এইদিন ওয়েবডেস্ক,কর্ণাটক,০৪ এপ্রিল : কর্ণাটকের হুব্বালির “লাভ জিহাদ” (Love Jihad) মামলাটি এক বিস্ফোরক মোড় নিয়েছে। জিম প্রশিক্ষক সমীর মোল্লার (Sameer Mulla) মোবাইল ফোনে বেশ কয়েকজন হিন্দু তরুণীদের অশ্লীল ছবি পাওয়া গেছে । সেই সমস্ত ছবি দেখিয়েই ওই জিহাদি তরুনীদের যৌন শোষণ করত বলে অভিযোগ । প্রথমে কংগ্রেস সরকারের পুলিশ ঘটনাটি লাভ জিহাদ নয়, বরং পারিবারিক বিবাদ বলে চালানোর চেষ্টা করেছিল । কিন্তু একাধিক তরুনীর অশ্লীল ছবি উদ্ধার হলে পুলিশের সেই পরিকল্পনা বানচাল হয়ে যায় ।
জানা গেছে,পুলিশ তার মোবাইল ফোনটি বাজেয়াপ্ত করে পরীক্ষা করার পর বিভিন্ন তরুণীর সঙ্গে সমীরের ছবি পায়। তারা একটি স্ক্যানিং রিপোর্ট এবং একটি গর্ভনিরোধক বড়ির ছবিও খুঁজে পায়। অভিযোগ উঠেছে যে, সমীর তরুণীদের কাছে তার অর্ধনগ্ন ছবি পাঠাচ্ছিল। এখন হুব্বাল্লি জিম প্রশিক্ষকের দ্বারা যৌন নিপীড়নের মামলাটি একটি বড় মোড় নিয়েছে, কারণ মামলার ভুক্তভোগী একটি ভিডিও বিবৃতি প্রকাশ করেছেন। ভুক্তভোগী একটি অজ্ঞাত স্থান থেকে একটি ভিডিও প্রকাশ করেছেন, যেখানে তিনি অভিযোগ করেছেন যে সমীর মোল্লা তাকে বেহুঁশ করে ধর্ষণ করে । ভুক্তভোগী আরও অভিযোগ করেছেন যে, জিমে আসা তরুণীর মাদক মেশানো পানীয় দিয়ে বেহুঁশ করে ধর্ষণ করত । আর সেই অশ্লীল ভিডিও রেকর্ড করে রেখে পরে ব্লাকমেলিং করে যৌন নির্যাতন চালাত ।
তরুনী বলেছেন,সমীরের বোন তাইসিম মোল্লা আমার বন্ধু, এবং তার মাধ্যমেই সমীরের সাথে তার পরিচয় হয়। তাইসিমের সাথে আমাদের বন্ধুত্বের সুবাদে আমরা অনেক অনুষ্ঠানে একসাথে অংশ নিয়েছি। আমরা জন্মদিনের পার্টি এবং উইকেন্ড পার্টিতে যেতাম। সমীরও সেখানে আসত, এবং এরপর থেকেই সমীরের সাথে আমাদের ঘনিষ্ঠতা বাড়ে ।
মাদক খাইয়ে ধর্ষণ, ভিডিও রেকর্ড করে ব্লাকমেলিং
ভুক্তভোগী বিস্ফোরক বিবৃতি দিয়েছেন, একদিন সমীর তাকে তার বাড়িতে নিয়ে যায়। এরপর, সে জুসের সাথে ঘুমের ওষুধের মিশিয়ে বেহুঁশ করে আমাকে ধর্ষণ করে এবং আমার একটি ভিডিও তৈরি করে । আমি জানতাম না যে সমীর ভিডিও করেছে, ভিডিওটি দেখানোর পরেই আমি জানতে পারি। ভুক্তভোগী অভিযোগ করেছেন যে, সে ভিডিওটি দেখিয়ে আমাকে ব্ল্যাকমেল করে প্রতারণা করেছে।
ভুক্তভোগী আরও অভিযোগ করেছেন যে, সে জিমে আসা এক তরুণীকে উত্ত্যক্ত করত, তার সঙ্গে ব্যক্তিগত মুহূর্ত কাটাত এবং এরপর সেটির ভিডিও করে তাকেও ব্ল্যাকমেল করত।
কর্ণাটকের হিন্দু জাগৃতি সমিতির স্পোকপার্সন মোহন গৌড়া ওই তরুনীর ভিডিও বক্তব্য এক্স-এ শেয়ার করে লিখেছেন,”হুবলির ‘লাভ জিহাদ’ নির্যাতিতা তরুণীর ভিডিও ফাঁস । খুশি নামের এক হিন্দু তরুণীকে তার মুসলিম বান্ধবী তাইসিম মোল্লা সমীর মোল্লার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়।এরপর সে তাকে নিজের জিমে প্রশিক্ষণ দেয় এবং তার একটি অশ্লীল ভিডিও রেকর্ড করে।এভাবে বেশ কয়েকজন হিন্দু তরুণী নির্যাতিতা হয়েছেন বলে জানা গেছে।”
নির্যাতিতার মা রাজেশ্বরী অভিযোগ করেছেন যে সমীর ও তার পরিবার তাঁর মেয়েকে ‘কালা জাদু করে হয়রানি’ করেছে। সমীর তার মেয়েকে ভুল পথে চালিত করেছে। তাদের মধ্যে কোনো সম্পর্ক নেই। তিনি অভিযোগ করেছেন যে, গত চার-পাঁচ দিন ধরে সমীর ও তার পরিবার তার মেয়েকে হয়রানি করছে।
