পারমিতা দত্ত,পূর্বস্থলী(পূর্ব বর্ধমান),২৬ মার্চ : হিন্দু অধ্যুষিত এলাকায় উসকানিমূলক দেওয়াল লিখন ঘিরে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়াল পূর্ব বর্ধমান জেলার পূর্বস্থলী ২ ব্লকের পারুলিয়া বাজার এলাকায় । জোড়াফুল প্রতীক আঁকা ওই দেওয়াল লিখনে বিজেপিকে ভোট দিতে নিষেধ করে হিন্দুদের সম্পর্কে অত্যন্ত আপত্তিকর শব্দ প্রয়োগ করা হয় । যা ঘিরে তীব্র উত্তেজনা ছড়ায় এলাকায় । বুধবার রাতে হাজার খানেক মানুষ জড়ো হয়ে ওই উসকানিমূলক দেওয়াল লিখন অবিলম্বে মুছে ফেলা ও দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানায় । যদিও রাতেই স্থানীয় বিডিও-এর নির্দেশে ওই বিতর্কিত দেওয়াল লিখন মুছে দেওয়া হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন,বুধবার দুপুরে কয়েকজন মিলে নির্বাচনী প্রচারের জন্য পূর্বস্থলী ২ ব্লকের পারুলিয়া বাজারে দেওয়াল লিখনে বের হয়েছিল । সন্ধ্যা নাগাদ স্থানীয়দের নজরে পড়ে পারুলিয়া কুলো কামিনী হাই স্কুলের কাছে একটি বড়সড় দেওয়াল জুড়ে একটি বিতর্কিত বয়ান লেখা হয়েছে । তৃণমূলের জোড়াফুল প্রতীক আঁকা ওই দেওয়াল লিখনে লেখা হয়েছে, ‘হিন্দু হিন্দু চেঁচায়, তিন বাটি করে #-মাংস খায়/ মুখোশধারী হিন্দু দরদী বিজেপিকে পরাস্ত করতে এই চিহ্নে ভোট দিন” । পাশে আঁকা তৃণমূলের প্রতীক জোড়াফুল । তবে এটুকু বয়ানেও একাধিক বানান ভুল ছিল । স্থানীয়রা জানান, পারুলিয়া বাজার এলাকার অন্তত তিন জায়গায় এমন উসকানিমূলক দেওয়াল লিখন লেখা হয়েছে ।
এদিকে ওই বিতর্কিত দেওয়াল লিখনের খবর চাওড় হতেই রাতে পারুলিয়া কুলো কামিনী হাই স্কুলের কাছে প্রচুর লোকজন জড়ো হয়ে যায় । তারা দেওয়াল লিখন অবিলম্বে মুছে দেওয়ার পাশাপাশি দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানায়৷ পাশাপাশি “হিন্দু হিন্দু ভাই ভাই” শ্লোগান তোলে জনতা । একজন বিক্ষোভকারী বলেন,’হিন্দুরা নাকি #-মাংস খায় বলে তৃণমূল দেওয়াল লিখন লিখেছে । এতে তারা হিন্দু ধর্মকে আক্রমণ করেছে ।’ তিনি বলেন,’এই পঞ্চায়েত এলাকাটা হিন্দু অধ্যুষিত । এমন জায়গায় এহেন ভাষায় আক্রমণ একটা নজিরবিহীন ঘটনা । আমাদের প্রশ্ন যে তৃণমূলের প্রার্থীও একজন হিন্দু, তাহলে উনিও #-মাংস খান তো?’ তিনি জানান,দুপুরের দিকে যখন এলাকা ফাঁকা ছিল তখন পারুলিয়া বাজার এলাকার অন্তত তিন জায়গায় এমন উসকানিমূলক দেওয়াল লিখন লেখা হয়েছে ।
এদিকে ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ছুটে আসে পূর্বস্থলী থানার পুলিশ ও আধা সামরিক বাহিনী। পরে বিডিও- এর নির্দেশ সাদা রঙ দিয়ে ওই বিতর্কিত দেওয়াল লিখন মুছে দেওয়া হয়৷ যদিও এনিয়ে থানায় আজ বেলা অব্দি সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ দায়ের হয়নি বলে জানা গেছে । এই বিষয়ে শাসকদলের তরফে এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি ।।

