এইদিন ওয়েবডেস্ক,কলকাতা,০৫ এপ্রিল : ভবানীপুরে প্রচারের সময় সাদা পোশাকের পুলিশ কর্মীদের দিয়ে নজরদারি চালানোর অভিযোগ তুললেন বিজেপি প্রার্থী বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী ৷ তিনি দুই পুলিশ কর্মীকে চিহ্নিত করেন কালীঘাট থানার এএসআই বিশ্বজিৎ মণ্ডল এবং ভবানীপুর থানার ওয়াচ কনস্টেবল ফারুক বক্স নামে । এছাড়াও তিনি একটি চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলেছেন । শুভেন্দুর অভিযোগ যে কলকাতা পুলিশের ওই দুই কর্মীকে দিয়ে তিনি যেসমস্ত ভোটারদের সাথে সাক্ষাৎ করছিলেন তাদের নাম লিপিবদ্ধ করা হচ্ছিল,যাতে ভবিষ্যতে ভয় দেখিয়ে প্রভাবিত করা যায় । আজ রবিবার বিকেল ৪:৪২ এ তিনি ইমেলে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে একটি অভিযোগপথ পাঠিয়েছেন, যেটির স্কীন শর্ট তিনি নিজের এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করেছেন । পাশাপাশি অভিযুক্ত ২ পুলিশ কর্মীর জেপিইজি ছবিও সংযুক্ত করেছেন বিরোধী দলনেতা ।
শুভেন্দু অধিকারী পোস্টে লিখেছেন,’ভবানীপুরে গণতন্ত্র আক্রমণের মুখে৷ আমি তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে মাননীয় মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের কাছে একটি কড়া অভিযোগ পাঠিয়েছি, কারণ তারা নির্লজ্জভাবে কলকাতা পুলিশকে তাদের ব্যক্তিগত নজরদারি দল হিসেবে অপব্যবহার করছে।
আমি যখন ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রে শান্তিপূর্ণভাবে বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রচার চালাচ্ছিলাম, তখন সাদা পোশাকের পুলিশদের আমার পিছু পিছু ঘোরানোর জন্য মোতায়েন করা হয়েছিল। আমার সঙ্গে দেখা করার সাহস দেখানো প্রত্যেক ভোটারের ঠিকানা ও পরিচয় তারা লিখে রাখছিল, যাতে পরে তাদের ভয় দেখানো যায়।
তিনি লিখেছেন,এটি রাষ্ট্র-প্রণোদিত ভোটার ভীতি প্রদর্শন এবং অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পথে একটি বড় বাধা।টিএমসি-র বোঝা উচিত যে এই ধরনের কৌশল আর চলবে না। তাদের দাপট ও স্বৈরাচারের দিন শেষ। ভবানীপুরের ভোটাররা, ঠিক যেমন পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের ভোটাররা, টিএমসি-কে উপযুক্ত জবাব দেবে। শুধু অপেক্ষা করুন আর দেখুন…।
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে পাঠানো অভিযোগপথে শুভেন্দু অধিকারী লিখেছেন :
বিষয়: ভবানীপুরে আমার বাড়ি বাড়ি নির্বাচনী প্রচারণার পর ভোটারদের হয়রানি ও ভয় দেখানোর জন্য তৃণমূল কংগ্রেসের ব্যক্তিগত নজরদারি দল হিসেবে কলকাতা পুলিশ কর্মীদের অপব্যবহার।
মাননীয় মহোদয়,আমি ১৫৯-ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী ভারতীয় জনতা পার্টির প্রার্থী হিসেবে আপনাকে এই চিঠি লিখছি। ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রে যখন আমি আইনসম্মতভাবে আমার গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করে বাড়ি বাড়ি প্রচার চালাচ্ছি, তখন ভোটারদের অনুসরণ, নজরদারি, শনাক্তকরণ এবং ভয় দেখানোর জন্য কলকাতা পুলিশ কর্মীদের নির্লজ্জ, পরিকল্পিত এবং সম্পূর্ণ অসাংবিধানিকভাবে মোতায়েন করার বিরুদ্ধে আমার তীব্রতম প্রতিবাদ এবং গভীরতম ক্ষোভ নথিভুক্ত করার জন্যই এই চিঠি।
ছবি এবং নথিপত্রের প্রমাণ (যা এর সাথে সংযুক্ত করা হলো) সন্দেহের কোনো অবকাশ রাখে না। নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে জানা যায় যে, অন্তত পাঁচটি থানা থেকে প্রায় ২৫ জন পুলিশ কর্মীকে বাছাই করা হয়; মূলত ভবানীপুর ও কালীঘাটের বাসিন্দা এবং মূলত স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি) ওয়াচ ডিও সেকশনে (যেখানে শান্তনু সিনহা বিশ্বাস কর্মরত) কর্মরত ছিলেন ৷
