এইদিন ওয়েবডেস্ক,রংপুর,০৬ জুন : বাংলাদেশের রংপুরের পলাশবাড়ী উপজেলার ২ নম্বর হোসেনপুর ইউনিয়নের মধ্যরামচন্দ্রপুর (হাসবাড়ী) গ্রামে একটি রামমন্দির নির্মানের কাজ চলছে । যা চক্ষুশূল হয়ে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশের উগ্র ইসলামপন্থীদের । তাদের আশঙ্কা যে ভারতের অর্থায়নে নির্মিত ওই মন্দিরকে কেন্দ্র করে এলালায় হিন্দু জনসংখ্যা বাড়িয়ে পরে রংপুরকে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা করছে নয়াদিল্লি । শুধু ইসলামপন্থীরাই নয়, প্যারিসে বসে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে এনিয়ে উসকানি দিচ্ছে পাকিস্তানপন্থী পিনাকি ভট্টাচার্যও । যানিয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন মন্দির নির্মানের মূল উদ্যোক্তা হরিদাস চন্দ্র তরনীদাস ।
সোশ্যাল মিডিয়ায় রংপুরের রামমন্দির নিয়ে লাগাতার অপপ্রচারের জবাব দিয়ে তিনি ফেসবুকে একটা বড়সড় পোস্ট করেছেন । হরিদাস চন্দ্র তরনীদাস লিখেছেন,’ভারতের সাথে বাংলাদেশের ভগবান শ্রী রামের বিগ্রহ এর কোন সম্পর্ক নাই।শুধু মাত্র গল্প কাহিনি ও হিন্দু ধর্মের উপর মিথ্যাচার।আমরা বাংলাদেশি,বাংলাদেশে আমাদের জন্ম, আমরা বাংলাদেশকে ভালবাসি।আমরা হিন্দু আমরা আমাদের মন্দিরে ভগবান শ্রী রামের বিগ্রহ থাকবে সেটা স্বাভাবিক।
পলাশবাড়ীর মুল গেটে নয় বরং রংপুর যাওয়ার পথে নয়,এটি গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ী উপজেলার মধ্য রামচন্দ্রপুর বৃন্দাবন পাড়ায় যেটি মেইন রোড থেকে আরো ২ কিলোমিটার দুরে। আপনাদের সকলের কাছে আমার অনুরোধ কেউ বিভ্রান্ত হবেন না।যদি কোন সরকারি গোয়েন্দা সংস্থা প্রমান করতে পারে এটি ভারতের এজেন্ট বাস্তবায়ন করার জন্য এটি তৈরি হচ্ছে তাহলে আমরা সরিয়ে ফেলবো।
আমরা চাই না এই দেশে হিন্দু মুসলমানদের মাঝে কোন ঝামেলা সৃষ্টি হোক।আর যদি গোয়েন্দা সংস্থা প্রমান না করতে পারে তাহলে অবশ্যই ভগবান শ্রী রামের বিগ্রহ থাকবে আপনাদের ধর্মের মানুষের কোন সমস্যা হওয়ার কথা নয়।
তিনি লিখেছেন,২০২২ সালের RAB ভিডিও ফুটেজ বা বিভিন্ন চ্যানেলে প্রচারিত সংবাদ মিথ্যা ও ষড়যন্ত্র মুলক।আমাকে ২০২২ সালে RAb এএসপি বীনা রানী আমাকে মিথ্যা ভাবে ফাঁসিয়েছে।আমাকে ১০ দিন বনানীর একটি বাসায় আটকিয়ে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা প্রমান করতে চেয়েছে।কিন্তু যখন কিছু পায় নাই বা কারো ১০ টাকা নেই নাই তখন আলোচিত করার জন্য মিডিয়া করেছে। আমি করোনার সময় ১ লাখ মানুষের মাঝে ত্রান দিয়েছি প্রমান সহ আছে।
