এইদিন ওয়েবডেস্ক,কলকাতা,০১ এপ্রিল : মঙ্গলবার গতকাল রাতে ‘ফর্ম ৬’ জমা দেওয়ার অভিযোগ ঘিরে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (CEO) দপ্তরের সামনে বিক্ষোভ দেখায় শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস । ঘটনাস্থলে থাকা বিশাল পুলিশ বাহিনী তৃণমূলের লোকজনদের সরানোর চেষ্টা করলে তীব্র বচসা শুরু হয় । যদিও শেষ পর্যন্ত তাদের সিইও-র দপ্তর থেকে ১০০ থেকে ২০০ মিটার দূরে সরিয়ে দেওয়া হয় । এই ঘটনায় কড়া বার্তা দিয়েছেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজকুমার আগরওয়াল । তিনি তার অফিসিয়াল এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছেন,”বেলেঘাটার কাউন্সিলর কতিপয় দুষ্কৃতীকে সঙ্গে নিয়ে সিইও-র দপ্তর ঘেরাও করেন এবং গভীর রাতে সেখানে স্লোগান দেন। এহেন অসামাজিক কার্যকলাপ বরদাশত করা হবে না এবং আইন তার নিজস্ব পথে চলবে। অবাধ ও সুষ্ঠু বিধানসভা নির্বাচন নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন (ECI) কোনো প্রচেষ্টাই বাকি রাখবে না।”
চলতি মাসেই রাজ্য বিধানসভা ভোট । প্রথম পর্বের ভোটগ্রহণ ২৩ এপ্রিল। তার আগে রাজ্য-রাজনীতি উত্তাল ফর্ম-৬ ইস্যুতে। সোমবার সিইও দফতরে গিয়ে ফর্ম-৬ নিয়ে সরব হন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়৷ তার অভিযোগ ছিল, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ভোটার তালিকায় নাম তোলা বা বাদ দেওয়ার কাজ হচ্ছে। অবৈধ ফর্ম ৬ ঢোকানোর প্রতিবাদে মঙ্গলবার দুপুরে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে দপ্তর চত্বর। বিক্ষোভে শামিল হন তৃণমূলপন্থী বিএলওরা। ঘটনাস্থলে জমায়েত করেন বিজেপির কর্মী-সমর্থকরা। দু’পক্ষের জমায়েতে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে জড়িয়ে পড়েন বিক্ষোভকারীরা।
ফর্ম ৬-এ কারচুপি নিয়ে যখন সরাসরি কমিশনের দিকে আঙুল তুলেছে শাসকদল। তখন নিজেদের অবস্থান জানিয়ে পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী কমিশনার মনোজ কুমার আগরওয়াল সাংবাদিক বৈঠকে করেন। প্রবল বিতর্কের মাঝে সাফাইয়ের সুরে তিনি জানান, “ভোটার তালিকায় নাম তোলার জন্য সারা বছরই ফর্ম ৬ দেওয়া যায়। আমি নতুন ভোটারের কথা বলছি। কে, ক’টা ফর্ম দেবে তার নির্দিষ্ট কোনও নিয়ম নেই।” পাশাপাশি তৃণমূলের অভিযোগ ‘ভোটচুরি’র অভিযোগ উড়িয়ে মনোজ বলেন, “সিইও দপ্তরে এমন কোনও সফটওয়্যার নেই, যাতে নাম তোলা বা বাদ দেওয়া যায়। কারও বিরুদ্ধে ভুয়ো ভোটার হওয়ার অভিযোগ উঠলে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া মেনে সংশ্লিষ্ট অফিসাররা ভেরিফিকেশন করেন, সেই রিপোর্ট জমা পড়ে কমিশনে।”
মঙ্গলবার দুপুরের পর গভীর রাতেও “ফর্ম ৬” ইস্যুতে সিইও দপ্তরে ভিড় জমায় তৃণমূলের লোকজন । রাত ১২টা নাগাদ সিইও দফতরে পৌঁছন কলকাতার পুলিশ কমিশনার। মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজকুমার আগরওয়ালের সঙ্গে দেড়ঘণ্টা বৈঠক করেন তিনি। রাত দেড়টা নাগাদ অফিস থেকে বেরিয়ে যান সিইও ।পৌঁছয় বিশাল কেন্দ্রীয় বাহিনী৷ ‘ফর্ম ৬’ জমা দেওয়ার অভিযোগ ঘিরে গতকাল চার ঘণ্টা ধরে রণক্ষেত্র পরিস্থিতি তৈরি হয় সিইও দফতরের বাইরে।।
