এইদিন ওয়েবডেস্ক,উত্তরপ্রদেশ,১২ জুন : উত্তর প্রদেশের উন্নাও থেকে একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা সামনে এসেছে। বাঙ্গারমাউ এলাকায় একটি মসজিদের কাছে মন্দির নির্মাণ করছিলেন ৪৫ বছর বয়সী সাধু মিলন দাস, যাঁকে দিনের আলোতে ছুরি দিয়ে কুপিয়ে খুন করা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুসারে, আজানের সময় লাউডস্পিকারে ভজন বাজানো নিয়ে বিবাদের জেরে এই ঘটনাটি ঘটে।
এই ঘটনায় পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে তিন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে। এছাড়াও, প্রধান অভিযুক্ত কাউন্সিলর আতিকের বাড়ি ভেঙে ফেলার জন্য প্রশাসনের বুলডোজারও ব্যবহার করা হয়েছে, যার বাড়ির উঠোনেই এই হত্যাকাণ্ডটি ঘটে। এই ভয়াবহ ঘটনাটি মঙ্গলবার (৯ জুন) বিকেলে ঘটে। সন্ত মিলন দাস কাউন্সিলর আতিকের বাড়ির অল্প দূরে অবস্থিত উঠোনে বসেছিলেন। তিনি চলে যাওয়ার জন্য উঠে দাঁড়াতেই হামলাকারীরা তাঁকে ছুরি দিয়ে আক্রমণ করে। তাকে নির্মমভাবে কোপায় । ঘাতকরা ছুরি দেখিয়ে পথচারীদের ভয় দেখিয়ে পালিয়ে যায় । রক্তাক্ত অবস্থায় পুজারিকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
সন্ত মিলন দাসের পরিবারের ভাষ্যমতে, তিনি একটি মুসলিম-অধ্যুষিত এলাকায় নিজের জমিতে একটি মন্দির নির্মাণ করছিলেন। মন্দির থেকে অল্প দূরে একটি মসজিদও অবস্থিত। মন্দির নির্মাণ এবং সেখানে ভজন গাওয়ার জন্য অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে ওই সাধুর প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে আসছিল। জানা গেছে, সন্ত মিলন দাস এর আগেও ২০১৩ এবং ২০২৩ সালে আক্রমণের শিকার হয়েছিলেন।
এই ঘটনার পর ক্ষুব্ধ জনতা বাঙ্গারমাউ-হারদোই সড়ক অবরোধ করে। পুলিশ বিপুল সংখ্যক বাহিনী মোতায়েন করে। পুলিশ ইসরায়েল, লাল্লি, ইয়ামিন, শানু এবং শফি সহ আটজনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছে। এখন পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রশাসন কঠোর অবস্থান নিয়ে প্রধান অভিযুক্ত আতিকের বাড়িও বুলডোজার দিয়ে ভেঙে দিয়েছে।।