তিনি আক্ষপ করে লিখেছেন,আমি মসজিদ করে দিয়েছি বাংলাদেশের ৩ টি জায়গায়,মাদ্রাসা করেছি ১ টি,যখন এতো কিছু তখনই আমাকে হিন্দু নাম থেকে যারা এই সব দান গ্রহণ করেছে তাদের দেওয়া নাম দিয়ে বিভিন্ন অপপ্রচার চালিয়েছে কিছু মানুষ।এই পযন্ত সরকারি সংস্থা এনবিআর,দুদক,ইনকাম টেক্স সহ আমার বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ প্রমান করতে পারে নাই।
বাংলাদেশের সরকার কে আমি চ্যালেঞ্জ করলাম আপনারা ব্যাংকের একাউন্ট গুলো চেক করুন আপনারা ৪ টা একাউন্টে ২১ লাখ টাকার বেশি আছে কিনা,সেই টাকাও আমাদের ভক্তদের।ফুলবাড়িয়ার কথা বলা হচ্ছে আমি মুসলিম হয়েছি?সেটা ওখানকার মানুষ জানে,আমরা দারিদ্র মানুষ আমাকে বিভিন্ন কাজ করতে হয়েছে প্রমান করুন আমি অসামাজিক কাজ করছি কি না।
তিনি লিখেছেন,যারা বলে আমি কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছি,প্রমান করুন এই মানব ৩০ লাখ টাকার বেশি ঋন আছে কিনা খোজ করুন ফুলবাড়িয়াতে। একটা বড় ব্যবসা করতে গেলে মানুষের ঋন হবে সেটা হাতিয়ে নেওয়া নয়।আমি আগেই বলেছি দুর্নীতিবাজ ব্যক্তিরা মসজিদ মন্দির করতে পারে না।এই সমাজের ভালো মানুষ গুলো যারা সৃষ্টিকর্তা কে ভয় করে তারা ধর্মের পথে আসে।আমি আমার কাছে ১০ টাকা জীবনের জন্য সঞ্চয় করি নাই,যা আসে হাতে তাই যায় মানুষের সাথে ধর্মের পথে।
তিনি ভারত সরকারের উপর তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেছেন আমরা ভারতের রাজনীতি বা মুসলমানদের উপর কোন প্রভাব ফেলুক আমরা চাই না।আমরা যেমন শান্তিতে থাকতে চাই ধর্মের প্রতিষ্ঠান করতে চাই ভারতের মুসলমানেরা তাদের ন্যায্য অধিকার নিয়ে ভারতে তাদের নিজস্ব বসতভিটায় থাকতে চায়।ভারতের উস্কানিমূলক কথায় বা ভারতের বাজে মনোভাবের এর কারনে বাংলাদেশের হিন্দুরা বিপদে পড়ে। ভারত যদি বাংলাদেশের হিন্দুদের ভালো চাইতো বা ভারত যদি বলে এই দেশের সরকার কে যে আইনের মাধ্যমে চিন্ময় দাস প্রভুর জামিন হোক,কিন্তু ভারত বলবে না তাদের স্বার্থ নাই।
পাকিস্তানপন্থী পিনাকি ভট্টাচার্যের তীব্র সমালোচনা করে তিনি লিখেছেন,পিনাকি ভট্টাচার্য আসলেই উনি কখনো বাংলাদেশের ভালো চায় না।উনি উস্কানিমূলক কথা বলে এই দেশের ক্ষতি করেছেন।উনি একটি ওষুধ এর কোম্পানি করেছিলেন সেখানে ভেজাল ওষুধ তৈরি হতো,সেই ওষুধ দেশের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে দিতেন এবং সেই মেডিসিন খেয়ে অনেক শিশু মারা গিয়েছে,সেই শিশু হত্যার দ্বায়ে দীর্ঘদিন বিদেশের মাটিতে ফেসবুক চালিয়ে,মিথ্যা গুজব ছড়িয়ে,অনলাইন প্লাটফর্ম থেকে টাকা,দেশে অশান্তি বাধিয়ে টাকা ইনকাম করে জীবন চালায়।সে আসলে তসলিমা নাসরিনের মতো ধর্ম বিদ্বেষী।ওনার মিথ্যা অপবাদ মিথ্যা গুজবে দেশ ধংস হবে দেশ রক্ষা হবে না।রাজনৈতিক দলের মতো ভারত বিদুষীর মতো আলাপ করে এই দেশের মানুষের ভালবাসাকে জিম্মি করে ভারতের পক্ষে কাজ করে সে একজন ভারতের এজেন্ট।
