এইদিন ওয়েবডেস্ক,নাগপুর,১৬ জুন : মহারাষ্ট্রের রাজধানী নাগপুরের সোনেগাঁও এলাকা থেকে এক হিন্দু বিবাহিত মহিলাকে গনধর্ষণ, ব্ল্যাকমেল এবং জোরপূর্বক ধর্মান্তরিত করার একটি ঘটনা সামনে এসেছে। এই ঘটনায় পুলিশ কালমেশ্বরের বাসিন্দা আয়াজ তাজ মাদারে এবং আমিন শেখকে গ্রেপ্তার করেছে। মধ্যপ্রদেশের তামিয়ার বাসিন্দা হযরত মাওলানা পলাতক এবং তাকে খোঁজ চলছে ।
অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ধর্ষণ, চাঁদাবাজি, ধর্মান্তরিত করার চেষ্টা এবং মহারাষ্ট্র কুসংস্কার ও কালো জাদু প্রতিরোধ আইনের অধীনে একটি মামলা নথিভুক্ত করে তদন্ত শুরু করেছে।
ভুক্তভোগী ২৪ বছর বয়সী এক বিবাহিত নারী, যিনি সম্পত্তি কেনাবেচার ব্যবসা করেন। তাঁর স্বামী ভারতীয় বিমান বাহিনীতে কর্মরত এবং ঘটনার সময় অন্য একটি শহরে নিযুক্ত ছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ওই নারীর সহপাঠী আইয়াজ এক খণ্ড জমি কেনার অছিলায় তাঁর কাছে আসে। অভিযোগ করা হয়েছে যে, সে ওই নারীকে ওয়ার্ধা রোডের একটি হোটেলে নিয়ে যায়, যেখানে তাঁকে ঘুমের ওষুধ মেশানো জুস দেওয়া হয়। ওই নারীর দাবি, তিনি অচেতন অবস্থায় থাকাকালীন তাঁকে ধর্ষণ করা হয় এবং সেই মুহুর্তের তাঁর ভিডিও ও ছবি রেকর্ড করা হয়েছিল।
অভিযোগে বলা হয়েছে যে, অভিযুক্ত ব্যক্তি পরবর্তীতে এই ভিডিও এবং ছবিগুলো ভাইরাল করে দেওয়ার হুমকি দিয়ে তাকে যৌন শোষণ করে। ওই নারী আরও অভিযোগ করেন যে, এই সময়ে তার কাছ থেকে ৩ লাখ ৯,০০০ টাকা চাঁদাবাজি করা হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, বিষয়টি শুধু যৌন শোষণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং ওই নারীকে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করার জন্যও চাপ দেওয়া হয়েছিল। ওই নারীর অভিযোগ, তাঁকে দিয়ে বিভিন্ন ধর্মীয় আচার- অনুষ্ঠান পালন করানো হয়েছিল। এরই মধ্যে একটি ভিডিও সামনে এসেছে, যেখানে অভিযুক্তকে ওই নারীর সঙ্গে কালিমা পাঠ করতে এবং তাঁর গায়ে ফুঁ দিতে দেখা গেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৩১ মে অভিযুক্ত তাঁকে নাগপুরের কালমেশ্বর এলাকায় নিয়ে যায়, যেখানে তাঁর সঙ্গে আমিন শেখ ও হযরত মাওলানার সাক্ষাৎ করানো হয়। তিনজন তাঁকে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যায় এবং তিনি ধর্মান্তরিত হয়েছেন বলে দাবি করে কিছু ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করে। এরপর তাঁকে আবারও ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়।
মহিলাটি জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে ভয় ও চাপের মধ্যে ছিলেন এবং পুরো ঘটনাটি কাউকে বলতে পারেননি। তিন দিন আগে তাঁর স্বামী কাজ থেকে বাড়ি ফিরলে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। তখন মহিলাটি তাঁকে পুরো ঘটনাটি বলেন এবং তাঁরা দুজনে সোনেগাঁও থানায় যান। পুলিশ তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়ে দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে। আদালত তাঁদের পাঁচ দিনের পুলিশি হেফাজতে পাঠিয়েছে। পুলিশ এখন ভুক্তভোগীর মোবাইল চ্যাট, ব্যাংক লেনদেন, ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ, ভাইরাল ভিডিও এবং অন্যান্য ইলেকট্রনিক প্রমাণ খতিয়ে দেখছে।।
