এইদিন ওয়েবডেস্ক,কলকাতা,২৭ মার্চ : নদীয়া জেলার রানাঘাট দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রে ভোটকর্মীদের প্রশিক্ষণ চলাকালীন প্রজেক্টর পর্দায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিজ্ঞাপন এবং দীঘা মন্দিরের ভিডিও প্রদর্শনের প্রতিবাদ করায় এক ভোট কর্মীকে হাঁসখালির বিডিও-এর সামনে মেরে রক্তাক্ত করার অভিযোগ উঠল এক ‘বহিরাগত’-এর বিরুদ্ধে । এই ঘটনায় রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন তুলে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিকে তীব্র ভাষায় নিশানা করেছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী । তিনি বলেছেন, “মমতা ব্যানার্জির শাসনাকালে আইনহীন রাজ্যে পরিণত হয়েছে, যেখানে প্রশাসন চালায় গুন্ডারা”৷
আসলে,আজ শুক্রবার রানাঘাট দেবনাথ হাইস্কুলে ভোটকর্মীদের প্রশিক্ষণ হওয়ার কথা ছিল । কিন্তু নির্দিষ্ট ঘরে ভোটকর্মীরা যেতেই দেখেন যে বড় স্ক্রীনে প্রজেক্টরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও দীঘা মন্দির সম্পর্কিত প্রচারমূলক চিত্রাবলি প্রদর্শন করা হচ্ছে । রাজ্যে নির্বাচনী আচরণবিধি (Model Code of Conduct) বলবৎ থাকা সত্ত্বেও এভাবে ভোট প্রচারের প্রতিবাদ করেছিলেন তারা৷ সেই সময় হাঁসখালির বিডিও-এর সামনেই সৈকত চট্টোপাধ্যায় নামের এক ভোটকর্মীকে নির্মমভাবে কিল-চড়-ঘুষি মারা হয় বলে অভিযোগ । মারধরে সৈকতবাবুর ডান দিকের ভ্রু কেটে রক্তপাত শুরু হয়৷ এই ঘটনায় স্থানীয় বিডিও-এর নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে । ইতিমধ্যেই রানাঘাটের বিজেপি সাংসদ জগন্নাথ সরকার হাঁসখালির বিডিও-কে বরখাস্ত করে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন ।
শুভেন্দু অধিকারী রক্তাক্ত ভোটকর্মীর ভিডিও এক্স-এ পোস্ট করে লিখেছেন,”ফের তাণ্ডব চালাল তৃণমূলের গুন্ডারা, এবার রানাঘাটে । নদিয়া জেলার রানাঘাটে অবস্থিত ‘রানাঘাট দেবনাথ ইনস্টিটিউশন ফর বয়েজ’-এ আয়োজিত একটি ভোটার প্রশিক্ষণ চলাকালীন, শ্রী সৈকত চট্টোপাধ্যায় নামের এক প্রাথমিক শিক্ষককে নৃশংসভাবে মারধর করা হয় এবং রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে রাখা হয়—শুধুমাত্র এই কারণে যে, তিনি প্রতিবাদে মুখ খোলার সাহস দেখিয়েছিলেন। তাঁর অপরাধ ছিল কেবল এটুকুই যে, ভোটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি সম্বলিত একটি বিজ্ঞাপন প্রদর্শনের বিষয়ে তিনি সঙ্গত কারণেই আপত্তি জানিয়েছিলেন।”
তিনি লিখেছেন,”রানাঘাট ১ ব্লকের বিডিও অফিসের কর্মীরা, যারা কার্যত তৃণমূলের পেশিশক্তি হিসেবেই আচরণ করছিল, তারা তাঁকে নির্মমভাবে প্রহার করে। এমনকি তারা তাঁকে এই হুমকিও দেয় যে, তিনি যদি কেন্দ্রের বাইরে পা রাখেন, তবে তাঁকে চরম পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে।”
শুভেন্দু বলেন,”এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এটি হলো তৃণমূলের সেই ‘সন্ত্রাসের সংস্কৃতি’, যেখানে একজন বিনম্র শিক্ষকও—যিনি নির্বাচন-সংক্রান্ত প্রশিক্ষণের সময় তাঁর গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করছিলেন এবং সাংবিধানিকভাবে নির্ধারিত কর্তব্য পালন করছিলেন—নির্মম প্রহার ও হুমকির শিকার হন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শাসনাধীনে, পশ্চিমবঙ্গ আজ এক আইনহীন রাজ্যে পরিণত হয়েছে, যেখানে প্রশাসন চালায় গুন্ডারা। শিক্ষক, চিকিৎসক কিংবা সাধারণ নাগরিক—শাসকদলের ঔদ্ধত্য ও স্বেচ্ছাচারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুললে কেউই আজ আর নিরাপদ নন।”
তার দাবি,”ভারতের নির্বাচন কমিশনকে অবশ্যই এই গুরুতর ঘটনার অবিলম্বে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে তদন্ত শুরু করতে হবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি, আক্রমণ, অপরাধমূলক ভীতিপ্রদর্শন এবং খুনের চেষ্টার মতো গুরুতর অভিযোগের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট ধারায় অপরাধীদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করতে হবে। নির্বাচন কমিশনকে অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে যেন দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।” পাশাপাশি তিনি কেন্দ্রীয় ও রাজ্য মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকদের ট্যাগ করেছেন৷।
