পারমিতা দত্ত,নদীয়া,১৯ মে : নদীয়ার শান্তিপুরের একটি বেসরকারি লজের ঘরের ভেতর এক তরুনীর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে । খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা । পুলিশ মৃতদেটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রানাঘাট পুলিশ মর্গে পাঠায় । পুলিশ জানিয়েছে, মৃতার নাম শেফালী মন্ডল । তার বাড়ি পূর্ব বর্ধমান জেলার অম্বিকা কালনায় । এদিকে তরুনীর গলার ফাঁস ও বিছানায় পা ভাঁজ করা অবস্থায় থাকায় এটিকে খুন বলে সন্দেহ করছে অনেকে । পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারন জানা যাবে ।
জানা গেছে,শান্তিপুর স্টেশন সংলগ্ন শান্তিপুর পৌরসভার দু নম্বর ওয়ার্ডের কৃষ্ণনগর রোড গোডাউন পাড়া এলাকার কল্যাণী লজ নামে একটি বেসরকারি লজের ৮ নম্বর ঘরে ছিলেন ওই তরুনী । লজ মালিক শ্যামল বসাকের কথায়,গতকাল বিকেল নাগাদ ওই তরুনী তার লজে এসে ঘরভাড়া যায় । নাম বলে শেফালী মন্ডল । বাড়ি পূর্ব বর্ধমান জেলার অম্বিকা কালনায় । তিনি বলেন,’মেয়েটি আমায় বলে সে দিল্লিতে কাজের সন্ধানে গিয়েছিল । সেখান থেকে বাড়ি ফিরছে । যোগাযোগের সমস্যার কারনে বাড়ি ফিরতে পারছে না৷ পরের দিন সকালেই ঘর ছেড়ে দেবে ৷’ তিনি বলেন,’অল্প বয়সী মেয়ে বলে আমি না করতে পারিনি । সেই কারনে আরও এক মহিলা ভাড়াটিয়ার ঘরের পাশে মেয়েটির থাকার ব্যবস্থা করি । ওই মহিলার সঙ্গে তার আলাপও করিয়ে দিই যাতে মেয়েটি একা না অনুভব করে ।’
জানা গেছে,এদিন অনেক সকাল পর্যন্ত তরুনী ঘর খুলছে না দেখে লজ মালিক শ্যামল বসাক দু’তলা লজের উপর তলার ৮ নম্বর ঘরের দরজার কড়া নাড়েন । কিন্তু ঘরটি ভিতর থেকে বন্ধ ছিল । সাড়াশব্দ না পেয়ে তিনি পাশের ঘরে থাকা মহিলাকে ডেকে আনেন । অনেক ডাকাডাকি করেও তরুনী ঘর না তখন জানালা দিয়ে উঁকি দিলে তরুনীকে ঘরের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলতে দেখা যায় ।
জানা গেছে,তরুনীর দু’পা খাটে ভাঁজ করা ছিল । ওড়নার ফাঁসটি ছিল গলার দিকে । যেকারণে ওড়নাটি শ্বাসনালীর পরিবর্তে ঘাড়ের দিকে চেপে ধরে ছিল । আর এর ফলেই তরুনীর মৃত্যু নিয়ে রহস্য দানা বেঁধেছে । তরুনীর পাশের ঘরে থাকা মহিলা বলেন, ‘আমি মেয়েটিকে চিনি না । লজ মালিক পরিচয় করে দিয়েছিলেন । আমি তাকে বোন বলছিলাম,আর সে আমায় দিদি বলে ডাকছিল ।’ তার দাবি,’রাতে দু’জনে রুটি তরকারি এনে খাই । ওর ঘরে গিয়ে রাত্রি প্রায় ১১ টা পর্যন্ত গল্প করি । তারপর আমি আমাএ ঘরে এসে শুয়ে পড়ি । সেই সময় মেয়েটিকে কাউকে ফোন করে কাঁদতে কাঁদতে বলতে শুনি, “মাকে দেখিস”৷ তারপরে কিভাবে এই ঘটনা ঘটে গেল আমি কিছুই বুঝতে পারছি না ।’ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ ।।
