এইদিন ওয়েবডেস্ক,কলকাতা,৩১ মার্চ : বিজেপির রাজ্যস্তরের নেতা থেকে শুরু করে মণ্ডলস্তরের ফোন রাজ্যের গোয়েন্দা বিভাগের প্রধানের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিনীত গোয়েল ফোট ট্রাক করছে বলে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুললেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী । আজ কলকাতায় নির্বাচন কমিশনের রাজ্য সদরদপ্তরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া থেকে শুরু করে রাজ্য পুলিশের শীর্ষ কর্তাদের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ জানায় বিজেপি ৷ শুভেন্দু অধিকারী ও রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে বিজেপির একটি প্রতিনিধিদল মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের সাথে সাক্ষাৎ করে । পরে কমিশনের কার্যালয়ের বাইরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন,’মুখ্য সচিব, ডিজিপিকে যে নির্দেশ দিচ্ছে কমিশন সেগুলো নিচের তলায় কার্যকর হচ্ছে না । মনোজ ভার্মা ডাইরেক্টর অফ সিকিউরিটি । তিনি জনগণকে কষ্ট দিয়ে এখনো সেই আগের মত মুখ্যমন্ত্রী বা তার দলের নেতাদের জন্য রাস্তা বন্ধ করে দিচ্ছেন । এই টেনটেড মনোজ ভার্মা গোটা রাজ্য ঘুরে ঘুরে হস্তক্ষেপ করছেন । তিনি এটা করতে পারেন না । যা কিছু করতে হবে মুখ্য সচিব এবং ডিজিপির মাধ্যমে ।’
তিনি বলেন,’বদলি হওয়া সত্ত্বেও জঙ্গিপুরের পুলিশ সুপার মেহেদী হাসান, পশ্চিম মেদিনীপুরের এসপি পলাশ ঢালী কি করে এসপি বাংলো আটকে রেখে সেখানে নির্বাচন কমিশনের পাঠানো এসপির কাজে হস্তক্ষেপ করছেন, এই প্রশ্ন আমরা রেখেছি ।’ তিনি আরও অভিযোগ করেন,’এসটিএফে বসে থাকা জাভেদ শামিম, আইবিতে বসে থাকা বিনিত গোয়েল কেন এখনো শমিক ভট্টাচার্য ও শুভেন্দু অধিকারী থেকে শুরু করে মন্ডল স্তরের বিজেপির কর্মীদের ফোন এবং লোকেশন ট্র্যাক করছে ? সেই অভিযোগ আমরা দিয়েছি । আমাদের কাছেও পালটা তথ্য প্রমাণ আছে। অবিলম্বে সিআইডি, এস টি এফ, আইবি এবং ডাইরেক্টর অফ সিকিউরিটিতে ইলেকশন কমিশনের হস্তক্ষেপ আমরা দাবি করেছি।’
প্রসঙ্গত,গতকাল দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনারে কাছে গিয়ে মমতা ব্যানার্জির বিরুদ্ধে জনসভায় উসকানিমূলক মন্তব্য করার অভিযোগ তুলেছিল বিজেপি । সেখানে কিরন রিজেজু ও পিযুষ গোয়েল, সুকান্ত মজুমদার,ওম পাঠকদের নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দল মমতার প্রচারে নিষেধাজ্ঞা জারির দাবি তোলে । একই দাবিতে আজ রাজ্য মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের কাছে দাবিপত্র পেশ করে বিজেপি ।
এই বিষয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন,’আজ এই বিষয়টি রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারীকের কাছে আমরা তুলে ধরেছি ৷ আমাদের প্রথম বক্তব্য ছিল মমতা ব্যানার্জির বিরুদ্ধে ইলেকশান কমিশনের এমসিসি-এর যে আইন আছে সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক । আমরা দুটো বক্তব্যের ক্লিপ এবং তার ভাষণের পেনড্রাইভ জমা দিয়েছি । একটাতে তিনি নিরাপত্তা বাহিনী এবং ভোট কর্মীদের দিকে মহিলাদের লেলিয়ে দেওয়ার কথা বলছেন । বলছেন মা-বোনেরা আপনারা হাতা-খুন্তি নিয়ে বেরিয়ে এসে এদের প্রতিরোধ করুন । এতো সরাসরি হিংসাতে এবং নির্বাচনের কাজে নিযুক্ত হাজার হাজার নিরাপত্তা রক্ষীকে আক্রমন করার মধ্য দিয়ে সমগ্র নির্বাচন ব্যবস্থার ওপরে উনি আক্রমণ করেছেন ।’
তিনি বলেন,’দ্বিতীয়তঃ বলেছেন বিজেপির কর্মীদের ৪ তারিখের পরে পোস্টার দিয়ে বলতে হবে যে আমি বিজেপি করি না । ২০২১ সালে ভোট পরবর্তী হিংসার নেতৃত্ব দেওয়া মমতা ব্যানার্জি তারা বিজেপির মত বিশ্বের সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক দল,যারা দেশ চালাচ্ছে, এই রাজ্যের একমাত্র বিরোধী দল, ২ কোটি ৩৩ লক্ষ মানুষের সমর্থন পাওয়া দল, সেই দলের কর্মীদেরকে সরাসরি খুনের হুমকি দিচ্ছেন এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে । মুখ্যমন্ত্রী কেয়ারটেকার হলেও এখনো মুখ্যমন্ত্রী আছেন । নির্বাচন বিধি চললেও তিনি এখনো মুখ্যমন্ত্রী । তার হাতে পুলিশ দপ্তর আছে । তাই কেন ব্যবস্থা নেওয়া হবে না ?’
শুভেন্দুর দাবি,’আমরা বিগত দিনে দেখেছি রাহুল সিনহা থেকে অভিজিৎ গাঙ্গুলী, সকলের বক্তব্য বিকৃত করে তৃণমূল অভিযোগ করলেই আপনারা কাউকে ৩ দিন, কাউকে দুদিন, কাউকে একদিন নির্বাচন প্রচারে নিষিদ্ধ করেন । মমতা ব্যানার্জিকে কেন আপনারা নিষিদ্ধ করবেন না,ব্যবস্থা নেবেন না ? তিনি কি আইনের ঊর্ধ্বে? এ প্রশ্ন আমরা মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়ালের কাছে রেখেছি এবং দাবি পত্র দিয়েছি ।’
তিনি বলেন,’দ্বিতীয়তঃ আমরা কয়েকটা বিন্দু বলেছি, এমসিসি চলাকালীন পাঁশকুড়ার বিজেপি প্রার্থী সিন্টু সেনাপতিকে সি আইডি ডাকে কি করে ? জেলে থাকাকালীন বিজেপি নেতা রাকেশ সিং এর বিরুদ্ধে হেয়ার স্ট্রিট থানায় ২৫ শে মার্চ মামলা হয় কি করে ? এই প্রশ্নগুলো আমরা রেখেছি । তার সাথে রাজ্য সভাপতি সল্টলেকের এমন 25-30 জনের নাম দিয়েছেন যাদের কোন অস্তিত্ব নেই । অথচ সাত নম্বর ফরম জমা দেওয়া সত্ত্বেও তারা ভোটার তালিকায় রয়ে গেছে। এই বিষয়ে প্রামাণ্য তথ্য একটি বিশেষ সম্প্রদায়ের আস্তানা থেকে নাম রাখা হয়েছে।’ শুভেন্দু অধিকারী জানেন যে ফর্ম ছয় নিয়ে তৃণমূল যে “মিথ্যাচার” করছে তার উত্তর আজ বিকালের শিশির বাজোরিয়া দেবেন ।।
Author : Eidin Desk.