ভোটারদের হয়রানি ও ভয় দেখানোর জন্য তৃণমূল কংগ্রেসের ব্যক্তিগত নজরদারি দল হিসেবে কলকাতা পুলিশের কর্মীদের অপব্যবহার করা হচ্ছে । বিশেষ ভাবে আমাকে সাদা পোশাকে অনুসরণ করার জন্য নিযুক্ত করা হয়েছে। তাদের একমাত্র কাজ হলো আমি যে প্রতিটি বাড়িতে এবং যে প্রতিটি নাগরিকের কাছে যাই, তাদের পরিচয় এবং বিবরণ লিখে রাখা।
অভ্যন্তরীণ পুলিশ ডিউটি রোস্টারে “ওয়াচ” ডিউটির অধীনে নিম্নলিখিত কর্মীদের নাম স্পষ্টভাবে তালিকাভুক্ত করা আছে :
ফারুখ বক্স, ওয়াচ কনস্টেবল-৫৫৭, ডিও সেকশন এসবি কেপি, ভবানীপুর থানা৷
বিশ্বজিৎ মণ্ডল, ওয়াচ এএসআই-১৫৬১১, কালীঘাট থানা ৷
ভবানীপুর এবং কালীঘাট থানার আরও বেশ কয়েকজন এসবি ওয়াচ কর্মী, যাদের নাম এবং সার্ভিস নম্বর সংযুক্ত ডিউটি চার্টে রয়েছে, তারা সাদা পোশাকে আমাকে অনুসরণ করছে।
এই সম্পূর্ণ অবৈধ অভিযানটি তদারকি করছেন কালীঘাট থানার অতিরিক্ত ওসি, ইন্সপেক্টর নিরুপম দত্ত, যিনি সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী এবং তৃণমূলের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে রিপোর্ট করেন। এই এসআই-স্তরের অনেক কর্মকর্তাকে ইচ্ছাকৃতভাবে বছরের পর বছর ধরে কালীঘাট থানায় রেখে দেওয়া হয়েছে, যার ফলে থানাটি শাসক পরিবারের একটি রাজনৈতিক চৌকিতে পরিণত হয়েছে।
এটা পুলিশি ব্যবস্থা নয়। এটা রাষ্ট্র-সমর্থিত রাজনৈতিক গুপ্তচরবৃত্তি এবং ভোটারদের ভয় দেখানোর এক চরম লজ্জাজনক প্রচেষ্টা। সাদা পোশাকের পুলিশদের শাসক দলের ব্যক্তিগত গোয়েন্দা শাখা হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে, যাতে আমার সাথে দেখা করার সাহস দেখানো সাধারণ নাগরিকদের মনে ভয় ঢুকিয়ে দেওয়া যায়। এই ধরনের আচরণ নিম্নলিখিত বিষয়গুলির চরম লঙ্ঘন:
– সংবিধানের ৩২৪ ধারা (কমিশন কর্তৃক নির্বাচনের তত্ত্বাবধান, নির্দেশনা ও নিয়ন্ত্রণ) জনপ্রতিনিধিত্ব আইন, ১৯৫১-এর ১২৩ এবং ১৭১ ধারা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মৌলিক নীতিসমূহ ।
-আদর্শ আচরণবিধি ।
পশ্চিমবঙ্গের শাসক দল রাজ্য পুলিশকে তাদের ইশারায় চলা একটি ব্যক্তিগত মিলিশিয়াতে পরিণত করেছে। নির্বাচন কমিশনের মতো একটি সাংবিধানিক সংস্থাকে যে এই ধরনের প্রকাশ্য গুণ্ডামির মোকাবিলা করতে হচ্ছে, তা উদ্বেগের বিষয়। অতএব, আমি নির্বাচন কমিশনকে অত্যন্ত জরুরিভাবে অনুরোধ করছি যে:
১. ইন্সপেক্টর নিরুপম দত্ত এবং তালিকাভুক্ত সকল এসবি ওয়াচ কর্মীকে কলকাতার বাইরে এবং যেকোনো নির্বাচন-সংক্রান্ত দায়িত্ব থেকে দূরে সাময়িক বরখাস্ত বা বদলি করার নির্দেশ দিন।
২. এই অবৈধ মোতায়েন এবং যে চেইন অফ কমান্ড এর অনুমোদন দিয়েছিল, সে বিষয়ে একটি স্বাধীন তদন্তের নির্দেশ দিন।
৩। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ডিজিপি এবং কলকাতা পুলিশ বাহিনীর সিপি-কে আমার বা অন্য কোনো বিজেপি প্রার্থী এবং অন্যান্য বিরোধী নেতা ও প্রার্থীদের গতিবিধির ওপর সমস্ত নজরদারি, অনুসরণ এবং রেকর্ডিং অবিলম্বে বন্ধ করার জন্য সুস্পষ্ট ও কার্যকর নির্দেশ জারি করুন।
৪। গণতন্ত্রের ওপর এই আক্রমণের জন্য দায়ী কর্মকর্তা এবং রাজনৈতিক নির্বাহীদের বিরুদ্ধে স্বতঃপ্রণোদিত আদালত অবমাননার মামলা গ্রহণ করুন।
আমি অবিলম্বে, দৃশ্যমান এবং সিদ্ধান্তমূলক পদক্ষেপের জন্য আন্তরিকভাবে অনুরোধ করছি। এর চেয়ে কম কিছু হলে তা কেবল এটাই প্রমাণ করবে যে পশ্চিমবঙ্গে আদর্শ আচরণবিধি একটি অকার্যকর শব্দগুচ্ছ।
তিনি অভিযোগপত্রের অনুলিপি যথাক্রমে
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী কর্মকর্তা, পশ্চিমবঙ্গের বিশেষ রোল পর্যবেক্ষক, পশ্চিমবঙ্গের পুলিশ পর্যবেক্ষক, মুখ্য সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের সাধারণ পর্যবেক্ষক ও পুলিশ পর্যবেক্ষকের পাশাপাশি কলকাতা পুলিশ কমিশনার এবং রিটার্নিং অফিসারের কাছে পাঠিয়েছেন বলে জানিয়েছেন ।।

