এইদিন ওয়েবডেস্ক,কলকাতা,০১ এপ্রিল : আজ বুধবার রাজ্যসভায় বিজেপি সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য চারটি প্রশ্ন উত্থাপন করেন৷ বিষয়বস্তু ছিল “পশ্চিমবঙ্গে ক্রমবর্ধমান অপুষ্টি”৷ উত্তরে কেন্দ্রীয় মহিলা ও শিশু বিকাশ মন্ত্রী অন্নপূর্ণা দেবী (Annpurna Devi) উদ্বেগ সৃষ্টি করার মত উত্তর দিয়েছেন । তিনি জানিয়েছেন যে পশ্চিমবঙ্গে শিশুদের ‘ওয়েস্টিং’ বা ওজনস্বল্পতার হার প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে । প্রশ্নোত্তর পর্বের লিখিত তিন পাতার ওই রিপোর্টটি এক্স হ্যান্ডেলে শেয়ার করে মমতা ব্যানার্জির নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস সরকারকে তুলোধুনো করেছেন বিজেপির সর্বভারতীয় আইটি ইনচার্জ অমিত মালব্য ৷ তিনি মন্তব্য করেছেন,’বাংলার শিশুরা অনাহারে আর তৃণমূল কংগ্রেস তখন ঘুমাচ্ছে ।’
অমিত মালব্য লিখেছেন,’বাংলার শিশুরা অনাহারে দিন কাটাচ্ছে। আর তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) তখন ঘুমাচ্ছে। সংসদের নিজস্ব নথিপত্রই এক ভয়াবহ ও নিন্দনীয় চিত্র তুলে ধরছে। কলকাতায়—মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিজের শহরেই—তৃণমূল শাসনের অধীনে শিশুদের ‘ওয়েস্টিং’ বা ওজনস্বল্পতার হার প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে; যা ১৭.৪% থেকে বেড়ে ২৯.৩%-এ দাঁড়িয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনায় শিশুদের ‘স্টান্টিং’ বা বয়সের তুলনায় কম উচ্চতার সমস্যা ২৭.৩% থেকে লাফিয়ে বেড়ে ৩৬.৭%-এ পৌঁছেছে। উত্তর দিনাজপুরে তো প্রতি দুজন শিশুর মধ্যে প্রায় একজনই স্টান্টিং বা খর্বাকৃতির সমস্যায় ভুগছে।’
তিনি লিখেছেন,’কেন্দ্রীয় সরকার মাত্র চার বছরের ব্যবধানে ‘মিশন পোষণ ২.০’-এর আওতায় পশ্চিমবঙ্গের জন্য ৫,০০০ কোটি টাকারও বেশি অর্থ বরাদ্দ করেছে—যা শিশুদের পুষ্টির জন্য, অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলোর জন্য এবং মা ও শিশুদের কল্যাণের উদ্দেশ্যে প্রদান করা হয়েছে। আর রাজ্য সরকার কী করেছে? গত দুটি আর্থিক বছরের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থের এক পয়সারও ব্যবহারের হিসাব বা ‘ইউটিলাইজেশন রিপোর্ট’ তারা জমা দেয়নি।অর্থ বরাদ্দ হয়েছে। শিশুরা অপুষ্টিতে ভুগছে। আর অর্থের হিসাবের কোনো হদিস নেই।’
অমিত মালব্যের কথায়,’এটি কেবল দারিদ্র্য নয়। এটি চরম রাজনৈতিক অবহেলা।তৃণমূল নেতারা যখন ‘সিন্ডিকেট’-এর টাকায় ফুর্তি করছেন, তখন বাংলার শিশুরা—পুরুলিয়ায়, মালদহে, নদিয়ায় কিংবা আপনারই পাড়া-মহল্লায়—তাদের শারীরিক বিকাশ ব্যাহত হওয়ার মধ্য দিয়ে এবং এক অনিশ্চিত, ভেঙে যাওয়া ভবিষ্যতের বিনিময়ে এর চরম মূল্য দিয়ে চলেছে।বাংলার আরও ভালো কিছু প্রাপ্য। বাংলার শিশুদের আরও ভালো কিছু প্রাপ্য।’
শমীক ভট্টাচার্যের চারটি প্রশ্ন ছিল :
(ক) ন্যাশনাল ফ্যামিলি হেলথ সার্ভে (NFHS-5)-এর তথ্য কি এই ইঙ্গিত দেয় যে, অপুষ্টির সূচকগুলি—যথা স্টান্টিং (বয়স-ভিত্তিক উচ্চতার স্বল্পতা), ওয়েস্টিং (উচ্চতা-ভিত্তিক ওজনের স্বল্পতা) এবং আন্ডারওয়েট (বয়স-ভিত্তিক ওজনের স্বল্পতা)—পশ্চিমবঙ্গের বেশ কয়েকটি জেলায় হয় আরও খারাপ হয়েছে অথবা ৩০ শতাংশের উপরেই রয়ে গেছে; এবং অন্তত ১৩টি জেলায় NFHS-4-এর তুলনায় শিশু বিকাশের ব্যর্থতা-সংক্রান্ত এক বা একাধিক সূচকে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে৷
(খ) NFHS-5 অনুযায়ী পশ্চিমবঙ্গে স্টান্টিং, ওয়েস্টিং এবং আন্ডারওয়েট-এর জেলাভিত্তিক ব্যাপকতা এবং যে জেলাগুলিকে উচ্চ-অগ্রাধিকারমূলক হস্তক্ষেপের ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে ।
(গ) এই উচ্চ-বোঝাযুক্ত জেলাগুলির জন্য ‘মিশন পোষণ ২.০’ (Mission POSHAN 2.0)-এর অধীনে প্রস্তুতকৃত সুনির্দিষ্ট জেলা-স্তরের কর্মপরিকল্পনাগুলি কী কী ?
এবং (ঘ) লক্ষ্যভিত্তিক পুষ্টি-সংক্রান্ত হস্তক্ষেপের জন্য কেন্দ্রীয় তহবিল থেকে কত পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ বা মুক্ত করা হয়েছে এবং সেই অর্থের ব্যবহারের বর্তমান অবস্থা কী?
ফাইল ছবি : সৌজন্যে গুগুল ।
Author : Eidin Desk
