এইদিন বিনোদন ডেস্ক,১৬ মে : ভারত বিদ্বেষী ও পাকিস্তানপ্রেমি বাংলাদেশি অভিনেত্রী ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর কারিনা কায়সার(Karina Kaisar) চেন্নাইয়ের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন । এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, ২০২৪ সালে বাংলাদেশে শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের লক্ষ্যে মার্কিন ‘ডিপ স্টেট’ এবং পাকিস্তানের আইএসআই-এর ষড়যন্ত্রে কারিনা সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছিলেন। শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতি পরবর্তী সময়ে, কারিনা এবং তার পরিবার প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন থেকে মূল্যবান সামগ্রী চুরির ঘটনায় অংশ নিয়েছিলেন। এরপর থেকে তিনি ভারতের বিরুদ্ধে—এমনকি হিন্দুদের বিরুদ্ধেও— অপপ্রচার অব্যাহত রাখেন।
ফুসফুসের জটিলতা ও লিভারের সংক্রমণে আক্রান্ত হয়ে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য গত ১১ মে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে চেন্নাইতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। শুক্রবার রাতে সেখানেই তার মৃত্যু হয়।
তার বাবা ও বাংলাদেশের জাতীয় ফুটবল দলের প্রাক্তন খেলোয়াড় কায়সার হামিদ শুক্রবার রাতে এক ফেসবুক পোস্টে কারিনার মৃত্যুর খবর দিয়েছেন।তিনি লিখেছেন, “অত্যন্ত দুঃখের সাথে জানাচ্ছি যে আমার প্রাণপ্রিয় আদরের মেয়ে কারিনা kaarina kaisar একটু আগে চেন্নাইতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আমাদের ছেড়ে ওপারে চলে গেছে।আমার মেয়ের কোনো ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে কিংবা কাউকে কষ্ট দিয়ে থাকলে আপনারা তাকে ক্ষমা করে দিবেন। যারা এই দুঃসময়ে আমাদের পাশে ছিলেন, দোয়া করেছেন, সহযোগিতা করেছেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।”
কায়সার হামিদ গ্লিটজকে বলেন, “রাত ১ টার দিকে চেন্নাইয়ে মারা যায়। হঠাৎ করেই ওর ব্লাড প্রেশার কমে গিয়েছিল। পরে তা আর নিয়ন্ত্রণে আসেনি।”
মৃতদেহ দেশে আনার বিষয়ে তিনি বলেন, “এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি। আগামীকাল হাসপাতাল থেকে রিলিজ নিয়ে কীভাবে দেশে আনা যায় সেই ব্যবস্থা করা হবে।”
লিভারের জটিলতা নিয়ে এক সপ্তাহের বেশি সময় ঢাকার একটি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন কারিনা। অবস্থার অবনতি হলে তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয় চেন্নাইয়ের ভেলোরের খ্রিষ্টান মেডিক্যাল কলেজ (সিএমসি) হাসপাতালে।
বুধবার চেন্নাই থেকে কারিনার মা লোপা কায়সার জানিয়েছিলেন, লিভার প্রতিস্থাপন বা বড় ধরনের অস্ত্রোপচারের ধকল নেওয়ার মত শারীরিক অবস্থায় কারিনার নেই বলে চিকিৎসকরা তাদের জানিয়েছেন।
কারিনার ফুসফুসে অনেকটা তরল ও কফ জমে গিয়েছিল। তাই সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে এনে তাকে স্থিতিশীল করার দিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছিলেন চিকিৎসকরা। তবে অস্ত্রোপচরের পর্যায়ে আর যেতে পারেননি তারা।
কারিনা কায়সার কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে পরিচিতি পেলেও গত কিছুদিন ধরে তিনি অভিনয়ে নিয়মিত হচ্ছিলেন। অভিনয়ের পাশাপাশি চিত্রনাট্যকার হিসেবেও কাজ করছিলেন ।তার কিছু কাজের মধ্যে রয়েছে ‘ইন্টার্নশিপ’ ও ‘৩৬-২৪-৩৬’। ২০২৪ সালে শেখ হাসিনাকে উৎখাতের সময় তার ভারত ও হিন্দুদের প্রতি ঘৃণা ও পাকিস্তানের প্রতি অসীম প্রেমের বহিঃপ্রকাশ ঘটে । ঢাকায় শেখ হাসিনার লুটপাটেও সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন ওই মহিলা।।
