অষ্টবক্র গীতার ১৭শ অধ্যায় (প্রকৃত জ্ঞানী বা সাক্ষী ভাব) মূলত একজন জীবন্মুক্ত পুরুষের বা আত্মজ্ঞানীর স্বভাব ও আচরণের বর্ণনা দেয় । এই অধ্যায়ে অষ্টবক্র মুনি রাজা জনককে জানান যে, জ্ঞানীর মন নিষ্ক্রিয়, তৃপ্ত এবং তিনি জাগতিক সুখ-দুঃখ, ভালো-মন্দের ঊর্ধ্বে অবস্থান করেন ।
অষ্টবক্র উবাচ ॥
তেন জ্ঞানফলং প্রাপ্তং যোগাভ্যাসফলং তথা ।
তৃপ্তঃ স্বচ্ছেংদ্রিয়ো নিত্যমেকাকী রমতে তু যঃ ॥১৭-১॥
ন কদাচিজ্জগত্যস্মিন্ তত্ত্বজ্ঞো হন্ত খিদ্যতি ।
যত একেন তেনেদং পূর্ণং ব্রহ্মাংডমণ্ডলম্ ॥১৭-২॥
ন জাতু বিষয়াঃ কেঽপি স্বারামং হর্ষয়ংত্যমী ।
সল্লকীপল্লবপ্রীতমিবেভং নিংবপল্লবাঃ ॥১৭-৩॥
যস্তু ভোগেষু ভুক্তেষু ন ভবত্যধিবাসিতঃ ।
অভুক্তেষু নিরাকাংক্ষী তাদৃশো ভবদুর্লভঃ ॥১৭-৪॥
বুভুক্ষুরিহ সংসারে মুমুক্ষুরপি দৃশ্যতে ।
ভোগমোক্ষনিরাকাংক্ষী বিরলো হি মহাশয়ঃ ॥১৭-৫॥
ধর্মার্থকামমোক্ষেষু জীবিতে মরণে তথা ।
কস্য়াপ্য়ুদারচিত্তস্য় হেয়োপাদেযতা ন হি ॥১৭-৬॥
বাংছা ন বিশ্ববিলয়ে ন দ্বেষস্তস্য চ স্থিতৌ ।
যথা জীবিকয়া তস্মাদ্ ধন্য আস্তে যথা সুখম্ ॥১৭-৭॥
কৃতার্থোঽনেন জ্ঞানেনেত্য়েবং গলিতধীঃ কৃতী ।
পশ্যন্ শৃণ্বন্ স্পৃশন্ জিঘ্রন্ন্
অশ্নন্নাস্তে যথা সুখম্ ॥১৭-৮॥
শূন্যা দৃষ্টির্বৃথা চেষ্টা বিকলানীংদ্রিয়াণি চ ।
ন স্পৃহা ন বিরক্তির্বা ক্ষীণসংসারসাগরে ॥১৭-৯॥
ন জাগর্তি ন নিদ্রাতি নোন্মীলতি ন মীলতি ।
অহো পরদশা ক্বাপি বর্ততে মুক্তচেতসঃ ॥১৭-১০॥
সর্বত্র দৃশ্যতে স্বস্থঃ সর্বত্র বিমলাশয়ঃ ।
সমস্তবাসনা মুক্তো মুক্তঃ সর্বত্র রাজতে ॥১৭-১১॥
পশ্যন্ শৃণ্বন্ স্পৃশন্ জিঘ্রন্ন্ অশ্নন্
গৃহ্ণন্ বদন্ ব্রজন্ ।
ঈহিতানীহিতৈর্মুক্তো মুক্ত এব মহাশয়ঃ ॥১৭-১২॥
ন নিন্দতি ন চ স্তৌতি ন হৃষ্যতি ন কুপ্যতি ।
ন দদাতি ন গৃহ্ণাতি মুক্তঃ সর্বত্র নীরসঃ ॥১৭-১৩॥
সানুরাগাং স্ত্রিয়ং দৃষ্ট্বা মৃত্যুং বা সমুপস্থিতম্ ।
অবিহ্বলমনাঃ স্বস্থো মুক্ত এব মহাশয়ঃ ॥১৭-১৪॥
সুখে দুঃখে নরে নার্য়াং সংপত্সু চ বিপত্সু চ ।
বিশেষো নৈব ধীরস্য সর্বত্র সমদর্শিনঃ ॥১৭-১৫॥
ন হিংসা নৈব কারুণ্যং নৌদ্ধত্যং ন চ দীনতা ।
নাশ্চর্য়ং নৈব চ ক্ষোভঃ ক্ষীণসংসরণে নরে ॥১৭-১৬॥
ন মুক্তো বিষযদ্বেষ্টা ন বা বিষয়লোলুপঃ ।
অসংসক্তমনা নিত্যং প্রাপ্তাপ্রাপ্তমুপাশ্নুতে ॥১৭-১৭॥
সমাধানাসমাধানহিতাহিতবিকল্পনাঃ ।
শূন্যচিত্তো ন জানাতি কৈবল্যমিব সংস্থিতঃ ॥১৭-১৮॥
নির্মমো নিরহংকারো ন কিংচিদিতি নিশ্চিতঃ ।
অংতর্গলিতসর্বাশঃ কুর্বন্নপি করোতি ন ॥১৭-১৯॥
মনঃপ্রকাশসংমোহস্বপ্নজাড্যবিবর্জিতঃ ।
দশাং কামপি সংপ্রাপ্তো ভবেদ্ গলিতমানসঃ ॥১৭-২০॥
অষ্টবক্র গীতার সপ্তদশ অধ্যায়ের মূল বিষয়বস্তু ও শিক্ষার সারসংক্ষেপ :
পূর্ণ তৃপ্তি: প্রকৃত জ্ঞানী ব্যক্তি অন্তরে পূর্ণ তৃপ্ত থাকেন এবং কোনো কিছুর প্রতি আসক্তি বা বিতৃষ্ণা রাখেন না ।
সাক্ষী ভাব: তিনি দেহ বা ইন্দ্রিয় দিয়ে কাজ করলেও নিজেকে ‘কর্তা’ মনে করেন না, তাই কর্মের ফলেও লিপ্ত হন না ।
সমদৃষ্টি: জ্ঞানী ব্যক্তি সুখ-দুঃখ, শত্রু-মিত্র, লাভ-ক্ষতি বা জন্ম-মৃত্যুর মধ্যে কোনো ভেদাভেদ দেখেন না, তিনি সব অবস্থাতেই সমদর্শী ও স্থির থাকেন ।
বাসনা মুক্তি: তিনি সমস্ত কামনাবাসনা থেকে মুক্ত, তাই তার মন সর্বদা পবিত্র ও শান্ত থাকে ।
নির্ভীক ও মুক্ত: তিনি প্রশংসা বা নিন্দা, এমনকি মৃত্যুতেও ভীত হন না ।
এই অধ্যায়টি একজন মানুষের চূড়ান্ত আধ্যাত্মিক অবস্থা নির্দেশ করে, যেখানে কোনো কামনা বা অহংকার অবশিষ্ট থাকে না, কেবল শুদ্ধ চেতনা বিরাজ করে ।।
