এইদিন আন্তর্জাতিক ডেস্ক,২০ মার্চ : হরমুজ প্রণালী এবং পারস্য উপসাগরের অন্যান্য অংশ দিয়ে জীবাশ্ম জ্বালানি রপ্তানির ক্ষেত্রে ইরানের হুমকির ছায়া দূর করতে আরব উপদ্বীপের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মধ্যপ্রাচ্যের তেল ও গ্যাস ইসরায়েলি বন্দর দিয়ে পরিবহনের জন্য পাইপলাইন নির্মাণের প্রস্তাব দিলেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু । বৃহস্পতিবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এই প্রস্তাব দিয়েছেন । সেই সাথে তিনি আরও বলেছেন, “ইরানি শাসনের পতনের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে এবং খোমিনি বাহিনীর মধ্যে মৃত্যুর ভয় ঢুকে গেছে” ।
ইরানের সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্রে ইসরায়েলের হামলার জেরে ইসলামী প্রজাতন্ত্রটি ওই অঞ্চলের তেল স্থাপনাগুলোতে হামলা চালায়, যার ফলে বিশ্বজুড়ে তেলের দাম আবারও আকাশচুম্বী হয়ে যায়। দক্ষিণ পার্সে হামলার বিষয়ে জানতে চাইলে নেতানিয়াহু বলেন, ইসরায়েল একাই এই হামলা চালিয়েছে। তিনি আরও বলেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ভবিষ্যতে এ ধরনের হামলা না চালানোর জন্য আমাদের অনুরোধ করেছেন এবং আমরা তা করব না।” নেতানিয়াহু জোর দিয়ে বলেছেন যে হরমুজ প্রণালীতে যাওয়ার জন্য বিকল্প পথ খুঁজে বের করতে হবে। রয়টার্স জানিয়েছে যে, জ্বালানি রপ্তানির এই গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবন্ধকতাটি দীর্ঘমেয়াদে বন্ধ করে দেওয়ার ব্যাপারে ইসরায়েলের আগ্রহ রয়েছে বলে মনে হচ্ছে । ইরানের ওপর হামলার বিশতম দিনে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দাবি করেছেন যে, ইসলামী প্রজাতন্ত্রের পতনের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে।
তিনি এক সাংবাদিক সম্মেলনে বলেছেন যে, ইরানের নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণ কাঠামো সম্পূর্ণ বিশৃঙ্খল অবস্থায় রয়েছে। ইসলামী প্রজাতন্ত্রের ওপর মার্কিন ও ইসরায়েলি ভারী বিমান হামলাকে ইতিবাচকভাবে মূল্যায়ন করে নেতানিয়াহু বলেছেন: “ইরানি শাসনের পতনের অনেক লক্ষণ দেখা যাচ্ছে, অনেক লক্ষণ। আমি যদি সবগুলো প্রকাশ করতে পারতাম।” তিনি আরও বলেন: “আমি কি এখনই প্রতিশ্রুতি দিতে পারি যে শাসনব্যবস্থাটির পতন ঘটবে? আমি তা পারি না। কিন্তু আমি এটুকু বলতে পারি যে, আমরা এর পতনের জন্য পরিস্থিতি তৈরি করার চেষ্টা করছি। শাসনব্যবস্থাটি হয়তো টিকে যাবে, কিন্তু যদি টিকে থাকে, তবে তা হবে অনেক দুর্বল।”
প্রতিবেদন অনুসারে, ইসরায়েল চলতি সপ্তাহে ইসলামী প্রজাতন্ত্রের অন্তত তিনজন শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে নির্মূল করতে সক্ষম হয়েছে, যাদের মধ্যে রয়েছেন সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব আলী লারিজানি, গোয়েন্দা মন্ত্রী ইসমাইল খাতিব এবং বাসিজের কমান্ডার গোলামরেজা সোলেইমানি।যদিও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেছেন যে এই কর্মকর্তাদের হত্যাকাণ্ড মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলার প্রতিরোধকে প্রভাবিত করবে না এবং অন্যরা তাদের স্থলাভিষিক্ত হবে, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী মনে করেন যে, বিশেষ করে ইরানের প্রাক্তন নেতা আলী খামেনির পর, এই ব্যক্তিত্বদের কয়েকজনের রেখে যাওয়া শূন্যস্থান পূরণ করা কঠিন হবে।
নেতানিয়াহু বলেছেন,“আমি নিশ্চিত নই যে এই মুহূর্তে ইরানে কে শাসন করছে। আয়াতুল্লাহ খামেনি -এর উত্তরসূরি মোজতবা এখনও আবির্ভূত হননি। আপনি কি তাকে দেখেছেন? আমরা দেখিনি এবং সেখানে ঠিক কী ঘটছে তার নিশ্চয়তাও দিতে পারি না।” তিনি আরও বলেন, “আমি মনে করি, খামেনেইয়ের যে কর্তৃত্ব ও আধিপত্য ছিল, তা মোজতবা বা অন্য কারও কাছে হস্তান্তর করা হবে না। এটি শাসনব্যবস্থা ভাঙার প্রচেষ্টারই একটি অংশ, যা একদিনে ঘটবে না। ধ্বংসাত্মক অভিযানের পর এখন বিশ দিন হয়ে গেছে।”
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী দাবি করেছেন যে, ক্ষমতা দখলের জন্য ইরানি কর্মকর্তাদের মধ্যে ব্যাপক মতবিরোধ রয়েছে, তাদের অবস্থান ঐক্যবদ্ধ নয় এবং তারা পরস্পরবিরোধী নির্দেশ জারি করছেন।তিনি জোর দিয়ে বলেন: “আমরা কিছু বিশ্বাসঘাতকতা প্রত্যক্ষ করছি। ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরিচালনাকারী বিপ্লবী রক্ষীবাহিনীর ইউনিটগুলোর মধ্যে ভয় ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। কারণ তারা মৃত্যুকে ভয় পায়। তাদের বেশিরভাগেরই আত্মহত্যা করার কোনো উদ্দেশ্য নেই। তাই আমরা কিছু ফাটল দেখতে পাচ্ছি এবং এই অস্ত্রগুলো উৎপাদনের শিল্প সক্ষমতা ধ্বংস করতে আমরা তাদের ওপর আবারও আঘাত হানব।”
নেতানিয়াহু শেষ পর্যন্ত বিশেষজ্ঞদের এই সমালোচনা স্বীকার করেছেন যে, একটি সরকারকে উৎখাত করার জন্য বিমান হামলা যথেষ্ট নয়। তিনি বলেন, “এটা সত্যি যে শুধু আকাশপথেই বিপ্লব জয় করা যায় না। আকাশ থেকে অনেক কিছুই করা সম্ভব, কিন্তু এর পাশাপাশি ভূমিতেও একটি ভূমিকা থাকা প্রয়োজন।” তিনি সৃষ্ট পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে সরকারকে দুর্বল করার জন্য ইরানি জনগণের প্রতি আবারও আহ্বান জানিয়েছেন।।