সবশেষে তিনি লিখেছেন,আমার পাশে বাংলাদেশের সব হিন্দু আছে আমার পাশে দেশের সুশীল সমাজ আছেন আমার পাশে আমার পাশ্ববর্তী এলাকার মানুষেরা আছেন সব ধর্মের মানুষ আছে।আমি হরিদাস ভগবানের দাস আমি সবাই কে ভালবাসি সবার ভালবাসা নিয়ে থাকতে চাই।আমার ধর্ম সনাতন আমার ধর্ম মানবতার আমার ধর্ম অন্য ধর্ম কে শ্রদ্ধা সন্মান করা অন্য ধর্ম ও ধর্মের মানুষ কে ভালবাসা।
তবে শুধু রামমন্দিরের উদ্যোক্তাই নন,এই প্রকার অপপ্রচারের তীব্র সমালোচনা করেছেন গাইবান্ধা পলাশবাড়ী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ২ নম্বর হোসেনপুর ইউনিয়ন শাখার সম্পাদক হাফেজ মাওলানা মোঃ রবিউল ইসলামও । তিনি দেশবাসীর কাছে “আহ্বান” জানিয়েছেন,মাননীয় এমপি মহোদয় কে নিয়ে ভূয়া,অসত্য তথ্য প্রচারের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। গাইবান্ধা-৩ (সাদুল্লাপুর-পলাশবাড়ী) সংসদীয় আসনের মাননীয় এমপি অধ্যক্ষ মাওলানা মোঃ নজরুল ইসলাম (লেবু) হুজুর কে জড়িয়ে অসত্য, কাল্পনিক অপপ্রচারের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
মূল বিষয় হলো, পলাশবাড়ী উপজেলার ২ নং হোসেনপুর ইউনিয়নের মধ্যরামচন্দ্রপুর (হাসবাড়ী) গ্রামে হরিদাস বাবু তার অর্থায়নে একটা মন্দিরের কাজ করছে,যা এখনো চলমান।তার অর্থের উৎস নিয়ে হাজারো প্রশ্ন থাকতে পারে । কিন্তু পরিকল্পিতভাবে মাননীয় এমপি মহোদয় কে নিয়ে একটা স্বার্থান্বেষী মহল অপপ্রচার চালাচ্ছে। যেহেতু মন্দির টা এমপি সাহেবের ইউনিয়নে সুতরাং বিভিন্ন সামাজিক কাজে মেহমান করলে তাকে দায়িত্বের কারনে যেতে হয়েছে,ভবিষ্যতেও যেতে হতে পারে। ভোটের আগে বা পরে ঐ মন্দিরে বিএনপি জামায়াতের অনেক নেতাই গেছে।যেমন, বিএনপির এমপি প্রার্থী ডাঃ সৈয়দ ময়নুল হাসান সাদিক, বিএনপির এমপি শামীম কায়সার লিঙ্কন এবং জামায়াতের এমপি অধ্যক্ষ মাওলানা মোঃ নজরুল ইসলাম লেবু ইত্যাদি অনেকে।কিন্তু শুধুমাত্র উদ্দেশ্য প্রনোদিতভাবে আমাদের এমপি সাহেব কে নিয়ে অপপ্রচার করা হচ্ছে। এইসব চিহ্নিত স্বার্থান্বেষী মহলের অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।
তার সাথে না বুঝে অনেকে অপপ্রচার চালাচ্ছে।সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশে কারো পাতানো ফাঁদে পা না দিতে সকল কে অনুরোধ জানাচ্ছি।।
