এইদিন ওয়েবডেস্ক,কলকাতা,০৮ মে : জল্পনা ছিলই। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং পরে ঘোষণা করা ছিল সময়ের অপেক্ষা। সেইমতো পশ্চিমবঙ্গে প্রথম বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন শুভেন্দু অধিকারী। আজ শুক্রবার দলীয় বিধায়কদের সঙ্গে বৈঠকে একথা জানিয়ে দিলেন অমিত শাহ। তিনি বলেন,’পরিষদীয় দলনেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। আটটি প্রস্তাব এসেছিল। সব প্রস্তাবে একটিই নাম ছিল। দ্বিতীয় নামের জন্য পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কোনো দ্বিতীয় নাম আসেনি। তাই শুভেন্দু অধিকারীকে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে ঘোষণা করছি।’
ভারতের যে কোনো রাজ্যে নির্বাচনের পর বিধানসভার পরিষদীয় দলনেতা বাছাইয়ের সময় কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকদের সেই রাজ্যে পাঠায় বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। এ বার পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে প্রধান পর্যবেক্ষক করা হয়েছিল অমিত শাহকে। তার সঙ্গে সহকারী পর্যবেক্ষক হিসাবে দায়িত্ব পেয়েছিলেন প্রতিবেশী রাজ্য ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝি। তাদের তত্ত্বাবধানে শুক্রবার বিকেলে কলকাতার নিউ টাউনের বিশ্ববাংলা কনভেনশন সেন্টারে নির্বাচিত বিধায়কদের বৈঠক হয়। সেই বৈঠকেই ৫৫ বছর বয়সী শুভেন্দু অধিকারীকে সর্বসম্মতভাবে বিধানসভার পরিষদীয় দলনেতা ঘোষণা করা হয় । আগামীকাল ব্রিগেডে মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নেবেন শুভেন্দু অধিকারী। উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, অমিত শাহ স্বয়ং, বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন-সহ গেরুয়া শিবিরি আরও অনেক নামী-দামি ব্যক্তি।
গত পাঁচ বছর ধরে বিধানসভায় প্রধান বিরোধীদলীয় নেতা শুভেন্দু অধিকারীই ছিলেন রাজ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের বিরুদ্ধে বিজেপির আন্দোলন সংগ্রামের প্রধান মুখ। রাজ্যে সন্ত্রাস, ‘অনুপ্রবেশ’, অবৈধ অভিবাসী, দুর্নীতিসহ নানা ইস্যুতে ‘ঝাঁঝালো’ মন্তব্য করে বারবার খবরের শিরোনাম হয়েছেন তিনি।
গত ২৩ ও ২৯ এপ্রিল হওয়া বিধানসভা নির্বাচনে শুভেন্দু প্রার্থী হয়েছিলেন ২০০৭ সালে কৃষক ‘বিদ্রোহের’ জন্য বিখ্যাত নন্দীগ্রাম ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শক্ত ঘাঁটি বলে পরিচিত ভবানীপুর আসনে। দুটি আসনেই জিতেছেন তিনি। ভবানীপুরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মত হেভিওয়েট প্রার্থীকে হারিয়েছেন ১৫ হাজারের বেশি ভোটে।
এর আগেও ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে শুভেন্দু নিজের কেন্দ্র নন্দীগ্রাম থেকে মমতার বিরুদ্ধে লড়ে জিতেছিলেন ১৯৫৬ ভোটে। অর্থাৎ, পরপর দুইবার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে নির্বাচনে হারিয়ে শুভেন্দু নিজের জনপ্রিয়তা প্রমাণ করেন।
অতীতে অনেক রাজ্যেই সরকার গঠন করতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর নাম ঘোষণায় চমকে দিয়েছে বিজেপি নেতৃত্ব। এমন কাউকে শাসকদলের পরিষদীয় দলনেতা নির্বাচন করা হয়েছে, যার কথা কেউ ভাবেননি। পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রেও তেমন কিছু করা হবে কি না, জল্পনা ছিল। হাওয়ায় ভাসছিল বিজেপির তাত্ত্বিক নেতা হিসেবে পরিচিত স্বপন দাশগুপ্ত, দলের রাজ্য সভাপতি শমীক দাশগুপ্ত, নারী নেত্রী অগ্নিমিত্রা পালসহ আরো অনেকের নাম ।
তবে অন্য রাজ্যের মত পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী পদে খুব বেশি চমক দেওয়ার সুযোগ ছিল না। মমতাকে ভবানীপুরে হারিয়ে শুভেন্দু মুখ্যমন্ত্রী পদে নিজের দাবি অনেক জোরদার করে ফেলেছিলেন। তা উপেক্ষা করা সম্ভব ছিল না। করলে দলের অন্দরেই একটি অংশে ক্ষোভ তৈরি হতে পারত। নির্বাচনে এত বড় জয়ের পর সেই ঝুঁকি আর নেননি বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।।
Author : Eidin Desk.
