ভারতের ইতিহাসে মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী একটি উল্লেখযোগ্য নাম । তার জীবনযাপন ও অহিংস নীতির পক্ষ-বিপক্ষের মধ্যে বিতর্ক হয় । বিশেষ করে কংগ্রেস ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ গান্ধীকে প্রশংসায় ভরিয়ে দেয় । কিন্তু দেশের হিন্দু জনগোষ্ঠীর বৃহৎ অংশ গান্ধীর বেশ কিছু কর্মকাণ্ড নিয়ে সমালোচনায় মুখর হয় । যেটা নিয়ে সবচেয়ে সমালোচনা হয়,সেটা হল গান্ধীর ব্রহ্মচর্য পরীক্ষা । ব্রহ্মচর্য পরীক্ষার নামে অল্প বয়সী মেয়েদের সঙ্গে গান্ধীর একই বিছানায় রাত্রিবাস নিয়ে এখনো বিতর্ক চলে । বলা হয় যে খোদ সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল গান্ধীর এই প্রকার বিতর্কিত ‘ব্রহ্মচর্য পরীক্ষার’ তীব্র সমালোচক ছিলেন । যদিও গান্ধী এটাকে তার আধ্যাত্মিকতার সঙ্গে জুড়ে দিয়ে উপস্থাপন করে সমালোচকদের মুখ বন্ধ করে এসেছেন । তবে গান্ধী অনুসারী বা কংগ্রেস যতই চেষ্টা করুক না কেন সাধারণ মানুষ তার এই প্রকার ‘ব্রহ্মচর্য পরীক্ষা’কে ভালো চোখে নেয়নি। যেকারণে গান্ধীকে ‘মহাত্মা’ উপাধি দেওয়ার সমালোচনা হয় ।
কিন্তু প্রশ্ন ওঠে যে,মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধীকে কে বা কারা ‘মহাত্মা’ উপাধি দিয়েছিল ? শুনলে অবাক হবেন যে, ব্রিটিশরাই এই কান্ড করে গেছে । আর তাদের সমর্থন করে জাতীয় কংগ্রেস । ১৯৩৮ সালে মধ্য প্রদেশের কংগ্রেস সরকারের একটি দপ্তরীয় আদেশে সকল (বিশেষ করে ব্রিটিশ) কর্মকর্তাদেরকে অতঃপর গান্ধীকে “মহাত্মা” বলে সম্বোধন করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
নাগপুরে ‘মধ্য প্রদেশ ও বেরার সরকার সাধারণ প্রশাসন বিভাগ’-এর সচিব সি.পি.এস বেরার স্বাক্ষরিত ২রা সেপ্টেম্বর ১৯৩৮ তারিখে জারি করা ওই স্মারকলিপিতে (নং ২০৩৯-২৪৫৮-১১) স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয় : “ভবিষ্যতে সকল চিঠিপত্রে শ্রী গান্ধীকে ‘মহাত্মা গান্ধী’ বলে উল্লেখ করতে হবে।” স্মারকলিপিটি নাগপুরে অবস্থিত হাইকোর্টের রেজিস্টার, সকল ডিভিশন কমিশনার,সেটেলমেন্ট কমিশনার এবং ভূমি রেকর্ড পরিচালক,গণপূর্ত বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী,সরকারের আইন বিভাগ, প্রধান বন সংরক্ষক,সিভিল হাসপাতালের মহাপরিদর্শক,জনশিক্ষা পরিচালক,পুলিশ মহাপরিদর্শক,কারাগার মহাপরিদর্শক,পশুচিকিৎসা পরিষেবা পরিচালক,সকল ডেপুটি কমিশনার,সকল সুপারিনটেন্ডিং ইঞ্জিনিয়ার,সকল বন সংরক্ষক, জনস্বাস্থ্য পরিচালক,শিল্প পরিচালক, সমবায় সমিতির রেজিস্ট্রার,আবগারি কমিশনার,সরকারি মুদ্রণ সুপারিনটেনডেন্ট,সরকারের সকল সচিব, রাজ্যপালের সচিব, রাজ্যপালের সামরিক সচিব, রেজিস্ট্রার, বেসামরিক সচিবালয এবং সচিবালয়ের সকল বিভাগের প্রচার কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়। যেখানে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয় : “অতঃপর গান্ধীকে ‘মহাত্মা’ বলে উল্লেখ করার নির্দেশ দেওয়া”।
সেই নির্দেশের কপিটি এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে৷ কিন্তু যেখানে নেতাজী সুভাসচন্দ্র বসুকে রাজবন্দী করার জন্য ব্রিটিশরা উঠেপড়ে লেগেছিল,সেখানে তারা আর এক স্বাধীনতা সংগ্রামী মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধীকে কেন “মহাত্মা” উপাধি দিল ? এই প্রশ্ন উঠছে বিভিন্ন মাধ্যমে ।
বিশ্ব হিন্দু পরিষদ নেত্রী সাধ্বী প্রাচী একবার বলেছিলেন,গান্ধী ‘ইংরেজদের এজেন্ট’ ছিলেন । পাশাপাশি স্বাধীনতা লাভের জন্য তিনি ভগত সিং এবং ডানপন্থী নেতা সাভারকারকে কৃতিত্ব দিয়েছেন। এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেছিলেন, ‘তাকে ‘জাতির পিতা’র সম্মান দেওয়া উচিত নয়। কারণ স্বাধীনতার জন্য আসল ত্যাগ স্বীকার তো অন্য লোক করেছে। স্বাধীনতার কৃতিত্ব মহাত্মা গান্ধীকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত ভুল। এর কৃতিত্ব বীর সাভারকর এবং ভগত সিংকে দেওয়া উচিত।’।
