এইদিন স্পোর্টস নিউজ,১৯ মার্চ : প্রাণ বাঁচাতে দুবাই থেকে ছেলেকে নিয়ে ভারতে পালিয়ে এসেছেন ভারতের প্রাক্তন টেনিস খেলোয়াড় সানিয়া মির্জা । পাকিস্তানি ক্রিকেটার শোয়েব মালিকের স্ত্রী সানিয়া মির্জা দুবাইতে ২১০ কোটি টাকা মূল্যের একটি বাড়ি কিনেছেন এবং সেখানে তিনি তাঁর ছেলের সঙ্গে বসবাস করেন । কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি ইরান প্রায়ই দুবাইতে আত্মঘাতী ড্রোন ও মিশাইল হামলা চালাচ্ছে । সানিয়া জানিয়েছেন যে, তাঁর বাড়ির খুব কাছেই একটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র এসে পড়েছিল। সেখানকার এই উত্তপ্ত ও অনিশ্চিত পরিস্থিতির কারণে ছেলে ও নিজের প্রাণ বাঁচাতে ভারতে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
ইসরায়েল, আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়া আতঙ্ক নিয়ে সানিয়া মির্জাও উদ্বিগ্ন ছিলেন। তিনি বলেন, দুবাই তাঁর কাছে দ্বিতীয় বাড়ির মতো, কিন্তু সেখানকার পরিস্থিতি দেখে তিনি ঈদে ভারতে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।সানিয়া মির্জা গত সপ্তাহে তাঁর ছেলেকে নিয়ে হায়দ্রাবাদে ফেরার পর বর্ণনা করেছেন, কীভাবে ইরান সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিভিন্ন অংশে হামলা চালিয়েছে।
সানিয়া মির্জার ভাষ্যমতে, দুবাইতে তাঁর বাড়ির ওপর দিয়ে একটি যুদ্ধবিমান উড়ে যাওয়ার শব্দ শোনার পর তিনি তাঁর ছেলেকে নিয়ে ভারতে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেন।সানিয়া জানিয়েছেন, তিনি দুবাইতে নিরাপদে ছিলেন। কিন্তু লড়াইটা সহজে শেষ হওয়ার নয় বলে মনে হচ্ছিল, তিনি দ্বিধায় পড়ে যান এবং ঈদের আগেই হায়দ্রাবাদের বাড়িতে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেন।
৩৯ বছর বয়সী সানিয়া মির্জা বলেছেন, ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার কারণে সাম্প্রতিক ঘটনাবলিতে দুবাইয়ের পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। যদিও সংযুক্ত আরব আমিরাত মূলত নিরাপদ, তবুও কাছাকাছি বিভিন্ন কার্যকলাপ এবং আকাশসীমায় ঘটা ঘটনার খবর এক উদ্বেগের পরিবেশ তৈরি করেছে। এনডিটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই ঘটনার কথা জানান, যা তাকে দুবাই ছেড়ে ভারতে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছিল। তিনি বলেন,”আমরা আমাদের বাড়ির ওপর দিয়ে যুদ্ধবিমান উড়ে যাওয়ার শব্দ শুনেছি। আমরা ইন্টারসেপ্টরও দেখেছি। আমাদের বাড়ি থেকে প্রায় ৪০০-৫০০ মিটার দূরে ধ্বংসাবশেষ পড়ে ছিল। সত্যি বলতে, দুবাই আমার দ্বিতীয় বাড়ি। কিছু ঘটনা ঘটেছিল, এবং সেই সময় আমার মনে হয়েছিল ভারতে ফিরে যাওয়াই ভালো হবে। আমরা নিজেদেরকে অরক্ষিত মনে করিনি, কিন্তু পরিস্থিতিটা অনিশ্চিত মনে হচ্ছিল ।”
তার ভারতে ফিরে আসার সিদ্ধান্তের প্রধান কারণ ছিল এই যে, সেখানকার উত্তপ্ত পরিস্থিতি দেখে তার ছেলে এ বিষয়ে প্রশ্ন করতে শুরু করে। তিনি বলেন, এই ঘটনাই তাকে ভারতে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করে। সানিয়া বলেন,’আপনি নিশ্চয়ই চাইবেন না যে আপনার সন্তানের মনে এতসব চিন্তা ঘুরপাক খাক। ও প্রশ্ন করছিল। বিষয়টা অনিরাপদ মনে হয়নি, কিন্তু এতে অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। আগামী সপ্তাহে স্কুল শুরু হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করব। আমি হায়দ্রাবাদে চলে এসেছি। আমি খুশি যে আমার পৈতৃক বাড়িও এখানে আছে ।’।
