‘গ্রেট ক্যালকাটা কিলিংস’-এর পরেও গান্ধীর সহযোগিতায় বেলিয়াঘাটায় বসবাস করছিল হিন্দুদের কসাই সোহরাওয়ার্দী । সোহরাওয়ার্দী ও মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধীর বিষয়ে আইবি রিপোর্টে এমনই তথ্য রয়েছে বলে জানিয়েছেন নেতাজী সুভাসচন্দ্র বসুকে নিয়ে বিগত দু’দশক ধরে গবেষণা করা অনুজ ধর । এই বিষয়ে তিনি এক্স-এ ইংরাজিতে যা লিখেছেন তার অনুবাদ নিচে তুলে ধরা হল :
অধিকাংশ মানুষই জানেন না যে, প্রত্যক্ষ আন্দোলনের দিনে (Direct Action Day) কলকাতায় হিন্দুদের গণহত্যার মূল পরিকল্পনাকারী ব্যক্তিটি, তার কাঙ্ক্ষিত পাকিস্তান সৃষ্টির পরেও ভারতেই বসবাস করে যাচ্ছিলেন। কেন? আইবি রিপোর্টে বলা হয়েছে:
“জিন্নাহ [সুহরাওয়ার্দীকে] বলেছিলেন যে তাঁর ভারতেই থেকে যাওয়া ভালো, কারণ ভারতে থেকে তিনি পাকিস্তানের স্বার্থ আরও ভালোভাবে রক্ষা করতে পারবেন। এই কথা শুনেই তিনি কলকাতায় ফিরে আসেন। কিন্তু কলকাতা তখন তাঁর জন্য বড্ড বেশি উত্তপ্ত একটি জায়গা ছিল। পরিবেশ ছিল প্রতিকূল। তাঁর বিরুদ্ধে জনরোষ ছিল চরমে এবং তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছিলেন। অত্যন্ত চতুর ব্যক্তি হওয়ায় তিনি মূলত নিজের স্বার্থে এবং ভারতীয় মুসলমানদের স্বার্থে একটি গভীর চাল চালতে শুরু করেন এবং দৃশ্যত ভারতের স্বার্থের বিরুদ্ধে গিয়ে ভারতে মুসলমানদের একত্রিত করার প্রচেষ্টায় জিন্নাহ ও পাকিস্তানকে সাহায্য করার উদ্দেশ্যেও… তাই তিনি মহাত্মা গান্ধীর একজন ভক্তের ভূমিকা গ্রহণ করেন, যিনি তখন শান্তি ও শৃঙ্খলা পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে কলকাতার একটি দাঙ্গা-বিধ্বস্ত এলাকায় (বেলিয়াঘাটা) বসবাস করছিলেন।”
তিনি লিখেছেন, প্রতিবেদন থেকে আরও জানা যায় যে “১৯৪৬ সালের আগস্ট মাসে তিনি [সোহরাওয়ার্দী] (অবিভক্ত) বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হন। এই সময়েই তিনি কলকাতায় হিন্দুদের গণহত্যার পরিকল্পনা করেন – তিনি ব্যক্তিগতভাবে মুসলিম গুন্ডাদের নেতৃত্ব দেন এবং এই পরিকল্পনার ছক কষা ও তত্ত্বাবধানের দায়িত্বে ছিলেন। তিনি কলকাতার ২৪টি থানার বেশিরভাগই মুসলিম স্টেশন-হাউস অফিসারদের অধীনে দেন এবং কন্ট্রোল রুম থেকে ব্যক্তিগতভাবে অভিযান পরিচালনা করতেন বলে জানা যায়। এই কারণেই পূর্ব বাংলার হিন্দুরা তাঁকে ঘৃণা করে এবং তাঁর উপর কখনও আস্থা রাখতে প্রস্তুত ছিল না । এই হত্যাকাণ্ড ১৯৪৭ সালের ১৪ই আগস্ট শেষ হয়। সোহরাওয়ার্দী গান্ধীজির আশ্রমে আশ্রয় নেন, যিনি তাঁকে তাদের হাত থেকে রক্ষা করেছিলেন যারা প্রতিশোধস্বরূপ তাঁকে হত্যা করার চেষ্টা করতে পারত।” তিনি লিখেছেন,দুটি প্রতিবেদন রয়েছে, একটি আইবি, সিআইডি-র এবং অন্যটি আইবি (দিল্লি)-র।।
