পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই বাংলাদেশের উগ্রপন্থী ইসলামি গোষ্ঠীগুলির নেতাদের ভারতকে হুমকি দেওয়া একের পর এক ভিডিও সামনে আসছে । তার মধ্যে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে, যেখানে একজন বাংলাদেশী ইসলামি উগ্রপন্থী নেতাকে ভারত ও হিন্দুদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে হুমকি দিতে দেখা গেছে।ভারতে মুসলমানরা নির্যাতিত হচ্ছে দাবি করে তিনি বলেন যে, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, প্রধানমন্ত্রী মোদী, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রী নায়াব সিং সাইনি, আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা এবং উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ-কে মুসলমানদের কাছে ক্ষমা চেয়ে তাদের সম্মান দিতে হবে । জানা গেছে, এই ইসলামি ধর্মপ্রচারক ‘ইনসাফ কায়ামকারী ছাত্র শ্রমিক জনতা’ নামক একটি উগ্রপন্থী সংগঠনের নেতা।
ভিডিওটিতে তাকে পাকিস্তান ও ভারতের মুসলমানদের সাহায্যে ভারতকে আক্রমণ করার কথা বলতে দেখা যায়। তিনি বলেন : “মানবতা কোথায় বলুন । কোথায় মানবাধিকার কমিশন ? কোথায় জাতিসংঘের মানবাধিকার ? কেন কথা বলিস না ? তার মানে মানবাধিকার আসলে মুসলমানদের উপর জুলুম করার অধিকার ? এটা আমরা বুঝি ।
আমরা মনে করি মানবাধিকার মানে হচ্ছে কোরান সুন্নতের আইন । কোরান সুন্নতের আইন অনুযায়ী পৃথিবীর সমস্ত মুসলমান ভাই ভাই । তাই পশ্চিমবঙ্গে যে মুসলমানকে শহীদ করা হচ্ছে, যে মুসলমান বোনের সম্ভ্রমহানি করা হচ্ছে, সেই বোন আমার বোন । যার রক্ত ঝরানো হচ্ছে তার রক্ত আপনার, রক্ত আমার রক্ত । যে মসজিদ ধ্বংস হচ্ছে সেগুলো আপনার আমারও মসজিদ । আমরা এটা বরদাস্ত করবো না । বাংলাদেশ সরকারকে অবশ্যই অবশ্যই অবশ্যই আজকে এই মুহূর্তে ভারতকে নিন্দাবাদ জ্ঞাপন করতে হবে । এবং হুশিয়ার করতে হবে মোদিকে । যদি ঝুলুম বন্ধ না হয় তাহলে ভারত অভিযান করা হবে, ইনশাআল্লাহ ।
পাকিস্তানকে আমরা আহ্বান জানাবো, আমরা আছি । ভারত দখল করতে আমাদের মাত্র তিন ঘন্টা সময় লাগবে না । এই ভারতের ২৬ টা প্রদেশ গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে, ইনশাআল্লাহ । আর ভারতের যে মুসলমান আছে তারাই কিন্তু যথেষ্ট । ৪০ কোটি মুসলমান যুক্ত হলে ভারতের হিন্দুরা থাকতে পারবে না । তাই মুসলমানদের রক্তে আগুন লাগাবেন না ।
অতি শীঘ্রই শুভেন্দু কে মুসলমানদের কাছে মাফ চাইতে হবে । মোদিকে মাফ চাইতে হবে । রাজনাথ সিং কে মাফ চাইতে হবে । হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রী, এই হেমন্তকে মাফ চাইতে হবে । ওই যোগী আদিত্যনাথ কে মাফ চাইতে হবে। মুসলমানদের কাছে মাফ চেয়ে, ক্ষমা চেয়ে সম্মান দিতে হবে । নতুবা তাদেরকে কঠিন বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে এবং কোরান শরীফ অনুযায়ী তাদের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড বাস্তবায়ন হবে, ইনশাআল্লাহ ।”
পাশাপাশি গতকাল বাংলাদেশের খিলাফতপন্থী রাজনৈতিক দল ‘বাংলাদেশ খিলাফত মজলিস’ পশ্চিমবঙ্গ ও আসামে সংখ্যালঘু মুসলমানদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ তুলে একটি প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করে । এবং ভারত ও হিন্দুদের বিরুদ্ধে বিষ উগরে দেয় ।।

