এইদিন আন্তর্জাতিক ডেস্ক,১৮ মে : ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন বেশ কয়েকটি শহরের মসজিদে নারী-পুরুষদের অস্ত্র প্রশিক্ষণ নিতে দেখানো হয়েছে। এটিকে জাতীয় প্রতিরক্ষার জন্য জনগণের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। শনিবার (১৬ মে, ২০২৬) সম্প্রচারিত প্রতিবেদন অনুসারে, আহভাজ, কেরমান, বিজার, শিরাজ এবং জাহেদানের মসজিদগুলোতে বিপুল সংখ্যক মানুষকে দেখা গেছে। এ সময় কিছু লোককে অস্ত্র নিয়ে এবং একসাথে অনুশীলন করতে দেখা যায়। সংবাদ প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে যে, নারী, পুরুষ, যুবক এবং কিশোর-কিশোরীদের আত্মরক্ষার জন্য এই ধরনের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের তথ্যমতে, প্রশিক্ষণ চলাকালীন অংশগ্রহণকারীদের বিভিন্ন হালকা অস্ত্রের সাথে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয় এবং সেগুলো কীভাবে কাজ করে, আর কীভাবে জোড়া লাগাতে ও খুলতে হয়, তা শেখানো হয়।
এর আগে, শুক্রবার রাতে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন বেশ কয়েকটি অনুষ্ঠান সম্প্রচার করে, যেখানে উপস্থাপকদের স্টুডিওতে রাইফেল বহন করতে দেখা যায়। তারা জানান, তারা অস্ত্র ব্যবহারের প্রাথমিক প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন এবং প্রয়োজনে যুদ্ধে অংশগ্রহণের জন্য প্রস্তুত থাকবেন। শুক্রবার এই ধরনের তিনটি অনুষ্ঠান সম্প্রচার করা হয়েছিল। ইরানের গণমাধ্যমগুলোও সেগুলো দেখিয়েছিল, যা অনলাইনে প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে । কিছু সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারকারী এই পর্বগুলোকে যুদ্ধের প্রস্তুতি হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন।
ইরানের প্রতি দৃঢ় সমর্থন এবং ইসরায়েলের বিরোধিতার জন্য পরিচিত আমেরিকান রাজনৈতিক ভাষ্যকার ও ইনফ্লুয়েন্সার জ্যাকসন হিঙ্কল এক্স-এ লিখেছেন যে, ইরানের রাষ্ট্রীয় টিভি একটি একে-৪৭ রাইফেল কীভাবে ব্যবহার ও পরিচালনা করতে হয় তা প্রদর্শন করছিল। তিনি এটিকে “মার্কিন স্থল আক্রমণের প্রস্তুতির” একটি প্রতিক্রিয়া হিসেবে বর্ণনা করেছেন। অস্ত্র ও যুদ্ধ-সম্পর্কিত ভিডিওর উপর আলোকপাত করে আর একটি বিবরণে বলা হয়েছে, ইরানের টিভি চ্যানেলগুলো অস্ত্র ব্যবহারের প্রাথমিক নির্দেশনা প্রদান করছিল। এতে আরও জানানো হয় যে, প্রদর্শিত রাইফেলটি পূর্ব জার্মানির প্রথম দিকের এমপিআই-কেএমএস অ্যাসল্ট রাইফেল বলে মনে হচ্ছে।
ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে নতুন করে যুদ্ধ শুরু হওয়ার আশঙ্কার মধ্যে এই ধরনের ভিডিওগুলো ইরানের ব্যাপক প্রস্তুতিকে তুলে ধরে।।
