বর্তমানে তথাকথিত প্রগতিশীল (Progressive) সমাজে যেটা হারিয়ে যাচ্ছে সেটা হল সম্পর্কের পবিত্রতা । হ্যাঁ….প্রবৃত্তি,ধর্মীয় রীতিনীতি আর কথিত আধুনিকতায় ক্রমশ হারিয়ে যাচ্ছে পিতামাতা-সন্তান বা ভাই-বোনের মত পবিত্র সম্পর্কগুলি । এমনই একটা ঘটনা আজ থেকে ৭ বছর আগে ঘটেছিল আমেরিকায় । নিজের সমকামী ছেলেকে সাহায্য করতে, এক ৬১ বছর বয়সী মা তার ছেলের শুক্রাণু দিয়ে গর্ভধারণ করে নিজের নাতনির জন্ম দিয়েছেন । ২০১৯ সালের ২৫শে মার্চ, ৬১ বছর বয়সী সেসিল এলেজ ওমাহার নেব্রাস্কা মেডিকেল সেন্টারে তার নাতনি উমা লুইস ডোহার্টি-এলেজের জন্ম দেন। সেই কথিত নাতি বা নাতনির আজ বয়স হল ৭ বছর । আমেরিকার নেব্রাস্কার ওমাহা শহরের ঘটনা । উল্লেখ্য যে প্রৌঢ়ার স্বামী কার্কের সম্মতিতেই তিনি নিজের ছেলের সন্তানকে গর্ভে ধারণ করেন । তবে রক্ষণশীল সমাজে এটা অস্বাভাবিক মনে হলেও আমেরিকায় এই ধরনের ঘটনা স্বাভাবিক ।
৩২ বছর বয়সী ম্যাথিউ এলেজ এবং ২৯ বছর বয়সী এলিয়ট ডগার্টি সমকামী পুরুষ দম্পতি । ম্যাথিউর মা সেসিল । নেব্রাস্কার ওমাহাতে বসবাসকারী ম্যাথিউ এবং এলিয়ট যখন সারোগেসির বিকল্পগুলো নিয়ে আলোচনা করতে প্রজনন এন্ডোক্রিনোলজিস্টদের সাথে দেখা করছিলেন, সেই সময় সেসিল এলেজ তার ছেলেকে ঠাট্টার ছলে বলেন : “তুমি যদি চাও আমি গর্ভধারণকারী হতে পারি” । ছেলে ম্যাথিউ এক মুহুর্ত দেরি না করে তার মায়ের প্রস্তাবে রাজি হয়ে যায় ।
ম্যাথিউ-এর শুক্রাণু এবং এলিয়টের বোন লিয়ার ডিম্বাণু ব্যবহার করে ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন পদ্ধতিতে ভ্রূণটি গর্ভধারণ করানো হয়। সমস্ত প্রতিকূলতা সত্ত্বেও, সেসিলের গর্ভধারণে কোনো বড় জটিলতা দেখা দেয়নি এবং তিনি স্বাভাবিকভাবে একটি সুস্থ শিশুর জন্ম দেন।ডঃ ক্যারোলিন মড ডোহের্টির তত্ত্বাবধানে ছেলের সন্তানের জন্ম দেন সেসিল এলেজ৷
সেসিল বলেছিলেন,’আমি একটুও দ্বিধা করিনি। এটা ছিল নিঃশর্ত ভালোবাসা।’ মায়ের বয়সের কারণে ম্যাথিউ প্রথমে সন্দিহান ছিল, কিন্তু পুঙ্খানুপুঙ্খ পরীক্ষার পর ডঃ ক্যারোলিন মড সম্মতি দেন।
ম্যাথিউ এবং এলিয়ট এই জন্মকে একটি “কাব্যিক উৎস-কাহিনী” বলে অভিহিত করেছেন। তারা উমাকে বুঝিয়ে বলেন যে, “আন্টি লিয়া জীবনের বীজ বপন করেছিলেন” এবং “তার ঠাকুমা তাকে বিকশিত হওয়ার জন্য একটি ভালোবাসার বাগান দিয়েছিলেন।”
নিজের ঔরসজাত নাতি বা নাতনিকে গর্ভে ধারণ করার বিষয়ে সেসিলই প্রথম বা এমনকি সবচেয়ে বয়স্ক মহিলা নন যিনি এটি করেছেন। ১৯৮৭ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায়, ৪৮ বছর বয়সী প্যাট অ্যান্থনি তার নিজের ঔরসে জন্ম নেওয়া তিন যমজ নাতি-নাতনির জন্ম দেন—যা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং সারোগেট গর্ভধারণের নৈতিকতা নিয়ে বিতর্কের জন্ম দেয়। যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বজুড়ে আরও অনেক দাদু-ঠাকুমা একই কাজ করেছেন। ৬৭ বছর বয়সী গ্রিক ঠাকুমা আনাসতাসিয়া ওন্তু ২০১৬ সালে তার মেয়ের সন্তানের জন্ম দেন, যার ফলে তিনি বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক সারোগেট মা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।ব্রিটেনের পামেলা বাটলার ৫৭ বছর বয়সে চার দফা ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন (আইভিএফ) চিকিৎসার পর তার নাতির জন্ম দেন । যা ছিল একটি চাপপূর্ণ ও অত্যন্ত ব্যয়বহুল প্রক্রিয়া এবং যেকোনো বয়সেই এটি কঠিন হতে পারে। সাড়ে সাত মাসের গর্ভাবস্থার পর ওন্টুর সি-সেকশন হয়েছিল; জন্মের সময় শিশুটির ওজন ছিল মাত্র ২.১৬ পাউন্ড।
কিন্তু সেসিল তার প্রথম ভ্রূণ প্রতিস্থাপনের পরেই গর্ভবতী হন — এক্ষেত্রে এলিয়টের বোন লিয়া ইরিবে, যাঁর বয়স তখন ২৫, তাঁর দান করা একটি ডিম্বাণু ব্যবহার করা হয় এবং ম্যাথিউয়ের শুক্রাণু দিয়ে নিষিক্ত করা হয়। আর দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে পরিকল্পনা ও প্রস্তুতির পর, ২০১৯ সালের ২৫শে মার্চ সকাল ৬:০৬ মিনিটে তিনি তাঁর প্রথম নাতনি, উমা লুইস ডগার্টি-এলেজকে জন্ম দেন (কোনো সি-সেকশনের প্রয়োজন হয়নি)। ৫ পাউন্ড ১৩ আউন্স ওজনের উমা একটি সুস্থ শিশুকন্যা।।
