এইদিন ওয়েবডেস্ক,কলকাতা,২৬ মে : পুলিশের খাতায় তিনি পলাতক । কিন্তু বারবার তাকে প্রকাশ্যে দেখা গেলেও গ্রেপ্তার করা হচ্ছিল না বলে অভিযোগ উঠছিল । সল্টলেকের দত্তাবাদে স্বর্ণব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যার খুনে অভিযুক্ত রাজগঞ্জের বিডিও প্রশান্ত বর্মণকে অবশেষে পুলিশ ধরলো, তবে হিট এন্ড রান কেসে । সোমবার মাঝরাতে কলকাতার নিউটাউনের ইকোপার্ক থানা এলাকায় মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালাতে গিয়ে এক পথচারীকে ধাক্কা দিয়ে পালানোর সময় স্থানীয়রা প্রশান্ত বর্মণকে ধরে ফেলেন । পরে তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়৷ পরে ওই বিতর্কিত বিডিওকে ইকোপার্ক থানায় নিয়ে যাওয়া হয় ।
আজ মঙ্গলবার সকাল থেকেই একটা ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে । যদিও ভিডিওটির সত্যতা যাচাই করেনি এইদিন। ভিডিওতে প্রশান্ত বর্মণকে অসংলগ্ন অবস্থায় দেখা গেছে । ফুটপাতে বসে যন্ত্রণায় কাতরাতে দেখা যাচ্ছে এক পথচারীকে । তার ডান পায়ের ক্ষতস্থান থেকে রক্ত ঝড়তে দেখা যাচ্ছে । অভিযোগ যে, নিউটাউনের ইকোপার্ক থানা এলাকায় আচমকা তাঁর গাড়ি প্রথমে এক পথচারীকে ধাক্কা মারে। ওই পথচারী ছিটকে কিছুটা দুরে এক স্কুটি চালকের উপরে এসে পড়েন । প্রশান্ত গাড়ি নিয়ে পালানোর সময় ওই স্কুটি চালকই তার গাড়ি ধাওয়া করে ধরে ফেলেন । স্কুটারআরোহী প্রশান্ত বর্মনকে চিহ্নিত করেন এবং পুলিশ ডাকেন । সেই সময় স্কুটি চালককে প্রশান্ত গালিগালাজ করেন বলে অভিযোগ ।
প্রসঙ্গত,গত বছরের ২৯ অক্টোবর নিউটাউন থানার যাত্রাগাছির খালধার থেকে সল্টলেকের দত্তাবাদে স্বর্ণব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যার দেহ উদ্ধার হয়। তাঁকে অপহরণ করে খুন করা হয় বলে অভিযোগ। মৃতের পরিবারের অভিযোগ যে রাজগঞ্জের বিডিও প্রশান্ত বর্মণের বাড়িতে চুরি যাওয়া গহনা কেনার অপরাধে স্বপনবাবুকে পিটিয়ে মেরে ফেলা হয়েছে । ওই খুনের মামলায় মূল আসামি ছিলেন প্রশান্ত বর্মণ । তবে তিনি বারাসত ও বিধাননগর মহকুমা আদালত থেকে আগাম জামিন পেয়েছিলেন । সেই আগাম জামিনের বিরোধিতা করে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় বিধাননগর পুলিশ। আগাম জামিনের নির্দেশ খারিজ করে ২২ ডিসেম্বরের মধ্যে তাঁকে আত্মসমর্পণ করার জন্য নির্দেশ দিয়েছিল হাইকোর্ট। তবে তিনি তা না করায় তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে বিধাননগর আদালত। ওই অবস্থাতেই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন প্রশান্ত। ২৩ জানুয়ারির মধ্যে তাঁকে আত্মসমর্পণ করার নির্দেশ দিয়েছিল বিচারপতি রাজেশ বিন্দল এবং বিচারপতি বিজয় বিষ্ণোইয়ের বেঞ্চ। তারপর থেকে প্রশান্ত নাকি ‘ফেরার’ হয়ে গেছেন বলে দাবি পুলিশের । কিন্তু তাকে একাধিকবার প্রকাশ্যে ঘুরতে দেখা গেছে বলে অভিযোগ ওঠে । এই ঘটনায় পুলিশের ভূমিকাও প্রশ্নচিহ্নের মুখে ফেলে দিয়েছে ।।
