এইদিন ওয়েবডেস্ক,গয়া(বিহার),১৮ মার্চ : বিহারের গয়া জেলার ফতেহপুর ব্লকের গুরুপা থানা এলাকায় একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনার উন্মোচন হয়েছে । ঋণের ফাঁদে ফেলে ৩০ বছর ধরে ‘বন্ডেড লেবার’ হিসাবে ইঁটভাটায় কাজ করানো হচ্ছিল নারী-পুরুষ ও শিশুদের। গোপন সূত্রের খবরের ভিত্তিতে জেলা প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করে এবং সেখানে অভিযান চালায়। এই অভিযানটি জেলাশাসক (DM) শশাঙ্ক শুভঙ্করের নির্দেশনায় পরিচালিত হয়। বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনা করে একটি বিশেষ দল গঠন করা হয়েছিল। প্রশাসনের এই পদক্ষেপে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং স্থানীয় বাসিন্দারাও এই উদ্যোগের প্রতি তাঁদের সমর্থন জানান।
অভিযান চলাকালীন পূর্ণিবথান গ্রামে অবস্থিত একটি ইটভাটা থেকে ৬২ জন জবরদস্তি কাজ করানো শ্রমিককে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃতদের দলে নারী, পুরুষ এবং অল্পবয়সী শিশুরাও অন্তর্ভুক্ত ছিল।উদ্ধার হওয়া সকল শ্রমিককে নিরাপদে সেখান থেকে সরিয়ে আনা এবং তাঁদের বাড়ি ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। শ্রমিকদের যে অত্যন্ত শোচনীয় অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল, তা দেখে উদ্ধারকারী দলটি স্তম্ভিত হয়ে যায়। অনেক পরিবারকেই বছরের পর বছর ধরে সেখানে আটকে রাখা হয়েছিল। এই উদ্ধার অভিযানটিকে প্রশাসনের একটি বড় সাফল্য হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে।
তদন্তে জানা গেছে যে, এই ইটভাটায় প্রায় ৩০ বছর ধরে জবরদস্তি শ্রমের প্রথা বলবৎ ছিল। শ্রমিকদের জোরপূর্বক কাজ করতে বাধ্য করা হতো এবং ঋণের জালে জড়িয়ে তাঁদের কার্যত বন্দি করে রাখা হতো।তাঁদের ইটভাটার চত্বর ছেড়ে চলে যাওয়ার পূর্ণ স্বাধীনতাটুকুও দেওয়া হতো না। দীর্ঘদিনের এই শোষণ একাধিক প্রজন্মকে প্রভাবিত করেছে। প্রশাসন এই ঘটনাকে মানবাধিকারের গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করেছে। সমগ্র বিষয়টি নিয়ে বর্তমানে বিস্তারিত তদন্ত চলছে।
উদ্ধারকৃত শ্রমিকদের একজন, আশা মাঞ্জহি জানান যে, বছরের পর বছর ধরে তাঁদের জোরপূর্বক জবরদস্তি শ্রমে নিয়োজিত রাখা হয়েছিল। তিনি বলেন, প্রশাসনের হস্তক্ষেপে তাঁরা যেন নতুন করে জীবন ফিরে পেয়েছেন।মুক্তির পর শ্রমিকদের মধ্যে আনন্দ ও স্বস্তির এক আবহ দেখা যায় । অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এবং কান্নায় ভেঙে পড়েন। শ্রমিকরা জেলা প্রশাসনের প্রতি তাঁদের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন যে, এখন তাঁরা স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারবেন।
অভিযান চলাকালীন ইটভাটার মালিক বা পরিচালক রামআশিস যাদব ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। তবে, সেখানে কর্মরত ‘মুন্সি’ (হিসাবরক্ষক) দেবেন্দ্র যাদবকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।এই চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য সদস্যদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের উদ্দেশ্যে বর্তমানে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পলাতক ইটভাটা মালিককে গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালাচ্ছে। তদন্তে এই মামলায় অন্যান্য ব্যক্তিদের সম্ভাব্য সম্পৃক্ততার বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অন্যান্য অভিযুক্তদের বিরুদ্ধেও শীঘ্রই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ ।।
তথ্যসূত্র ও ছবি : দৈনিক জাগরণ ।
