এইদিন ওয়েবডেস্ক,জলপাইগুড়ি,১০ মে : রাজ্যের সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত দপ্তরগুলির মধ্যে শীর্ষ স্থানে ধরা হয় হয় ভূমি ও ভূমি রাজস্ব দপ্তরকে । এখানে টাকা দিলেই নাকি অন্যের জমি বা সরকারি জমির মাকিকানা মিলে যায় ! বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি এই কারনে ভূমি ও ভূমি রাজস্ব দপ্তরকে “ঘুঘুর বাসা” বলে অবিহিত করেছিলেন । কিন্তু তার পূর্ববর্তী সিপিএমের সরকারের আমল থেকে চলে আসা এই দপ্তরের সীমাহীন দুর্নীতি বন্ধে তেমন কোনো উদ্যোগই নেননি । বর্তমানে রাজ্যে এখন বিজেপির সরকার । নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী । ভূমি আর গৃহ মন্ত্রককে নিজের হাতে রেখেছেন তিনি । আর দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক ঘন্টার মধ্যেই তিনি অ্যাকশন শুরু করে দিয়েছেন । কলকাতা পুলিশের তৃণমূল পন্থী আধিকারিকদের ব্যাপক রদবদলের পাশাপাশি ভূমি ও ভূমি রাজস্ব দপ্তরের দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ।
প্রাথমিকভাবে জলপাইগুড়ির রাজগঞ্জ ব্লকে জমির তদন্তে গঠন করা হয়েছে স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম(সিট) । কলকাতা হাইকোর্টের জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চের গত ০৮.০১.২০২৬ এবং ১৩.০১.২০২৬ তারিখের নির্দেশক্রমে জলপাইগুড়ি জেলার রাজগঞ্জ বিএলএলআরও ( BL & LRO ) দপ্তর থেকে ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যবর্তী সময়ে নিখোঁজ হয়ে যাওয়া মিউটেশন ফাইলগুলোর তদন্তের জন্য এই সিট গঠন করা হয়েছে বলে খবর৷
সূত্রের খবর, সজন আগারওয়াল নামে এক ব্যক্তি দীর্ঘদিন আগে অভিযোগ দায়ের করেছিলেন যে রাজগঞ্জ ব্লকের ভূমি ও ভূমি রাজস্ব দপ্তরের আরআই অফিস থেকে প্রায় পাঁচ হাজার ভুয়ো মিউটেশন করা হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি কলকাতা হাইকোর্টের জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চে ওঠে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী ৮ জানুয়ারি ও ১৩ জানুয়ারির নির্দেশ মেনে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করা হয়। সেই সিটের আধিকারিকরাই বর্তমানে রাজগঞ্জ ব্লকের পানিকৌড়ি ও মাঝিয়ালি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার আর আই অফিসে নথিপত্র খতিয়ে দেখতে শুরু করেছে । মঙ্গলবার সকাল থেকেই অফিসে নথিপত্র খতিয়ে দেখা, গুরুত্বপূর্ণ রেকর্ড পরীক্ষা ও বিভিন্ন ফাইল যাচাইয়ের কাজ শুরু হয়। তদন্তকারীরা একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করেছেন বলেও প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে।
উল্লেখ্য,জমির মিউটেশন বা নামজারি (Mutation) হলো বৈধ উপায়ে জমি কেনার পর বা উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়ার পর, সরকারি রেকর্ডে আগের মালিকের নাম পরিবর্তন করে নতুন মালিকের নাম অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়া। এটি জমি হস্তান্তর সম্পন্ন করতে এবং মালিকানা পাকা করতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এতদিন ভূমি দপ্তরের আরও-কে টাকা দিয়ে একজনের বৈধ জমিজায়গা অন্যের নামে করে দেওয়ার মত দুর্নীতি চলছিল বলে অভিযোগ । এই অভিযোগ উঠছে রাজ্যের প্রতিটি ভূমি রাজস্ব দপ্তরের বিরুদ্ধেই ।।

