প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়,বর্ধমান,২৯ মে : বিধানসভা ভোটের ফল ঘোষণার পর থেকে কার্যত গৃহবন্দি রয়েছেন বর্ধমান দক্ষিণের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক খোকন দাস।তবে ঘর থেকে বাইরে না বের হলেও সামাজিক মাধ্যমে তাঁকে নিয়ে এখন চলছে জোর চর্চা। কারণ,মুক্ত বিশ্বকোষ উইকিপিডিয়ায় তৃণমূল জামানার দোর্দণ্ডপ্রতাপ বিধায়ক খোকন দাসকে “গ্যাংস্টার’ ও ’গুণ্ডা’ হিসাবে উল্লেখ করেছে। শুধু তাই নয়,উইকিপিডিয়ার মূল বিবরণে খোকন দাসকে ‘Indian gangster’ বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।তার ’স্ক্রিনশট’ সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হতেই রাজনৈতিক মহলে জোর শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের তৃণমূলের টিকিটে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অংশ নিয়ে খোকন দাস নিজেকে “হেভিওয়েট’ প্রার্থী বলে দাবি করেছিলেন।কিন্তু গত ৪ মে ভোটের ফল ঘোষণা হলে দেখা যায় বর্ধমান দক্ষিণের বিজেপি প্রার্থী মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্রের কাছে ৩০,৪৭০ ভোটে খোকন দাস পরাজিত হয়েছেন। তার পর থেকেই কার্যত গৃহবন্দি হয়ে রয়েছেন তৃণমূল জমানার দোর্দণ্ডপ্রতাপ বিধায়ক খোকন দাস । তবে কেন কি কারণে তিনি গৃহবন্দি হয়ে আছেন তা অবশ্য কারুর কাছেই স্পষ্ট নয়।
এ নিয়ে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মত, নির্বাচনে হার-জিত গণতন্ত্রের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। তবে নির্বাচনের পরেই একজন প্রাক্তন বিধায়কের ’উইকিপিডিয়া প্রোফাইলে’ তাঁকে গ্যাংস্টার ও ‘গুণ্ডা’ হিসাবে উল্লেখ করাটা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে অনেকে মনে করছেন৷
বিষয়টি নিয়ে প্রতিক্রিয়া পাওয়ার জন্য খোকন দাসের মোবাইল ফোনে ফোন করা হলেও ফোন বন্ধ থাকায় তাঁর কোন প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
উইকিপিডিয়ার সংশ্লিষ্ট পাতায় খোকন দাসের পেশার জায়গায় লেখা হয়েছে ‘রাজনীতিবিদ, গুণ্ডা’। ইংরেজি সংস্করণে ব্যবহার করা হয়েছে ‘Politician, Gangster’ শব্দবন্ধ। পাশাপাশি ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS) এবং প্রাচীন ভারতীয় দণ্ডবিধি (IPC)-র একাধিক গুরুতর ধারার উল্লেখ করে দাবি করা হয়েছে, তাঁর বিরুদ্ধে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, মারাত্মক অস্ত্র নিয়ে দাঙ্গা ছড়ানো এবং অপরাধমূলক হুমকির মতো অভিযোগে মামলা রয়েছে।
এমন একটা ঘটনা সামনে আসতেই সামাজিক মাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে।বিজেপি নেতা মৃত্যুঞ্জয় চন্দ্র এই প্রসঙ্গে বলেন,উইকিপিডিয়া যা দিয়েছে তা সত্য। উইকিপিডিয়া তো ভুল দেয় না।তারা সত্যিটাই উল্লেখ করেছে।যদিও তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি,ইকিপিডিয়া একটি ওপেন সোর্স প্ল্যাটফর্ম হওয়ায় সেখানে যে কেউ তথ্য সম্পাদনা করতে পারেন। দলের দাবি, ভোটে পরাজয়ের সুযোগ নিয়ে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতেই বিরোধী শিবিরের কেউ পরিকল্পিতভাবে এই পরিবর্তন ঘটিয়েছে ।।
