এইদিন আন্তর্জাতিক ডেস্ক,২৪ জুন : মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক তুলসি গ্যাবার্ড পূর্বে অপ্রকাশিত একাধিক নথি প্রকাশ করে দাবি করেছেন কোভিড-১৯ মহামারীর উৎপত্তি চীনের গবেষণাগারে হলেও অর্থায়ন করেছিল আমেরিকা । এদিকে তিনি এই গুরুতর অভিযোগ তোলার পর ওয়াশিংটনে একটি নতুন রাজনৈতিক ঝড় উঠেছে ।
গ্যাবার্ডের মতে, সদ্য প্রকাশ করা নথিগুলো থেকে জানা যায় যে, মার্কিন করদাতাদের অর্থ উহান ইনস্টিটিউট অফ ভাইরোলজিতে গবেষণার জন্য ব্যবহার করা হয়েছিল। এই গবেষণাগারটি দীর্ঘদিন ধরে কোভিড-১৯ এর উৎপত্তি নিয়ে বিশ্বব্যাপী বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। তিনি বিশেষভাবে হোয়াইট হাউসের প্রাক্তন চিকিৎসা উপদেষ্টা অ্যান্থনি ফাউচির বিরুদ্ধে বাদুড়ের করোনাভাইরাসের ওপর “গেইন-অফ-ফাংশন” পরীক্ষা-নিরীক্ষামূলক গবেষণা কার্যক্রমকে সমর্থন করার অভিযোগ করেছেন।
গেইন-অফ-ফাংশন গবেষণার মাধ্যমে ভাইরাসকে পরিবর্তন করে বোঝা হয় যে, সেগুলো কীভাবে বিবর্তিত হতে পারে, ছড়াতে পারে বা আরও বেশি সংক্রামক হয়ে উঠতে পারে।গ্যাবার্ড অভিযোগ করেন যে, কর্মকর্তা ও বৈজ্ঞানিক প্রতিষ্ঠানগুলো গবেষণাগার থেকে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনাকে উপেক্ষা করে প্রাকৃতিক উৎপত্তির তত্ত্বকে প্রচার করেছিল। তিনি আরও দাবি করেন যে, গোয়েন্দা মূল্যায়ন, বৈজ্ঞানিক প্রতিবেদন এবং জনসচেতনতামূলক বার্তা এমনভাবে তৈরি করা হয়েছিল, যা উহান ল্যাব তত্ত্বটির পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই- বাছাইকে নিরুৎসাহিত করেছিল।
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর দাবিগুলোর মধ্যে একটি হলো প্রায় ৩০টি দেশে পরিচালিত ১২০টিরও বেশি মার্কিন অর্থায়নে পরিচালিত জৈব গবেষণাগারের অস্তিত্ব। গ্যাবার্ডের মতে, এই কেন্দ্রগুলোর মধ্যে কয়েকটি অত্যন্ত বিপজ্জনক রোগজীবাণু, যার মধ্যে মহামারী সৃষ্টিকারী ভাইরাস এবং রোগ সৃষ্টিকারী অণুজীবও রয়েছে, সেগুলোর ওপর গবেষণার সাথে জড়িত ছিল।তিনি অ্যানথ্রাক্স, ইবোলা, সার্স-সম্পর্কিত ভাইরাস এবং অন্যান্য উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ জৈব উপাদানের মতো রোগজীবাণু নিয়ে কাজ করা গবেষণাগারগুলো সম্পর্কেও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। গ্যাবার্ড যুক্তি দেন যে, এই ধরনের কর্মসূচির উদ্দেশ্য, তত্ত্বাবধান এবং অর্থায়ন সম্পর্কে আরও বেশি স্বচ্ছতা প্রয়োজন।এই অভিযোগগুলো মহামারীর সময় জবাবদিহিতা নিয়ে আরও ব্যাপক প্রশ্ন পুনরায় উস্কে দিয়েছে।।
