এইদিন ওয়েবডেস্ক,ভাতার(পূর্ব বর্ধমান),০৩ জুন : ব্রেন টিউমার নিয়েই এবারের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় অভূতপূর্ব সাফল্য পেয়েছে পূর্ব বর্ধমান জেলার ভাতাড় থানার বড়বেলুন গ্রামের বাসিন্দা জয় দাস(১৮) । কিন্তু তার শরীরে বাসা বেধে থাকা মারন রোগ শুধু তার উচ্চ শিক্ষাই নয়,জীবনকেও ফেলে দিয়েছে গভীর অনিশ্চয়তার মুখে । এদিকে অভাবের সংসারে ছেলের কিভাবে চিকিৎসা করাবেন সেটাই ভেবে কুলকিনারা পাচ্ছেন না পেশায় রাজমিস্ত্রি বাবা ভোলা দাস । খবর পেয়ে পরিবারটির পাশে দাঁড়িয়েছে বিজেপি নেতৃত্ব । গতকাল মঙ্গলবার, জয় দাসের বাড়িতে দিয়ে তাদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়ে এসেছেন স্থানীয় বিজেপি নেতা রাজকুমার হাজরা । পাশাপাশি ওই মেধাবী পড়ুয়া ও তার পরিবারের সাথে বসে একটি ভিডিও বার্তায় সকলকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য তিনি আবেদন জানিয়েছেন ।
জানা গেছে, বড়বেলুন গ্রামের কলাই ডাঙ্গা দাস পাড়ায় বাড়ি জয় দাসের । বাবা ভোলা দাস রাজমিস্ত্রির কাজ করেন । মা পুতুল দাস গৃহবধূ । দুই ভাইয়ের মধ্যে বড় জয় । দু’ভাইই বড়বেলুন উচ্চ বিদ্যালয়ের পড়ুয়া । ভাই দীপ দাস নবম শ্রেণীর ছাত্র । রাজমিস্ত্রির কাজের উপার্জন থেকে অতিকষ্টে চার জনের সংসারের অন্নসংস্থান ও দুই ছেলের পড়াশোনার খরচ জোটান বাবা ভোলা দাস ।
জানা গেছে,জয়কে ছোট থেকেই মেধাবী ছাত্র হিসাবে চেনে এলাকার বাসিন্দারা । মাধ্যমিকে সফলভাবে উত্তীর্ণ হয়েছিল । এবারের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়েছিল জয়। ষ্টার পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে। কিন্তু উচ্চ শিক্ষার অঙ্গনে প্রবেশের আগেই তার শরীরে ধরা পড়েছে মারণ রোগ ।
জয়ের মা পুতুলদেবী জানান,গত বছরের বৈশাখ মাসে তার ছেলের বমি ও মাথা ঘোরার উপসর্গ ধরা পড়ে । একদিন হঠাৎ তার ছেলে বসে থাকতে থাকতে হঠাৎ একদিকে কাতিয়ে যায়, হাত পা বেঁকে যায়, মুখ দিয়ে লালা বের হতে থাকে এবং চোখ কপালে উঠে অজ্ঞান হয়ে পড়ে যায় । বেশ কিছুক্ষণ অচৈতন্য অবস্থায় ছিল । মাথায় জল ঢেলে ঢেলে ছেলের সম্বিৎ ফিরে আসেনি । স্থানীয় এক চিকিৎসককে দেখানো হলে তিনি ওষুধ দিলে ছেলে কিছুটা সুস্থ হয় । কিন্তু মূল উপসর্গ থেকেই যায় ।

জানা গেছে,উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার আগে থেকেই জয়ের বমি,মাথা ঘোরা ও অজ্ঞান হওয়ার উপসর্গ আস্তে আস্তে বাড়ছিল । অবশেষে কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে কর্মরত এবং বড়বেলুন গ্রামের বাসিন্দা মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডঃ দেবশঙ্কর মুখার্জির কাছে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা করানো হয় জয়কে । তিনি প্রথমে জয়ের সিটি স্ক্যান ও ইইজি করানোর পর তাকে কাউন্সেলিং-এর জন্য পাঠান । তারপরেও ওই পড়ুয়ার উপসর্গ না কমলে এমআরআই করানোর পরামর্শ দেন ডঃ দেবশঙ্কর মুখার্জি । অবশেষে মাস দুয়েক আগে বারাসাতের মধ্যমগ্রামে একটি বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এম আর আই করানো হলে তার ব্রেন টিউমার ধরা পড়ে ।
এদিকে ছেলের ব্রেন টিউমার ধরা পড়ার পর ভেলোরের একটি হাসপাতালের সঙ্গে যোগাযোগ করেন বাবা ভোলা দাস । আগামী ২৩ জুন জয়কে ভেলোরের হাসপাতালে দেখানোর দিন ঠিক হয়েছে বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে । কিন্তু নুন আনতে পান্তা ফুরানো সংসারে কিভাবে ছেলের চিকিৎসা চালাবেন এটাই ভেবে পাচ্ছেন না তিনি । যদিও বিজেপি নেতা রাজকুমার হাজরা পরিবারটিকে আশ্বাস দিয়েছেন যে এই বিষয়ে তিনি দলীয় বিধায়ক সৌমেন কার্ফার সঙ্গে কথা বলবেন ।।
