গত কয়েকদিন ধরে সোশ্যাল মিডিয়ায় শিরোনামে থাকা তথাকথিত ‘আরশোলা জনতা পার্টি’ (সিজেপি) এখন এক বড় বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছে। অনলাইনে এমন দাবি উঠছে যে, দলটির অধিকাংশ অনুসারী ভারতের নন, বরং পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও তুরস্কের মতো ইসলামি দেশগুলোর। এই তথ্য প্রকাশের পর, দলটির জনপ্রিয়তা প্রকৃত নাকি একটি পরিকল্পিত অনলাইন কৌশল, তা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিতর্ক তীব্র হয়েছে।
বর্তমানে ইনস্টাগ্রাম এবং এক্স-এ (পূর্বতন টুইটার) বেশ কিছু স্ক্রিনশট ভাইরাল হচ্ছে। সেগুলোতে দাবি করা হচ্ছে যে, ‘আরশোলা জনতা পার্টি’ (সিজেপি) -কে যারা দেখে এবং অনুসরণ করে, তাদের অধিকাংশই পাকিস্তান, বাংলাদেশ, তুরস্ক এবং সৌদি আরবের বাসিন্দা। অনেক ইন্টারনেট ব্যবহারকারী অভিযোগ করেছেন যে, দলটির ভারতীয় অনুসারীর সংখ্যা নগণ্য, অপরদিকে বিদেশি অ্যাকাউন্টের সংখ্যা অনেক বেশি।
কিছু ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর মতে, আরশোলা জনতা পার্টির (সিজেপি) মোট অনুসারীর মাত্র ৯ শতাংশ ভারতে রয়েছে। এর বিপরীতে, পাকিস্তান, বাংলাদেশ এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সম্মিলিতভাবে এর ৭০ শতাংশেরও বেশি অনুসারীর অধিকারী।
যদিও এই সংখ্যাগুলোর এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ নেই, তবুও এমন একটি নতুন ব্যঙ্গাত্মক দল কীভাবে এত অল্প সময়ে লক্ষ লক্ষ অনুসারী পেয়ে গেল, তা দেখে মানুষ অবাক হচ্ছে।
ভুয়া অ্যাকাউন্ট ও অপপ্রচারের অভিযোগ
‘আরশোলা জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র বিরুদ্ধে শুধু বিদেশি অনুসারী থাকার অভিযোগই নয়, বরং ভুয়া জনপ্রিয়তা তৈরির জন্য কম্পিউটার সফটওয়্যার বা ‘বট’ অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে। লোকজন বলছেন, ইনস্টাগ্রামে অনুসারীর সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়াটা অস্বাভাবিক। অনেক ব্যবহারকারী একে ‘ডিজিটাল অপপ্রচার’ এবং একটি অনলাইন ষড়যন্ত্র বলে আখ্যা দিয়েছেন।
সোশ্যাল মিডিয়ায় কিছু লোক এও অভিযোগ করেছেন যে, পাকিস্তানপন্থী ও ভারতবিরোধী গোষ্ঠীগুলো দলটিকে প্রচার করছে। এছাড়াও, এটি সামনে এসেছে যে দলটির অনুসারীর সংখ্যা শুধুমাত্র ইনস্টাগ্রামেই দ্রুত বাড়ছে, অথচ টুইটারে এটি একই জনপ্রিয়তা অর্জন করতে পারছে না। এই অসঙ্গতি অনুসারীদের সত্যতা নিয়ে সন্দেহকে আরও গভীর করেছে।
এই দলটি কে চালাচ্ছে?
উল্লেখ্য যে, এই তথাকথিত “আরশোলা জনতা পার্টি” (সিজেপি) শুরু করেছিলেন আম আদমি পার্টির (এএপি) প্রাক্তন সোশ্যাল মিডিয়া কর্মী অভিজিৎ দীপকে। দলটি নিজেদেরকে বেকার যুবক এবং ব্যবস্থার প্রতি হতাশ ব্যক্তিদের কণ্ঠস্বর হিসেবে বর্ণনা করে। অন্যদিকে, সমালোচকরা বলছেন, এটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের মাধ্যমে রাজনৈতিক পরিবেশকে প্রভাবিত ও নিয়ন্ত্রণ করার একটি প্রচেষ্টা মাত্র।
https://x.com/i/status/2057627898228752525
★ ওপি ইন্ডিয়া হিন্দির প্রতিবেদনের অনুবাদ
