই জুন জারি করা একটি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছিল যে, এই বিধিনিষেধ প্রাথমিকভাবে সর্বোচ্চ ৯০ দিন পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। কিন্তু এই নিষেধাজ্ঞার কারনে কিছু জরুরি পরিষেবার ক্ষেত্রে সমস্যার সৃষ্টি হয় । আর এই সমস্যার কথা মাথায় রেখে বেশ কিছু ক্ষেত্রে এই নিষেধাজ্ঞা তুলে নিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার ।
এই বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন,”আমাদের সরকার সাধারণ জনগণের দৈনন্দিন জীবন, জরুরি পরিষেবা এবং রাজ্যের অর্থনীতি কোনো বাধা ছাড়াই যেনো সুচারুভাবে এগোতে থাকে তা নিশ্চিত করতে সর্বদা বদ্ধপরিকর। সাম্প্রতিক কন্টেইনারে (পাত্রে) ডিজেল সরবরাহ করার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল, যার ফলে আমাদের পরিশ্রমী কৃষক ভাইরা, বিভিন্ন হাসপাতাল এবং জরুরি পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থা কার্যক্ষেত্রে চরম সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছিল। জনসাধারণের স্বার্থ রক্ষায় পশ্চিমবঙ্গ সরকার অবিলম্বে হস্তক্ষেপ করেছে।”
তিনি লিখেছেন,”আমরা প্রধান তেল কোম্পানি গুলোকে স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি, খাদ্য সরবরাহ, জনপরিষেবা এবং চা বাগানের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলোকে জ্বালানির বিধিনিষেধের আওতা থেকে সম্পূর্ণভাবে ছাড় দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছি।
এই সমস্ত জরুরি বিভাগের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি, সংস্থা ও গ্রাহকরা এখন থেকে কন্টেইনার বা ব্যারেলে সহজেই ডিজেল কিনে নিয়ে যেতে পারবেন এবং প্রতিদিন এই সকল গ্রাহকদের জ্বালানি প্রদানের ক্ষেত্রে যে সর্বাধিক সীমা নির্ধারণ করা হয়েছিল তাও শিথিল করা হয়েছে। নির্ঝঞ্ঝাট ভাবে ডিজেল পাওয়ার জন্য পাম্পগুলোতে শুধুমাত্র প্রাথমিক পরিচয়ের নথিপত্র দেখালেই চলবে।”
তেল কোম্পানিগুলির কার্যনির্বাহী পরিচালকদের কাছে পাঠানো রাজ্যের মুখ্য সচিবের একটি নির্দেশে বলা হয়েছে : ভারত সরকারের পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক কর্তৃক জারি করা ‘মোটর স্পিরিট এবং হাই-স্পিড ডিজেল (খুচরা আউটলেটের মাধ্যমে সরবরাহের অস্থায়ী নিয়ন্ত্রণ) আদেশ, ২০২৬’ এবং পরবর্তী নির্দেশাবলীর প্রতি আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য আমাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যার মাধ্যমে খুচরা আউটলেটগুলি থেকে শিল্প/বাণিজ্যিক গ্রাহকদের কাছে হাই-স্পিড ডিজেল (HSD) বিতরণ নিয়ন্ত্রিত করা হয়েছে এবং নন-পিইএসও (PESO) অনুমোদিত কন্টেইনারে বিতরণ সীমাবদ্ধ করা হয়েছিল । যদিও এই নিয়ন্ত্রক আদেশের প্রশাসনিক উদ্দেশ্যটি লক্ষ্য করা গেছে, বিভিন্ন সংশ্লিষ্ট বিভাগ, শিল্প সমিতি এবং জনসেবামূলক সংস্থাগুলির কাছ থেকে আবেদনপত্র পাওয়া গেছে, যেখানে রাজ্য জুড়ে গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলিতে সৃষ্ট তীব্র দুর্দশার কথা তুলে ধরা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতিগুলির (যেমন ব্যাকআপ জেনারেটর, সেচ পাম্প, প্রক্রিয়াকরণ প্ল্যান্ট এবং এস্টেটের যানবাহন) স্থির প্রকৃতির কারণে, এই সংস্থাগুলি কন্টেইনার/ব্যারেলে স্থানীয় খুচরা আউটলেটগুলি থেকে HSD সংগ্রহের উপর সম্পূর্ণরূপে নির্ভরশীল। সার্বিক জনস্বার্থ, নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক ধারাবাহিকতার পরিপ্রেক্ষিতে, নিম্নলিখিত অত্যাবশ্যকীয় কার্যক্রমগুলোকে বর্তমান বিধিনিষেধ থেকে অব্যাহতি দেওয়া অপরিহার্য বলে বিবেচিত হয়েছে:
