এইদিন আন্তর্জাতিক ডেস্ক,০৩ জুন : জাপানে বসবাসরত পাকিস্তানি প্রবাসীদের জন্য কাওয়াগোয়ে শহরে অবৈধভাবে নির্মিত একটি মসজিদ ভেঙে ফেলবে স্থানীয় প্রশাসন । গত এপ্রিলে মসজিদটির উদ্বোধন করেছিলেন জাপানে নিযুক্ত পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত আবদুল হামিদ৷ কারণ হিসাবে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে এটি জাপানি আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় অনুমতি ছাড়াইনির্মাণ করা হয়েছে।
শহরের পৌর প্রশাসনিক কেন্দ্র কাওয়াগো সিটি হল । অবৈধভাবে নির্মিত মসজিদটির বিষয়ে কর্তৃপক্ষ নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। সিটি হলের এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “ভবনটি (মসজিদ) একটি নগর উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ এলাকায় নির্মাণ করা হয়েছিল, যেখানে নগর পরিকল্পনা আইনের অধীনে নির্দিষ্ট অনুমতি না থাকলে সাধারণত নির্মাণকাজ নিষিদ্ধ।”বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, “মসজিদটি শহরের অনুমতি ছাড়াই নির্মাণ করা হয়েছিল।” এতে আরও বলা হয় যে, সিটি হল কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্টদের সংশোধনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশনা দিতে যথেষ্ট সময় ব্যয় করেছে।সিটি হলের বিবৃতি অনুযায়ী, কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর কাছ থেকে মসজিদটি ভেঙে ফেলার জন্য অনুরোধও পেয়েছে এবং প্রস্তাবটি পর্যালোচনার জন্য গৃহীত হয়েছে।
মসজিদটি অবৈধভাবে নির্মিত হয়েছে বলে প্রকাশ পাওয়ার পর টোকিওতে অবস্থিত পাকিস্তানি দূতাবাস এক অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে পড়েছে । দূতাবাসটি স্পষ্ট করে জানায় যে, জাপানের আইন লঙ্ঘনকারী কোনো প্রকল্পের সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই। দুটি সতর্কতামূলক বিবৃতিতে পাকিস্তানি দূতাবাস পাকিস্তানি সম্প্রদায়ের সদস্যদের জাপানের নিয়মকানুন সম্পূর্ণরূপে মেনে চলার আহ্বান জানায়, বিশেষ করে উপাসনালয় নির্মাণের ক্ষেত্রে।
পাকিস্তান দূতাবাস ১ জুন এক্স-এ এক পোস্টে একথা জানায়,জাপানে বসবাসরত পাকিস্তানি সম্প্রদায়কে পাকিস্তান দূতাবাস আন্তরিকভাবে অনুরোধ ও জোর দিয়ে জানাচ্ছে যে, তারা যেন সকল বিষয়ে, বিশেষ করে উপাসনালয় নির্মাণের ক্ষেত্রে, জাপানের আইন সম্পূর্ণরূপে মেনে চলেন। স্থানীয় সরকারের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় অনুমতি না নিয়ে কোনো নির্মাণ প্রকল্প শুরু করা যাবে না ।
উল্লেখ্য, দূতাবাস জানিয়েছে যে জাপানি আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সকল অনুমোদন পাওয়া গেছে জানার পর রাষ্ট্রদূত আবদুল হামিদ ৩ এপ্রিল মসজিদটির উদ্বোধনে যোগদান করেন।৩১শে মে এক পৃথক বিবৃতিতে জাপানে অবস্থিত পাকিস্তান দূতাবাস বলেছে যে, স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় অনুমতি না নিয়ে কোনো নির্মাণ প্রকল্প শুরু করা উচিত নয়।
জাপানে, উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে প্রায়শই জনমত গ্রহণকে গণ্য করা হয়, বিশেষ করে যখন নতুন কোনো স্থাপনা স্থানীয় এলাকাগুলোকে প্রভাবিত করতে পারে।পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূতের উদ্বোধন করা একটি মসজিদ এখন ভাঙার সম্ভাব্য মুখে পড়েছে, কারণ কর্তৃপক্ষ অনুমোদন সংক্রান্ত নিয়ম লঙ্ঘনের বিষয়টি চিহ্নিত করেছে।বর্তমানে, নগর কর্মকর্তারা মসজিদটির ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করছেন। কাঠামোটি এখনও অক্ষত আছে, কিন্তু এটি থাকবে নাকি ভেঙে ফেলা হবে, তা নগর পরিষদের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।।
