এইদিন ওয়েবডেস্ক,ইন্দোর,১৩ মে : মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরে “নবীন” সেজে হিন্দু মহিলাকে প্রেমের ফাঁদে ফেলেছিল নাভেদ । তারপর তাকে জোর করে ধর্মান্তরিত করা হয় এবং দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে নির্যাতন করা হয় । ভুক্তভোগী মহিলা জানান যে, তাঁকে পাঁচবার নিকাহ এবং তিনবার হালালা করতে বাধ্য করা হয়েছিল। প্রতিবাদ করলে তাঁকে বিবস্ত্র করে মারধর করা হয়। ভুক্তভোগী মহিলা উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদে পুলিশের কাছে একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।
গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, ৩১ বছর বয়সী হিন্দু ভুক্তভোগী মহিলা তাঁর অভিযোগে জানিয়েছেন যে, ২০১২ সালে ফেসবুকে মুজাফফরনগরের এক যুবকের সাথে তাঁর বন্ধুত্ব হয়,যে নিজের পরিচয় দেন নবীন রানা হিসেবে। ২০১৩ সালে নবীন তাঁকে দিল্লিতে ডেকে পাঠায়। সে তাঁকে দিল্লি থেকে মুজাফফরনগরের ফালাতের একটি মাদ্রাসায় নিয়ে যায়। সেখানে ভুক্তভোগী মহিলা জানতে পারেন যে নবীনের আসল নাম নাভেদ।
ভুক্তভোগীকে মাদ্রাসায় পনবন্দি করে রাখা হয়েছিল। ফালাতের মাওলানা কালিম জোর করে তাকে ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তরিত করে এবং বোরকা পরতে বাধ্য করে । প্রতিবাদ করলে ভুক্তভোগীকে মারধর করা হয়। এরপর তাকে মিরাটের একটি মাদ্রাসায় ৬ মাস রাখা হয় এবং তারপর ফালাতের সেই মাদ্রাসায় ফিরিয়ে আনা হয়। এখানে ভুক্তভোগীর সাথে তার চেয়ে ২৫ বছরের বড় মাওলানা আবদুর রহমানের জোর করে বিয়ে দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগী জানান যে, আবদুর রহমান তাকে প্রতিদিন ধর্ষণ করত এবং প্রতিবাদ করলে তাকে বিবস্ত্র করে মারধর করত। আবদুর রহমান তাকে বোরকা পরতে ও নামাজ পড়তে চাপ দিত। দুই মাস পর, সে তাকে তিন তালাক দিয়ে ছেড়ে দেয়।
আবদুর রহমানের কাছ থেকে তিন তালাক পাওয়ার পর, ভুক্তভোগীকে খালাতের একটি মাদ্রাসায় তিন মাসের ইদ্দত পালনে রাখা হয়েছিল। এরপর তাকে জয়পুরের একটি মাদ্রাসায় নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে পাঁচ দিন ধরে তার হালালা চলে এবং তাকে ধর্ষণ করা হয়। এর কিছুদিন পর, তাকে শামলিতে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে ২০১৫ সালে মুদাসিরের সাথে তার দ্বিতীয়বার বিয়ে হয়। বিয়ের পর ভুক্তভোগীকে গুজরাটে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে, মুদাসির ২০১৯ সালে মারা যায় ।
এরপর, ক্বারী আসলাম নামের এক মাওলানার দ্বারা ভুক্তভোগী প্রতারিত হন। তিনি তাকে দিল্লির শাহীনবাগের একটি মাদ্রাসায় নিয়ে যায় । সেখান থেকে সে তাকে বাগপতে নিয়ে যায় এবং খালিদ হুসেনের সাথে তার তৃতীয় বিয়ের ব্যবস্থা করে । খালিদ তাকে গাজিয়াবাদে নিয়ে আসে, যেখানে খালিদের পরিবার তার উপর নির্যাতন চালায়। ২০২২ সালে খালিদ তাকে তালাক দেয়।
তবে, তার মায়ের জেদের কারণে খালিদ আবার তাকে তালাক দেওয়ার হুমকি দেয় এবং হালালার জন্য বাগপতে নিয়ে যায়। সেখানে খালিদ তার শ্যালক ফকরুদ্দিনের সাথে তার চতুর্থ বিয়ের ব্যবস্থা করে। এরপর খালিদ ও তার ভাই সাকিব মিলে তাকে গণধর্ষণ করে। ফকরুদ্দিন তাকে তালাক দেয় এবং খালিদকে ত্যাগ করতে বলে। এরপর ভুক্তভোগীর পঞ্চম বিয়ে হয় খালিদের সাথে।
খালিদ প্রতিদিন ভুক্তভোগীকে যৌন হয়রানি করত । তিনি তার কবল থেকে পালিয়ে বিজেপি বিধায়ক নন্দ কিশোরের কাছে পৌঁছাতে সক্ষম হন। তাঁর সাহায্যে ভুক্তভোগী ২০২৬ সালের ৫ই মে অঙ্কুর বিহার থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন।
ভুক্তভোগী তাঁর অভিযোগে নবীন ওরফে নাভিদ, মাওলানা কালিম সিদ্দিকী, তাঁর স্ত্রী ও পুত্রবধূ, আব্দুল রহমান, মাওলানা বিলাল, ক্বারী আসলাম, হাফিজ নবাব, মাওলানা রশিদ, ফখরুদ্দিন, মাওলানা ফুরকান কোরেশী, খালিদ হুসেন এবং শাকিবসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ অভিযুক্ত খালিদ হুসেনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠিয়েছে। তারা অন্য অভিযুক্তদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।।
