এইদিন ওয়েবডেস্ক,কলকাতা,০৪ মে : আজ সোমবার বঙ্গ রাজনীতির একটি উল্লেখযোগ্য দিন । ২৩ ও ২৯ এপ্রিল দু’দফার ভোটের পর সকাল ৮ টা থেকে শুরু হয়েছে বিধানসভার ভোটের গণনা পর্ব । পরিবর্তন নাকি প্রত্যাবর্তন ? দিনের শেষে মিলবে এই প্রশ্নের উত্তর । দুই যুযুধান দল তৃণমূল ও বিজেপি, উভয় দলই নিজেদের জয়ের বিষয়ে আশা প্রকাশ করেছে । আর হাতে গোনা কয়েক ঘন্টা পরেই স্পষ্ট হয়ে যাবে কার দাবি সত্যি প্রমাণিত হল,আগামী ৫ বছরের জন্য কাদের হাতে থাকবে রাজ্যের শাসনভার । দিনের শেষে “জয় বাংলা” নাকি “জয় শ্রীরাম”, কোন শ্লোগানে মুখরিত হবে বাংলা ।
আজ সোমবার সকাল ৮টা থেকেই ৭৭টি গণনাকেন্দ্রে শুরু হয়ে গেছে ভোটগণনা । তবে এবার পূর্ণাঙ্গ বিধানসভার ২৯৪টি আসনের বদলে নজর থাকবে ২৯৩টি আসনের দিকে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে ব্যাপক কারচুপির অভিযোগে নির্বাচন কমিশন ভোট বাতিল করায়, ওই কেন্দ্রের ভাগ্য নির্ধারিত হবে আগামী ২৪ মে। ফলে আজ বাকি ২৯৩টি আসনের প্রবণতাই ঠিক করে দেবে আগামী পাঁচ বছর বাংলার মসনদে কে বসছেন।
নির্বাচন কমিশনের গাইডলাইন অনুযায়ী, প্রথম আধ ঘণ্টা (সকাল ৮টা থেকে ৮টা ৩০ মিনিট) শুধুমাত্র পোস্টাল ব্যালট গণনা করা হবে। এরপর শুরু হবে ইভিএম (EVM) গণনা। তবে এবারের গণনায় সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ হলো ‘বিহার মডেল’-এর সেই বিশেষ নিয়ম— ইভিএম গণনার চূড়ান্ত রাউন্ড শেষ হওয়ার আগেই সমস্ত পোস্টাল ব্যালট গণনা শেষ করা বাধ্যতামূলক। যদি কোনো কারণে পোস্টাল ব্যালট গণনায় দেরি হয়, তবে ইভিএম গণনা সাময়িকভাবে থামিয়ে দিতে হবে।
সকাল ৮টা থেকে কাজ শুরু হওয়ার পর দুপুর ১২টার মধ্যেই প্রাথমিক ট্রেন্ড বা প্রবণতা স্পষ্ট হয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হলে বিকেল পর্যন্ত । সন্ধ্যা নাগাদ চলে আসবে চুড়ান্ত ফলাফল ।
এবারের রাজ্য বিধানসভার ভোটে ভরকেন্দ্র মূলত কলকাতার ভবানীপুর আসনটি । এই কেন্দ্রে লড়াই হচ্ছে বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি ও বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর মধ্যে । গতকাল সন্ধ্যায় ভবানীপুরের লক্ষ্মী নারায়ণ মন্দিরে পুজো দেওয়ার পর শুভেন্দু অধিকারীকে নিজের জয়ের বিষয়ে খুবই আত্মবিশ্বাসী দেখা যায় । অন্যদিকে অনেকটা গুটিয়ে থাকতে দেখা গেছে মমতা ব্যানার্জিকে৷ তবে তিনি “লোডশেডিং” নিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের সতর্ক করে দেন সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে৷ ওই পোস্টে মমতা লিখেছেন,’সতর্ক থাকুন। পাহারা দিন। রাত জাগুন। অভিযোগ করুন।বিভিন্ন জায়গা থেকে খবর পাচ্ছি, পরিকল্পিতভাবে লোডশেডিং করে দেওয়া হচ্ছে। হুগলির শ্রীরামপুর, নদীয়ার কৃষ্ণনগর থেকে বর্ধমানের আউশগ্রাম, কলকাতার ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রে এরকম ঘটনা সামনে এসেছে যেখানে দফায় দফায় লোডশেডিং করা হচ্ছে, সিসিটিভি বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে এবং স্ট্রং রুমে গাড়ি যাতায়াত করছে। আমি দলের কর্মীদের আহ্বান জানাচ্ছি, আমি যেভাবে রাত জেগে সমস্ত বিষয়ের ওপর নজর রাখছি আপনারাও রাত জেগে স্ট্রংরুমে জনগণের ভোট পাহারা দিন। কোথাও কোনো সন্দেহজনক পরিস্থিতি কেউ সৃষ্টি করলে, তাদের ঘিরে ধরুন , সঙ্গে সঙ্গে অভিযোগ করুন এবং সিসিটিভি ফুটেজ দাবি করুন। এই সমস্তটাই বিজেপির অঙ্গুলিহেলনে করা হচ্ছে।’।