স্বাস্থ্যসেবা ও জরুরি পরিষেবা: হাসপাতাল, স্বাস্থ্য ক্লিনিকগুলোর জন্য নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং পুলিশ, দমকল ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা যানবাহনের নির্বিঘ্ন চলাচল। খাদ্য সরবরাহ শৃঙ্খল ও কৃষি: ফসল কাটা ও চাষাবাদের কার্যক্রম, দুগ্ধ খামার, পোল্ট্রি খামার, কোল্ড স্টোরেজ (পচনশীল দ্রব্য সংরক্ষণের জন্য) এবং বেকারির উৎপাদন লাইন পরিচালনা।
আরও যেমসস্ত ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছে সেগুলি হল –
জনসেবা ও সরকারি খাত: আবাসিক কলোনিগুলিতে গুরুত্বপূর্ণ জল/পয়ঃনিষ্কাশন পাম্পের জন্য ডিজেল জেনারেটর (ডিজি) সেট পরিচালনা, সরকারি অফিসগুলিতে প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে পরিচালনগত নিরাপত্তা।
রাজ্য কৃষি-অর্থনীতি: চা বাগানের মধ্যে প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা এবং এস্টেট পরিবহন পরিকাঠামো।
নির্দেশ বলা হয়েছে : অতএব, ‘মোটর স্পিরিট এবং হাই-স্পিড ডিজেল (খুচরা আউটলেটের মাধ্যমে সরবরাহের অস্থায়ী নিয়ন্ত্রণ) আদেশ, ২০২৬’-এর ৪ নং ধারার অধীনে প্রদত্ত ক্ষমতা প্রয়োগ করে—যা রাজ্য সরকারকে যেকোনো ভোক্তা, ভোক্তাদের শ্রেণী বা লেনদেনের বিভাগকে ছাড় দেওয়ার ক্ষমতা দেয়—পশ্চিমবঙ্গ সরকার এতদ্বারা সমস্ত জেলা জুড়ে উল্লিখিত ক্ষেত্রগুলির জন্য নিম্নলিখিত শিথিলতা প্রদান করছে :
১. দৈনিক বিতরণের সীমার শিথিলতা: কৃষি, বেকারি, হাসপাতাল, দুগ্ধ খামার, পোল্ট্রি, কোল্ড স্টোরেজ, আবাসিক কলোনি, সরকারি অফিস, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, চা বাগান এবং জরুরি পরিষেবার অধীনে যাচাইকৃত প্রয়োজনের জন্য খুচরা আউটলেটগুলি থেকে নির্ধারিত দৈনিক বিতরণের সর্বোচ্চ সীমা এতদ্বারা শিথিল করা হলো।
২. ব্যারেল/কন্টেইনারে সরবরাহের অনুমতি: আপনার নিজ নিজ এখতিয়ারভুক্ত এলাকার খুচরা আউটলেট ডিলার এবং পাম্প অপারেটরদের, স্থির সরঞ্জামগুলির কার্যক্রম নিশ্চিত করার জন্য, এই নির্দিষ্ট সেক্টরগুলির গ্রাহকদের কাছে নন-পিইএসও (PESO) অনুমোদিত কন্টেইনার/ব্যারেলে এইচএসডি (HSD) সরবরাহ করার অনুমতি দেওয়া হলো। মুখ্য সচিবের নির্দেশে বলা হয়েছে, আপনাকে অনুরোধ করা হচ্ছে যে, পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে আপনার এখতিয়ারভুক্ত সমস্ত খুচরা আউটলেট ডিলার এবং পাম্প অপারেটরদের এই সেক্টরগুলির অনুমোদিত প্রতিনিধিদের কাছে ঝামেলামুক্ত ও নির্বিঘ্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য অবিলম্বে সুস্পষ্ট নির্দেশ জারি করুন। পাম্পে দ্রুত যাচাইয়ের সুবিধার্থে গ্রাহকদের প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয়পত্র, ট্রেড রেজিস্ট্রেশন, জমির রেকর্ড বা সরকারি আবেদনপত্র দেখানোর পরামর্শ দেওয়া যেতে পারে। নাগরিক জীবন, স্বাস্থ্যসেবা এবং রাজ্যের অর্থনীতির উপর এর ব্যাপক প্রভাব বিবেচনা করে, এই বিষয়টিকে অবশ্যই “অত্যন্ত জরুরি” হিসেবে গণ্য করতে হবে।।
