এইদিন ওয়েবডেস্ক,গুজরাট,২৪ জুন : আম আদমি পার্টির ২৩ বছর বয়সী নেত্রী নন্দিনী বোসামিয়ার (Nandini Bosamiya) রহস্যজনক মৃত্যুকে ঘিরে গুজরাটের রাজকোটে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। জেতপুর নবগড় পৌরসভার প্রাক্তন প্রার্থী নন্দিনীকে রাজকোটের গোন্দাল চৌকাড়ির কাছে একটি ফ্ল্যাটে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। তার পরিবারের অভিযোগ, এটি আত্মহত্যা নয়, বরং একটি পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড এবং এই ঘটনার পেছনে নন্দিনীর লিভ-ইন সঙ্গী আসলাম হুসেন সামার( Aslam Hussain Sama) হাত রয়েছে।
প্রতিবেদন অনুসারে, পরিবার জানিয়েছে যে মৃত্যুর আগের দিন নন্দিনী জঙ্গলেশ্বর এলাকায় আসলামের মাসির বাড়িতে গিয়েছিলেন, যেখানে তাকে এমনভাবে মারধর করা হয় যে তিনি আহত হন।এই নৃশংসতার শিকার হওয়ার পর নন্দিনী তার ছোট বোনকে একটি বার্তা পাঠিয়ে জানায় যে, তাকে আবার মারধর করা হয়েছে এবং এখন থেকে সে আলাদা থাকবে ও নতুন জীবন শুরু করবে। সে সোশ্যাল মিডিয়াতেও একটি পোস্ট শেয়ার করে লেখে, “বাবা, আমি জীবনের যুদ্ধে হেরে গেছি।”
এই বার্তা এবং পোস্ট দেখে পরিবারে উদ্বেগ দেখা দেয়। বাবা সঙ্গে সঙ্গে রাজকোটে থাকা আত্মীয়দের খোঁজ নিতে পাঠান। আত্মীয়রা যখন ভাওয়াডি রোডে আগম রেসিডেন্সিতে নন্দিনীর ফ্ল্যাটে পৌঁছান, তখন দরজাটি ভেতর থেকে তালা দেওয়া ছিল। সন্দেহ হওয়ায় তারা দরজাটি ভেঙে ফেলেন। ভেতরে ঢুকে তারা ঝুলন্ত অবস্থায় নন্দিনীর মৃতদেহ দেখতে পান।
নন্দিনীর মৃত্যুর পর তার পরিবার শোকে মুহ্যমান। তারা আসলামের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ এনেছেন এবং বলেছেন যে সে মদের ব্যবসা ও নানা অবৈধ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিল। সে আগে থেকেই বিবাহিত ছিল। একটি সন্তান থাকা সত্ত্বেও, সে মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভ হিসেবে কর্মরত নন্দিনীকে জুনাগড়ের একটি পিজি থেকে প্রলুব্ধ করে রাজকোটে নিয়ে আসে। এরপর সে তার ওপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন শুরু করে।
মৃতের বোন ও বাবার মতে, এই হয়রানিতে আসলামের পরিবারও জড়িত ছিল। তারা একবার ছুরি দিয়ে নন্দিনীকে মারাত্মকভাবে আক্রমণও করেছিল, যার পরে আসলামের স্ত্রী, শাশুড়ি ও শ্বশুরসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে জুনাগড় সি ডিভিশন থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়।
এছাড়াও জানা গেছে যে, নন্দিনী ও আসলামের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিবাদ চলছিল, কারণ আসলামের মা ও বোন তাকে বারবার তার স্ত্রীর সঙ্গে থাকার জন্য অনুরোধ করেছিলেন। নন্দিনী যখন তাদের বাধা দেন, তখন আসলাম তাকে নির্মমভাবে মারধর করে।
শুধু তাই নয়, মৃতার পরিবারের সদস্যদের উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে যে, নন্দিনী যখন আসলামের সঙ্গে থাকতে যায়, তখন আসলাম তাকে জানায় যে সে সন্তান চায় না। তাই সে তার অপারেশন করিয়ে জরায়ু অপসারণ করে দেয়, যাতে সে আর কখনও সন্তান ধারণ করতে না পারে।
আপ নেতার মরদেহ উদ্ধারের পর থেকেই প্রধান অভিযুক্ত আসলাম হুসেন সামা পলাতক রয়েছেন। তিনি তার মোবাইল ফোন বন্ধ করে দিয়েছেন। পুলিশ তার সন্ধান করছে। মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।।
