এইদিন ওয়েবডেস্ক,কলকাতা,১৬ মে : মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আরজি করের তরুনী চিকিৎসক অভয়ার ধর্ষণ বা গনধর্ষণ-খুন মামলার ফাইল খোলার কথা ঘোষণা করতেই রহস্য ক্রমশ ঘনীভূত হচ্ছে । এই মামলায় ইতিমধ্যেই কলকাতার তৎকালীন পুলিশ কমিশনার বিনীত গোয়েল এবং দুই ডেপুটি কমিশনার ইন্দিরা মুখার্জি ও অভিষেক গুপ্তাকে সাসপেন্ড করেছেন মুখ্যমন্ত্রী । এরই মাঝে আরজি কর কান্ডে একমাত্র সাজাপ্রাপ্ত আসামি সঞ্জয় রায় আজ চিৎকার করে সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরার সামনে দাবি করেন,আরজি করের অভয়ার ধর্ষণ- খুনের ষড়যন্ত্র করেছিল বিনীত গোয়েল এবং একজন ডিসি । তবে সে ওই ডিসির নাম বলার আগেই তাকে নিয়ে প্রিজন ভ্যান চলে যায় । এদিকে তমলুকের বিজেপি সাংসদ অভিজিৎ গাঙ্গুলিও একটি চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন । তার দাবি, আর জি কর ধর্ষণ-খুন মামলার তদন্ত প্রক্রিয়াকে ভিন্ন দিকে পরিচালিত করাছেন সিবিআইয়ের তদন্তকারী আধিকারিক সীমা পাহুজা৷ তাকেও অভিযুক্ত করে তদন্ত পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন তিনি ।
আজ শনিবার আর জি কর মেডিকেল কলেজের ধর্ষণ ও হত্যায় অভিযুক্ত সঞ্জয় রায়কে শিয়ালদহ আদালতে তোলা হয় । আদালত থেকে প্রিজন ভ্যানে নিয়ে যাওয়ার সময় সে চিৎকার করে বলে,’আমি আপনাদের বলছি—কলকাতার প্রাক্তন পুলিশ কমিশনার বিনীত গোয়েলই আর জি করের রেসিডেন্ট ডাক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যার ষড়যন্ত্র করেছিলেন এবং আমাকে ফাঁসিয়েছিলেন ।’ সঞ্জয় একজন ডিসি-এর কথাও বলে । কিন্তু তার কথা সম্পূর্ণ হওয়ার আগেই ভ্যান ছেড়ে ।
অন্যদিকে আজ আরজি করের অকুস্থল পরিদর্শনে গিয়েছিলেন সাংসদ অভিজিৎ গাঙ্গুলি । পরিদর্শনের পর ফেরার সময় তিনি একটি নিউজ চ্যানেলের ক্যামেরার সামনে বলেন,’আমি যেটা জানতে পেরেছি, সিবিআইয়ের তদন্তকারী আধিকারিক যিনি ছিলেন, সীমা পাহুজা, দুটো গুরুত্বপূর্ণ ভুল করেছেন । একটা ঘর, যেটা দু’বছর ধরে বন্ধ আছে, যেখান থেকে গুরুত্বপূর্ণ কিছু সূত্র পাওয়া যেতে পারে, এই ঘরটা তিনি খোলেননি । কেউ খোলেনি৷ আমি নিজে গিয়ে দেখে এলাম । সেটা এখনো তালা বন্ধ এবং সিল করা৷ এটাই দেখতে এসেছিলাম যে সত্যি এই ধরনের কোন ঘর আছে কিনা ।’
তিনি বলেন,’দ্বিতীয় হচ্ছে একটা সিঁড়ি। আন্দাজ করা হচ্ছে, অভয়া যেদিন খুন হয় সেদিন রাতে সেই সিঁড়ি দিয়ে একটা মৃতদেহ নামানো হয়েছিল । সেই ভিডিও তুলেছিলেন একজন নার্স । কিন্তু সিবিআই আধিকারিক সীমা পাহুজা তার কাছ থেকে ভিডিওটা নিয়ে নেন এবং হুমকি দেন যে আপনি ভিডিওটা মুছে দিন না হলে বিপদে পড়বেন । কে আর বিপদে পড়তে চায় ? ওই নার্স নিজের ভিডিওটা মুছে দেন । তার আগে কপিটা দিয়ে দেন সিবিআই আধিকারিক সীমা পাহুজাকে । তারপর থেকে ওই ভিডিও কখনো সর্বসমক্ষে আসেনি। এইটা প্রকাশ করতে হবে ।’ তিনি বলেন,’অভয়ার মৃত দেহ টা যে ঘরে পাওয়া যায় সিড়িটা ঠিক তার সামনে দিয়ে গেছে । এসব কিছুই সিবিআই দেখেনি ।’ তিনি বলেন, আমি সিমা পাহুজাকে অভিযুক্ত করছি এবং তাকে অভিযুক্তের তালিকায় ধরতে হবে এবং এই মামলায় জুড়তে হবে ।’ গতকাল মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান যে এই মামলায় বিনীত গোয়েল,ইন্দিরা মুখার্জি ও অভিষেক গুপ্তার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট খতিয়ে দেখা হবে৷ তারা মমতা ব্যানার্জি বা অন্য কোনো নেতার বা মন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছিল কিনা তা খতিয়ে দেখা হবে বলে জানান তিনি । এখন দেখার বিষয় যে আরজি কর কান্ড কোন দিকে মোড় নেয় ।।