লাভ জিহাদের ঘটনাটি গুরুতর রূপ নিলে দুই পরিবারের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয় এবং বিষয়টি থানায় পৌঁছায় । একদিকে, যুবকটির পরিবারের সদস্যরা যুবকটিকে অপহরণ করা হয়েছে অভিযোগ তুলে যুবতীর বাড়িতে জোর করে ঢুকে মারধর শুরু করে। অন্যদিকে,অভিযুক্ত জিহাদির পক্ষে একটি দল হুব্বালি শহরের বিকাশ নগরে যুবতীর বাড়ির কাছে মারামারি শুরু করে এবং তাকে আক্রমণ করে বলে অভিযোগ। উভয় পক্ষকেই কেআইএমএস-এ ভর্তি করা হয়েছে এবং তারা প্রাণে বেঁচে ফিরেছে।
এদিকে ‘লাভ জিহাদ’ মামলা নিয়ে হিন্দু সংগঠনগুলোর ওল্ড হুব্বাল্লি থানা এলাকায় জড়ো হয়ে বিক্ষোভ দেখালে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। তারা অভিযোগ করে যে, হুব্বাল্লির বিজয়নগরের বাসিন্দা সমীর মোল্লা নামের ওই যুবক একটি জিমে এক তরুণীর সঙ্গে বন্ধুত্ব করে, তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা গড়ে তোলে এবং তারপর তাকে ধর্ষণ করে।একটি হিন্দু সংগঠনের কর্মীরা সমীরের বাড়িতে গিয়ে তাকে ধরে, মারধর করে এবং তারপর পুলিশের হাতে তুলে দেয়।
ঘটনার বিবরণে জানা গেছে,হুব্বাল্লির বিজয়নগরের বাসিন্দা সমীর মোল্লার সঙ্গে তার জিমে এক হিন্দু মেয়ের পরিচয় হয়েছিল । পরে, সমীর মেয়েটির আরও ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠে। অভিযোগ উঠেছে যে, সে মেয়েটিকে তার বাড়িতে ডেকে জুসে মাদক মিশিয়ে বেহুঁশ করে ধর্ষণ করে। আরও অভিযোগ উঠেছে যে, সমীরের পরিবারের সদস্যরা বিকাশনগরে মেয়েটির বাড়িতে জোর করে ঢুকে হামলা চালায় ।কিছুদিন পর, সে মেয়েটিকে তাদের ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও দেখিয়ে হুমকি দেয় এবং একাধিকবার যৌন নির্যাতন করে বলে অভিযোগ উঠেছে। মেয়েটি প্রথমে তার পরিবারকে এসবের কিছুই জানায়নি।তবে, ২ এপ্রিল সন্ধ্যায় বিষয়টি মেয়েটির পরিবার এবং হিন্দু সংগঠনের কর্মীদের নজরে আসে, যার ফলে ব্যাপক হট্টগোল শুরু হয়।
ঘটনাটি জানতে পেরে হিন্দু কর্মীরা গিয়ে সমীরকে মারধর করে এবং তারপর তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। এরপর থেকে পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। এদিকে, মেয়েটির পরিবার সমীরকে অপহরণ করেছে অভিযোগ তুলে সমীরের পরিবারের সদস্যরা মেয়েটির বাড়িতে জোর করে ঢুকে পড়ে, হট্টগোল সৃষ্টি করে এবং বেশ কয়েকজনকে মারধর করে। পুলিশ আসতেই তারা পালিয়ে যায়।পরে, হিন্দু সংগঠনের কর্মী এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের সদস্যরা ওল্ড হুব্বালি থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। এই প্রেক্ষাপটে, হিন্দু সংগঠনগুলো দাবি করেছে যে জিমগুলো ‘লাভ জিহাদ’-এর কেন্দ্রে পরিণত হচ্ছে। তাদের অভিযোগ, সমীর মোল্লা জিমে এক হিন্দু মেয়ের সঙ্গে বন্ধুত্ব করে লাভ জিহাদে লিপ্ত হয়েছে। তারা সমীরের যথাযথ শাস্তি এবং জিমটি বন্ধ করে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এই ঘটনায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।সমীরের পরিবার অশোক নগর থানায় সমীরকে অপহরণ ও মারধরের অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেছে, অন্যদিকে বিদ্যানগর থানায় মেয়েটিকে যৌন নিপীড়ন এবং তার পরিবারের সদস্যদের উপর হামলার অভিযোগে একটি মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে।পুলিশ উভয় পক্ষকেই জিজ্ঞাসাবাদ করছে।পরিস্থিতি বর্তমানে উত্তপ্ত, এবং এই মামলাটি পরবর্তীতে কোন দিকে মোড় নেয় তা দেখার বিষয়। এদিকে ধৃত জিহাদিকে চিকিৎসার জন্য সমীরকে হুব্বালির কেআইএমএস হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে ।।
