এইদিন ওয়েবডেস্ক,ভাতার(পূর্ব বর্ধমান),২৫ জুন : কলকাতার তারাতলায় গুদামঘর বিপর্যয়ে অকালে ঝড়ে গেল পূর্ব বর্ধমান জেলার কাটোয়ার এক তরতাজা তরুনের প্রাণ । তারাতলায় গুদামঘর বিপর্যয়ে এখনো পর্যন্ত ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে । যার মধ্যে রয়েছেন কাটোয়া থানার গাজিপুর গ্রামের রোহিত চৌধুরী নামে ওই ২০ বছরের তরুণ । কলকাতায় ময়নাতদন্তের পর আজ বৃহস্পতিবার তাঁর মৃতদেহ নিয়ে আসা হয় গ্রামের বাড়িতে। কান্নায় ভেঙে পড়েন পরিবার পরিজন ও প্রতিবেশীরা ।
জানা গেছে,গাজিপুর গ্রামের বাসিন্দা বেনারস চৌধুরী ও নিলমদেবীর দুই ছেলের মধ্যে বড় ছিলেন রোহিত। ছোট ভাই রোহন অগ্রদ্বীপ উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র। ২০২৪ সালে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করার পর আইটিআইয়ে পড়ার ইচ্ছা ছিল রোহিতের। কিন্তু পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম বেনারস চৌধুরী সেরিব্রাল স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে শয্যাশায়ী হয়ে পড়লে অভাবের সংসারটি অকুলপাথারে পড়ে যায় । পরিবারের অন্নসংস্থানের জন্য বাজারে সবজি বিক্রি করতে শুরু করেন নিলমদেবী । মায়ের এই হাড়ভাঙা কষ্ট দেখে আর পড়াশোনার ইচ্ছা ত্যাগ করতে হয় রোহিতকে । পরিবারের অন্নসংস্থান আর ভাইয়ের পড়াশোনার খরচ জোটাতে কলকাতার তারাতলায় ওই নির্মীয়মাণ গুদামঘরে কাজে চলে যান রোহিত । কিন্তু পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর স্বপ্ন অধরাই থেকে যায় তাঁর ।
বুধবার বেলা ১২ টা নাগাদ ওই নির্মীয়মাণ গুদামঘরের ছাদ ধসে চাপা পড়ে যান রোহিত চৌধুরী । উদ্ধারকারীরা ২০ জনকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হলেও তারা রোহিতের নিথর দেহ উদ্ধার করে । এই খবর বাড়িতে এলে ওই হতদরিদ্র পরিবারটির উপর যেন বিনা মেঘে বজ্রাঘাত হয় । শুধু বাবা-মা-ভাই নন,একজন তরতাজা তরুনের মৃত্যু কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না এলাকাবাসী । গোটা গ্রাম জুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া ।।
