এইদিন ওয়েবডেস্ক,ঢাকা,২৪ মে : বাংলাদেশের ঠিক কি পরিমান করুণ অবস্থা চলছে তা নাটোরের সিংড়ার একটা ঘটনা প্রমান করে দিল । এক গৃহস্থের বাড়িতে ঢুকে সর্বস্ব লুটপাট করে চম্পট দিয়েছিল চোরের দল ৷ পুলিশ বমাল ধরেছিল এক চোরকে । কিন্তু সস্তায় একটা দামি ফ্রিজ পাওয়া যাচ্ছে দেখে সেই লোভ সামলাতে পারেনি সিংড়া থানায় কর্মরত পুলিশের এক সাব-ইন্সপেক্টরের (এসআই) মহম্মদ নজরুল ইসলাম । তিনি সেই চুরির ফ্রিজ অল্প দামে কিনে ছেড়ে দেন তিনি । পুলিশের এহেন কর্মকাণ্ডে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, প্রায় দেড় মাস আগে সিংড়া পৌর এলাকার চাঁদপুর মহল্লার বাসিন্দা জামাল উদ্দিনের মাদকাসক্ত ছেলে মাসুম আলী তার দাদা মুনছের আলীর বাড়ি থেকে একটি ফ্রিজসহ মূল্যবান মালাপত্র চুরি করে।গভীর রাতে ভ্যানগাড়িতে করে ফ্রিজটি নিয়ে যাওয়ার সময় নাটোর-বগুড়া মহাসড়কের মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের সামনে টহলরত এসআই নজরুল ইসলাম ভ্যানটি আটক করেন। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মাসুম পালিয়ে যায়। কিন্তু এসআই নজরুল ইসলাম বাজেয়াপ্ত করা মালাপত্র থানায় জমা না দিয়ে পথচারী দুজনের সহায়তায় নিজের ভাড়া বাড়িতে নিয়ে যান।
প্রত্যক্ষদর্শী সাজু ভুন্ডু ও আবু হানিফ জানান,পরের দিন সকালে অভিযুক্ত মাসুম এসআই নজরুলের বাড়িতে গিয়ে চুরির কথা স্বীকার করে। তখন এসআই নজরুল ১১ হাজার ৫০০ টাকায় ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে চুক্তির মাধ্যমে ফ্রিজটি কিনে নেন।
এদিকে, চুরির ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর ফ্রিজের মালিক মুনছের আলী ও তার পরিবারের সদস্যরা মালাপত্র ফেরত পেতে থানায় যান।
ভুক্তভোগী মুনছের আলী বলেন, আমার নিজের ছোট ভাই আমার বাড়ি থেকে ফ্রিজটি চুরি করেছিল। পরে জানতে পারি, ফ্রিজটি এসআই নজরুল সাহেবের কাছে আছে। আমি থানায় অভিযোগ করে আমার মালাপত্র ফেরত চেয়েছি।মুনছের আলীর মা মর্জিনা বেগম বলেন, আমরা জানতে পারি পুলিশ কর্মকর্তা নজরুল ফ্রিজটি নিয়েছেন। পরে লোকজনের মাধ্যমে টাকা দিয়ে আমাদের ফ্রিজ আমাদেরই ফেরত নিতে হয়েছে। গত শনিবার (২৩ মে) সিংড়া সার্কেল অফিসে একটি আপোস মীমাংসা করা হয় এবং এরপর আমরা ফ্রিজটি ফেরত পাই।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর থেকে অভিযুক্ত এসআই নজরুল ইসলাম আত্মগোপন করেছেন। শনিবার (২৩ মে) সকাল থেকে রাত পর্যন্ত একাধিকবার সিংড়া থানায় গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি।এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিংড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রফিকুল ইসলাম ঢাকা পোস্টকে বলেন, এসআই নজরুল ইসলাম একজনের কাছ থেকে একটি ফ্রিজ কিনে পরে তা আবার ফেরত দিয়ে দেওয়ার কথা শুনেছি। তবে, চুরি হওয়া ফ্রিজ কিনা এ বিষয়ে আমার জানা নেই। এছাড়া এ বিষয়ে কেউ কোনো অভিযোগও জমা দেননি।
অন্যদিকে, অভিযোগ উঠেছে সিংড়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) নূর মোহাম্মদ আলী ভুক্তভোগী পরিবারকে ডেকে দ্রুত ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে একটি আপোস মীমাংসা করে দেন। তবে এএসপি নূর মোহাম্মদ আলী এ বিষয়ে কিছু জানেন না বলে দাবি করে এ বিষয়ে জেলা পুলিশ সুপারের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন।
এ বিষয়ে নাটোরের পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ শরীফুল হক জানান, এমন একটি অভিযোগ পাওয়ার পর সিংড়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর অভিযুক্তের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।।
