এইদিন ওয়েবডেস্ক,কলকাতা,১০ মে : ২০২৬-শের বিধানসভার ভোটে শোচনীয় পরাজয়ের পর থেকেই প্রাক্তন শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের একের পর এক নেতা মুখ খুলতে শুরু করেছে । তারই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিমের মেয়ে প্রিয়দর্শিনী হাকিম সমাজ মাধ্যমে মমতাকে ‘ধৃতরাষ্ট্র’ ও অভিষেককে ‘দুর্যোধন’ বলে খোঁচা দিয়েছিলেন। এদিকে মেয়ের এই মন্তব্যের পরেই চরম সিদ্ধান্ত নিলেন ফিরহাদ হাকিম । তিনি কলকাতার মেয়রের জোড়া হোয়াটস আপের গ্রুপ থেকে বেরিয়ে গেছেন । এই বিষয়ে তার সাফাই হল,যেহেতু তিনি মন্ত্রী নেই, তাই তিনি সরকারি নম্বর থেকে গ্রুপ লেফট করেছেন। তবে তিনি নিজের ব্যক্তিগত নম্বর রেখেছেন সেই গ্রুপে । এদিকে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা ব্যানার্জির অত্যন্ত কাছে বলে পরিচিত ফিরহাদ হাকিমের এই পদক্ষেপে তোলপাড় পড়ে গেছে তৃণমূল কংগ্রেসে । অনেকে মন্তব্য করেছেন, মহাভারতের কুরুক্ষেত্র যুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে তৃণমূলে ।
বিধানসভার ভোটে শোচনীয় পরাজয়ের পর অভিষেক ব্যানার্জির ‘কর্পোরেট স্টাইল’ রাজনীতি ও আইপ্যাক নির্ভরতা নিয়ে দলের ভেতর থেকেই উঠছে তীব্র সমালোচনার সুর। সেই মন্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই শাস্তির মুখে পড়েছেন একাধিক নেতা। সেই বিতর্কে পরোক্ষে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন ফিরহাদ হাকিমের মেয়ে প্রিয়দর্শিনী। সামাজিক মাধ্যমে মহাকাব্য মহাভারতের উপমা টেনে তিনি লেখেন,
“চোখে ঠুলি বেঁধে থেকো না, কান দিয়ে দেখো না।”
শুধু এখানেই থামেননি তিনি। মহাভারতের চরিত্রের সঙ্গে তুলনা টেনে মমতা ব্যানার্জিকে ‘ধৃতরাষ্ট্র’ এবং অভিষেক ব্যানার্জিকে ‘দুর্যোধন’ বলে কটাক্ষ করেন ফিরহাদ হাকিমের কন্যা।
এর আগে মমতা ব্যানার্জির দীর্ঘদিনের সঙ্গী রত্না দে নাগ সামাজিক মাধ্যমে পোস্টন, ‘পুত্র স্নেহে অন্ধ ধৃতরাষ্ট্র কৌরব বংশের ধ্বংসের একমাত্র কারণ।’ তিনি কারও বিরুদ্ধে নাম করে আক্রমণ করেননি। তবে তৃণমূল ও জেলা রাজনৈতিক মহলের দাবি, মমতা ব্যানার্জি ও অভিষেক ব্যানার্জিকে নিশানা করেছেন তিনি।
এদিকে একের পর এক নেতানেত্রীদের এই সমস্ত পোস্ট ঘরে তৃণমূল কংগ্রেসে পরিবারতন্ত্র ও ক্ষমতার কেন্দ্রিকরণ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে । রাজনৈতিক মহলের মতে তৃণমূলে ভাঙন শুধু সময়ের অপেক্ষা । বিশেষ করে মমতা ব্যানার্জির অন্যতম ঘনিষ্ঠ সঙ্গী ফিরহাদ হাকিমের এই প্রকার বিদ্রোহী ভূমিকা তৃণমূলের অস্তিত্বকে প্রশ্নচিহ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে ।।
