যৌন মিলনে সুরক্ষা ও পরিবার পরিকল্পনার জন্য কনডমের ব্যবহার প্রতিটি ঘরেই প্রচলিত। যাঁরা তাড়াতাড়ি সন্তান চান না, তাঁরাই সবচেয়ে বেশি কনডম ব্যবহার করেন। সাধারণত কনডমের কোনো ঘাটতি হয় না, কিন্তু বিশ্বের একটি দেশে এই গর্ভনিরোধক সামগ্রীটির ঘাটতি দেখা দিয়েছে এবং এর ফলে জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও যৌনবাহিত রোগের ভয় ছড়িয়ে পড়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও এই বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। কারণ কনডম ব্যবহার না করার ফলে অনাকাঙ্ক্ষিত সন্তানের জন্ম হতে পারে।
আফ্রিকার দেশ কেনিয়ায় কনডমের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। কেনিয়া মেডিকেল সাপ্লাই অথরিটি এক জরুরি প্রতিবেদনে জানিয়েছে যে, দেশে কনডমের মজুত খুবই কম। একটি টিভি চ্যানেল এ বিষয়ে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, যেখানে বলা হয়েছে যে এমনকি অভিজাত এলাকায় বসবাসকারী মানুষেরাও কনডম কম ব্যবহার করছেন। তরুণী মায়েরা বলছেন, তারা অপরিকল্পিত গর্ভধারণের ভয়ে প্রতিনিয়ত আতঙ্কে থাকেন; এই মানসিক চাপ শুধু তাদের ব্যক্তিগতই নয়, বরং তা তাদের দাম্পত্য জীবনকেও ভাঙনের দ্বারপ্রান্তে ঠেলে দিচ্ছে।
কেনিয়ার প্রতি বছর আনুমানিক ৪০ কোটি কনডমের প্রয়োজন, কিন্তু উপলব্ধ আছে মাত্র ১৫ কোটি। দাতা সংস্থাগুলোর অর্থায়ন হ্রাস এবং বিনামূল্যে বিতরণ স্থগিত করার ফলে একটি গুরুতর ঘাটতি দেখা দিয়েছে। কনডমের এই ঘাটতি এইচআইভি, এইডস এবং গনোরিয়ার মতো যৌনবাহিত রোগের ঝুঁকি বাড়ানোর পাশাপাশি অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণের ঘটনাও বাড়িয়ে দিয়েছে। অন্যদিকে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও কনডমের ঘাটতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং কনডম সহজলভ্য করার উদ্যোগও শুরু করেছে।
কনডমের ঘাটতির কারণে মানুষ অরক্ষিত যৌনমিলনে লিপ্ত হচ্ছে, যার ফলে নারীরা তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে সন্তানের জন্ম দিচ্ছে। এর ফলে বিশ্বের জনসংখ্যাও বৃদ্ধি পাচ্ছে, যাকে কেবল একটি ভয়াবহ বিষয় হিসেবেই আখ্যায়িত করা যায়।
ভারতে কনডমের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে ভারতে কনডমের দাম বেড়ে গিয়েছে । কনডম তৈরির কাঁচামালের সরবরাহ শৃঙ্খল ব্যাহত হওয়ায় উৎপাদন খরচ বেড়ে গেছে । এর ফলে দেশে কনডমের দাম ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে ।
কনডম যেভাবে তৈরি হয়
(১) প্রাকৃতিক ল্যাটেক্স: এটি কনডমের প্রধান উপাদান, যা রাবার গাছ থেকে পাওয়া যায়।
(২) অ্যামোনিয়া: ল্যাটেক্সকে স্থিতিশীল রাখতে প্রয়োজন। ভারত তার চাহিদার ৮৬ শতাংশ সৌদি আরব, কাতার এবং ওমানের মতো দেশ থেকে আমদানি করে।
(৩) সিলিকন তেল: কনডমকে পিচ্ছিল করে। এটি প্রধানত চীন থেকে আসে এবং এর দাম আকাশছোঁয়া।
(৪) সালফার এবং জিঙ্ক অক্সাইড: এই রাসায়নিক যা কনডমকে শক্তিশালী করে, সেটিও ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে।
(৫) ফ্লেভার এবং রং: বিশ্বব্যাপী সরবরাহ ব্যবস্থার প্রতিবন্ধকতার কারণে এর সরবরাহও প্রভাবিত হয়েছে।।
