এইদিন ওয়েবডেস্ক,জলপাইগুড়ি,১৪ মে : রাজ্যে এখন বিজেপির সরকার । দিকে দিকে দলবদল করার জন্য মুখিয়ে আছে প্রাক্তন শাসকদল তৃণমূলের নেতাকর্মীরা । কিন্তু বর্তমান শাসকদল বিজেপি বর্তমানে ঢোকার রাস্তা বন্ধ করে রেখেছে । ফলে প্রবনতা বাড়ছে বিশ্বহিন্দু পরিষদ,বজরং দল প্রভৃতি হিন্দুত্ববাদী সংগঠনে যোগদানের । আর সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ওই সমস্ত হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলির সদস্যপদ পাইয়ে দেওয়ার নামে টাকা তোলার অভিযোগে গ্রেপ্তার হতে হল জলপাইগুড়ি জেলার ময়নাগুড়ির তৃণমূল নেতা তপন মজুমদারকে । সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে বুধবার তাকে গ্রেপ্তার করেছে ময়নাগুড়ি থানার পুলিশ ।
জানা গিয়েছে,ময়নাগুড়ির উত্তর সাপটিবাড়ির বাসিন্দা তপন মজুমদার আগে তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন । ২০১৮ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ময়নাগুড়ি পঞ্চায়েত সমিতির তৃণমূল সদস্য এবং স্বাস্থ্য কর্মাধ্যক্ষ পদে ছিলেন তিনি । বিধানসভার নির্বাচনের ঠিক আগে তিনি দল বদল করে বিজেপিতে যোগ দেন । ভোটের ফলাফল ঘোষণার পর স্থানীয় বহু তৃণমূল নেতাকর্মী বিজেপিতে যোগ দেওয়ানোর জন্য তপন মজুমদারের শরণাপন্ন হয় । কিন্তু রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য দলে ‘নো এন্ট্রি’ করে দিলে তিনি তাদের যোগ দেওয়াতে পারেননি । তাই ঘুরপথে বিজেপিতে যোগ দেওয়ানোর জন্য বিশ্বহিন্দু পরিষদ,বজরং দল প্রভৃতি হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের সদস্য বানানোর ব্যাবসা ফেঁদে বসেন ওই তৃণমূল নেতা । তপন মজুমদারের বিরুদ্ধে অভিযোগ যে বিশ্বহিন্দু পরিষদ এবং বজরং দল প্রভৃতি হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলির সদস্যপদ পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে কয়েক জনের কাছ থেকে ২০-৩০ হাজার টাকা করে দাবি করেছেন । কিন্তু বিশ্বহিন্দু পরিষদ নেতৃত্ব বিষয়টি জানতে পেরে যায় ।
মঙ্গলবার বিশ্বহিন্দু পরিষদের পক্ষ থেকে ময়নাগুড়ি থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। বুধবার অভিযুক্ত তপন মজুমদারকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ । তাকে জলপাইগুড়ি আদালতে ২০ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন বিচারক।
যদিও আদালতে পেশের আগে অভিযুক্ত তপন মজুমদার তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেন ।অন্যদিকে, বিশ্ব হিন্দু পরিষদের জলপাইগুড়ি জেলা নেতৃত্ব অভিযুক্তের কড়া শাস্তির দাবি জানিয়েছে । তারা জানিয়েছেন,তাদের সংগঠনে যোগ দেওয়ার নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। তবে এজন্য কোনো অর্থ দিতে হয় না।।
