এইদিন আন্তর্জাতিক ডেস্ক,২৭ মার্চ : ইংল্যান্ডের ওয়ারউইকশায়ারে ১২ বছর বয়সী এক শিশুকে অপহরণ ও ধর্ষণের দায়ে এক আফগান আশ্রয়প্রার্থীকে ১৬ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে । সাজাপ্রাপ্ত আসামি হল ২৩ বছর বয়সী আহমদ মুলাখিল ৷ ভুক্তভোগী জানিয়েছেন যে গত গ্রীষ্মে তাকে ধর্ষণের সময় সে মারধর, অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ দেওয়ার পাশাপাশি হাসছিল । ধর্ষণ এবং দুটি যৌন নিপীড়নের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর তাকে সাজা দেওয়া হয়েছে।
ওয়ারউইক ক্রাউন কোর্টের জুরিরা তাকে শিশু অপহরণ এবং নুনেটনের একটি আবাসিক গলির কাছে ঘটা সেই ঘটনার সময় মেয়েটির একটি অশ্লীল ভিডিও ধারণ করার দায়েও দোষী সাব্যস্ত করেছেন।মেয়েটিকে ধর্ষণ করার মাত্র চার মাস আগে মুলাখিল একটি ছোট নৌকায় করে যুক্তরাজ্যে এসেছিল এবং এখন প্যারোলে মুক্তির যোগ্য হওয়ার আগে তাকে ১৫ বছর কারাগারে থাকতে হবে।
ওয়ারউইক ক্রাউন কোর্টে রায় ঘোষণার সময় বিচারক ক্রিস্টিনা মন্টগোমারি কেসি বলেন, মুলাখিলের অপরাধের কারণে ভুক্তভোগী এখনও মানসিক আঘাত ও স্বাস্থ্যগত সমস্যায় ভুগছে । তিনি বলেন : “ভুক্তভোগী তার ব্যক্তিগত পরিস্থিতির কারণে বিশেষভাবে অসহায় ছিল এবং সে গুরুতর ও চলমান মানসিক ক্ষতির শিকার হয়েছে ।”
ঘটনার দিন সন্ধ্যা ৬টার কিছুক্ষণ পরেই এই ঘটনা ঘটায় আহমদ মুলাখিল । পার্কে দোলনায় খেলার সময় আহমদ ও আরও এক আফগানি মোহাম্মদ কবির মেয়েটিকে অপহরণ করে । শুনানির সময় মুলাখিল কোনো আবেগ প্রকাশ করেননি এবং ব্যারিস্টার ও বিচারকের দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিল ; দেখে মনে হচ্ছিল সে কাঠগড়ায় বসে থাকা দোভাষীর কথা নিবিষ্টভাবে শুনছে ।
মুলাখিলের পক্ষে সওয়াল করে মার্কাস হ্যারি বলেন, অভিযুক্ত আফগানিস্তান থেকে পালিয়ে ২২ বছর বয়সে যুক্তরাজ্যে এসেছিল। তিনি সাজা ঘোষণার শুনানিতে বলেন: “১৮ বছর বয়স পর্যন্ত ১২ বছর স্কুলে কাটানোর পর তিনি ২২ বছর বয়সে আফগানিস্তান ত্যাগ করেন।”
সে বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি নিয়ে পড়াশোনা করার পরিকল্পনা করছিল, কিন্তু নানা কারণে সে ও তার পরিবার তালেবানের নজরে আসে এবং সেই কারণেই সে শেষ পর্যন্ত দেশ ছেড়ে পালিয়ে যায়।তার ভাইও একই কাজ করেছিলেন এবং শেষ পর্যন্ত অন্য একটি দেশে গিয়ে পৌঁছান। তিনি এই দেশে প্রবেশ করে রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা করেন এবং সেই আবেদনের নিষ্পত্তির অপেক্ষায় আছে ।
মুলাখিল পুলিশকে জানায়, তার বিশ্বাস ছিল মেয়েটির বয়স ১৯ বছর এবং মেয়েটিই তার সঙ্গে প্রথম যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেছিল। আফগানিস্তান থেকে আসা আর এক আশ্রয়প্রার্থী মোহাম্মদ কবিরের সঙ্গে তার বিচার হয়েছিল, যে ইচ্ছাকৃতভাবে শ্বাসরোধ, শিশু অপহরণের চেষ্টা এবং যৌন অপরাধ করার উদ্দেশ্যে অপরাধ সংঘটনের অভিযোগ থেকে খালাস পেয়েছিল । সাজা ঘোষণার সময় বিক্ষোভকারীরা ওয়ারউইক ক্রাউন কোর্টের বাইরে জড়ো হয়েছিল ।তারা সেন্ট জর্জ ও ইউনিয়ন পতাকা নাড়াচ্ছিল এবং “এই আগ্রাসন বন্ধ করুন – অভিবাসন বন্ধ করুন” লেখা ব্যানার প্রদর্শন করছিল।
তদন্তের নেতৃত্বদানকারী ডিটেকটিভ চিফ ইন্সপেক্টর কোলেট ও’কিফ বলেছেন: “মুলাখিল যখন একটি অল্পবয়সী মেয়ের ওপর এই ভয়াবহ হামলা চালায়, তখন সে কেবল সবচেয়ে গুরুতর অপরাধই করেনি, বরং আমাদের সমাজকে একত্রিত করে রাখা মৌলিক মূল্যবোধগুলোও লঙ্ঘন করেছে। আমি ভুক্তভোগীর অসাধারণ সাহসিকতার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে চাই। তাঁর বিবরণের ফলেই আমরা মুলাখিলকে বিচারের আওতায় আনার জন্য প্রয়োজনীয় প্রমাণ সংগ্রহ করতে পেরেছিলাম।” তিনি বলেন,”কোনো শাস্তিই তার সহ্য করা মানসিক আঘাত মুছে ফেলতে পারবে না, কিন্তু আমরা আশা করি আজকের দিনটি তার প্রাপ্য উজ্জ্বল, নিরাপদ ও সুখী ভবিষ্যতের দিকে যাত্রার সূচনা করবে।”।
