এইদিন ওয়েবডেস্ক,ভাতার(পূর্ব বর্ধমান),২৪ জুন : সাংসারিক খুটিনাটি বিষয় নিয়ে দাম্পত্য কলহের জেরে স্বামীর উপর রাগ করে বাপের বাড়ি চলে গিয়েছিলেন স্ত্রী । সেদিনই স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনতে যান স্বামী । কিন্তু স্ত্রী ফিরতে অস্বীকার করেন । আর তার জেরে বাড়ি ফিরে এসে অভিমানে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মঘাতী হলেন স্বামী । এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব বর্ধমান জেলার ভাতার থানার বলগোনা গ্রামে। আজ বুধবার সকালে স্ত্রী রাসমনি কিস্কু ছেলে রাজের সঙ্গে বাড়ি ফিরে এসে দু’তলা মাটির বাড়ির উপর তলার একটি ঘরে গিয়ে দেখেন গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় ঝুলছে স্বামী সোনালাল কিস্কুর (৪৬) অর্ধগলিত দেহ । পরে খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায় ।
জানা যায়,মৃত সোনালাল কিস্কু রাজমিস্ত্রির জোগাড়ের কাজ করতেন। স্ত্রী রাসমনি কিস্কু এবং ১৪ বছরের ছেলে রাজকে নিয়ে তার সংসার । দিন তিনেক আগে স্বামীর সাথে রাগারাগি করে ছেলেকে নিয়ে বাপের বাড়ি ভাতারের কোশিগ্রামে চলে যান রাসমনি । ওদিন বিকেল নাগাদ সাইকেলে চড়ে সোনালাল কোশিগ্রামে গিয়েছিলেন স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনার জন্য । সোনালাল তার স্ত্রীর মান ভাঙানোর অনেক চেষ্টা করেন । কিন্তু ব্যর্থ হন । ফলে হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরে আসেন সোনালাল ।
তিন দিন পর আজ বুধবার সকালে ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে রাসমনি বাড়ি ফেরেন । তারা ফিরে দেখেন ঘর খোলাই আছে, কিন্তু কারোর কোনো সাড়াশব্দ নেই । এরপর স্বামীর খোঁজে রাসমনি দোতলার ঘরে যেতেই দেখেন যে গলায় দড়ির ফাঁস দেওয়া অবস্থায় ঝুলছে তার স্বামীর নিথর দেহ । রাসমনি চিৎকার করে প্রতিবেশীদের ডাকেন । পরে খবর পেয়ে পুলিশ আসে । মৃতদেহে পচন ধরে যাওয়ায় পুলিশের সন্দেহ দুই তিনদিন আগেই তিনি আত্মঘাতী হয়েছেন।।
