এইদিন ওয়েবডেস্ক,বাংলাদেশ,১০ জুন : মুসলিম বান্ধবীকে বিশ্বাস করে বেড়াতে বেড়িয়ে নিজের মর্মান্তিক পরিনতি ডেকে আনলেন চট্টগ্রামের গীতা প্রশিক্ষক শ্রুতি পাল (২১) । চট্টগ্রাম জেলার আনোয়ারা থানার হাইলদর ইউনিয়নের আনোয়ারা গ্রামের টিটু পালের কন্যা শ্রুতি পাল ফেনী সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজের বিএড কোর্সের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী। রবিবার বিকেলে তার এক বান্ধবী ও একই কলেজের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী রাস্তি সুলতানা তাকে তার প্রেমিক তানভীর সহ ঘুরতে যাবেন বলে ডেকে নেন। এরপর রবিবার (৭ জুন) বিকেল ৩টা থেকে ৫টার মধ্যে জোরারগঞ্জ থানা এলাকার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বাইপাস সড়কের ওপর মেয়েটির ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার হয় । ওই তরুনীর নিম্নাংশ ক্ষতবিক্ষত ছিল । সন্দেহ যে গনধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করে যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করে দেওয়া হয়েছে । যদিও পুলিশ এটিকে দুর্ঘটনা বলে চালানোর চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ ।
জানা গেছে,চট্টগ্রাম দেওয়ানহাটে কালীবাড়ির উপদেষ্টা ডাঃ টিপু পালের ছোট মেয়ে শ্রুতি পাল । তিনি গীতা শিক্ষার্থী থেকে পরে প্রশিক্ষক হন । ডাঃ টিপু পালের তিন মেয়ের মধ্যে শ্রুতি সবার ছোট। অতিকষ্টে টিউশন করে নিজের পড়াশোনা খরচ নিয়ে চালিয়ে নিতেন । ফেনী বি-এড কলেজের ছাত্রী। থাকতেন কলেজ হোস্টেলে এবং ফেনী শহরে এসে টিউশন করতেন । একই কলেজের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী দাগনভুইয়া থানা এলাকার বাসিন্দা রাস্তি সুলতানার সাথে শ্রুতি পালে পরিচয় হয় ।
মিডিয়া রিপোর্ট অনুযায়ী,রাস্তি সুলতানা শ্রুতি পাল-কে এক দিন ফেনীর একটি রেস্টুরেন্টে নিয়ে গিয়ে এক মুসলিম ছেলের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয় । তার তৃতীয় দিন রাস্তি সুলতানা দুপুর প্রায় একটা নাগাদ শ্রুতিকে ফেনীর একটি রেস্টুরেন্টে নিয়ে যায়। আগে থেকেই সেখানে চারটে দামী বাইক নিয়ে ৪ জন ছেলে উপস্থিত ছিল । তারা শ্রুতিকে মীরশ্বরাই থানার উত্তর পাশে বাইপাস এর ভিতর কোন এক নির্জন স্থানে নিয়ে যায়।
পরিবারের তথ্যমতে,সেখানে ৩-৪ মিলে শ্রুতি পালকে গনধর্ষণ করে । ধস্তাধস্তির এক পর্যায় তাকে দুই জনে মিলে গলা টিপে হত্যা করে। পরে গণধর্ষনের প্রমান নষ্ট করার জন্য ধারালো ছুরি দিয়ে তার যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করে, চুরি দিয়ে তার তলপেট চিড়ে দিয়ে নাড়িভুড়ি বের করে দেয় । শ্রুতির নাভির নিচে থেকে পুরো অংশ কার্যত থেঁতলে ফেলে। এর পর সড়ক দুর্ঘটনায় হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার জন্য মূল সড়কে দেহটি নিয়ে যায় । সেখানে দেহটি ফেলে রেখে তারা তিন জন চলে যায় । কিছুক্ষণ পর দুজন এসে সিএনজি তুলে সেবা ক্লিনিকে শ্রুতি পালের ক্ষতবিক্ষত দেহটি নিয়ে যায়। কিন্তু ডাক্তার তাদের সন্দেহজনক আচরণ দেখে কৌশলে মৃতদেহটি চট্টগ্রাম মেডিকেলে পাঠিয়ে দেন। এরপর চট্টগ্রামে মেডিকেলে মৃতদেহেত ডাক্তারি পরিক্ষানীরিক্ষা হয়। পুলিশ এই ঘটনায় দু’জনকে আটক করে পাঁচলাইশ থানা হাজতে নিয়ে রাখে ।
পরে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে শ্রুতি পালের মৃতদেহ শনাক্ত করেন তার পরিবার । নিহতের বোন চেষ্টা পালের অভিযোগ,’বান্ধবী ও বান্ধবীর প্রেমিক তানভীর দিদিকে ডেকে নিয়ে গিয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে ।’
ফেনী টিচার্স ট্রেনিং কলেজের অধ্যক্ষ রমজান আলী শিকদার বলেন, ‘ওই ছাত্রী বিকেলে প্রাইভেট পড়তে হোস্টেল থেকে বের হয়, এমনটা শুনেছি।সন্ধ্যায় জানতে পারি সে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত হয়। পরে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সে মারা যায়।তবে তাকে হত্যার বিষয়ে কিছু জানা নেই।’ জোরারগঞ্জ থানার ওসি মহম্মদ আবদুল হালিম জানান, চট্টগ্রাম পাঁচলাইশ থানার ওসির মাধ্যমে বিষয়টি জেনেছি। তবে তার পরিবারের পক্ষ থেকে কেউ কোনো অভিযোগ নিয়ে আসেনি।সোশ্যাল মিডিয়ায় ইতিমধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে শ্রুতি পালকে হত্যা করা হয়েছে।
হিন্দু সংগঠনের সদস্য সনজীত কুমার দে বলেছেন,বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ হিসেবে আমি মনে করি শ্রুতি পালের পরিবার পুলিশের সহায়তা নেবেন।পুলিশ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা অনুসন্ধান করে দোষী ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনবেন।পাশাপাশি চট্টগ্রামের হিন্দু সংগঠনের নেতারা অবশ্যই শ্রুতি পালের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের সার্বিক সহযোগিতা করবেন।হিন্দু সংগঠনের নেতারা পুলিশের সঙ্গে সময় দিয়ে অবশ্যই ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তে সহায়তা করবেন। আমরা আশা করবো খুব দ্রুত প্রকৃত ঘটনা উন্মোচন হবে।’।
